নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জীহান রানা
  • নুর নবী দুলাল
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জয়বাংলা ১৯৭১
  • মোগ্গালানা মাইকেল

নতুন যাত্রী

  • বিদ্রোহী মুসাফির
  • টি রহমান বর্ণিল
  • আজহরুল ইসলাম
  • রইসউদ্দিন গায়েন
  • উৎসব
  • সাদমান ফেরদৌস
  • বিপ্লব দাস
  • আফিজের রহমান
  • হুসাইন মাহমুদ
  • অচিন-পাখী

আপনি এখানে

মেঘের জন্য রুপকথা!


এই গল্পটা সেই সময়ের, যখন চাঁদ দিনে উঠতো, সূর্য উঠতো রাতে। রাতে সূর্য থাকতো বলে মানুষ দিনেই ঘুমাতো আর রাতে কাজ করতো। আকাশে তখন অবশ্য একটা করে সূর্য আর চাঁদ ছিল না। দুটা করে চাঁদ আর সূর্য ছিল। একটা ছেলে এবং আরেকটা মেয়ে, এমন করে দুটা চাঁদ আর দুটা সূর্য।

ওই সময়টায় সাগর আর নদীতে নৌকা চলতো না। পানির উপর দিয়ে মানুষ এমনি এমনি হেটে যেতে পারতো। পানির উপর দিয়ে হাটতে হাটতে হয়রান হয়ে গেলে মানুষ তখন হাসিখুশি ডলফিন কিংবা পিচ্চি বাবু তিমিমাছের পীঠে করে ঘুরে বেড়াতো। সময় অসময়ে আকাশে মেঘ ভাইয়া এসে চকলেট বৃষ্টি শুরু করতেন। আর সেইসবের লোভে বুড়োবুড়ি বাবুরা ছোটাছুটি করতো। যারা যত ছোট, তাদেরই ছিল সবচেয়ে বেশি সম্মান, বয়সে সবচেয়ে ছোটদের কথাই তখন সবাই বেশি শুনতো।

তখন পিচ্চিবাবুরা হালুম দেবতার কাছে ইচ্ছা হলেই বলতো,

- “আমাদের একটা বুড়ো বাবু এনে দাও তো।”

হালুম দেবতা পিচ্চিবাবুদের কথা শুনে তাদের জন্য বুড়ো বাবু এনে দিতো। এরপর বুড়ো বাবুরা ধীরে ধীরে বয়স কমে পিচ্চি বাবু হয়ে যেতো। একদম নাদুসনুদুস পিচ্চি বাবু হয়ে গেলে তারাও আবার বুড়ো বাবুর দাবী করতো। ও আচ্ছা, বলাই তো হয়নি, হালুম দেবতা হচ্ছে এখনকার দিনের বাঘ আঙ্কেল, যার মত অনেকেই এখন সুন্দরবনে থাকে। ওই সময়ে বাঘ আঙ্কেলদের ছিল অনেক ক্ষমতা, যা ইচ্ছা তাই করে দিতে পারতো।

সেই সময়ে পৃথিবীতে একটা দেশ ছিল নিপ্পন নামে, আজকে যার নাম জাপান। যদিও ঐদেশের মানুষ পান খেতো না, তবুও তার নামের সাথে পান ছিল। কারণটা অবশ্য কেউ জানে না। যাইহোক, সেখানকার রাজার নাম ছিল ফুলরাজা আর রানীর নাম ছিল ময়ুরানী। তারা তখন কেবলমাত্র বুড়োবাবু থেকে বয়স কমে পিচ্চিবাবু হয়েছিল। আর হালুম দেবতার থেকে তাদের চেয়ে এনেছিল তাদের যে পিচ্চিবাবু বাবা-মা, তারাও রাজা রানী ছিলেন দেখে ওরাও রাজা রানী হয়েছিল তাদের পিচ্চিবাবু বাবা-মা আরও ইয়া পিচ্চিবাবু হয়ে একেবারে তারাদের দেশে চলে যাবার পর। অনেক পিচ্চিবাবু হতে হতে একসময় সবাই তারাদের দেশে চলে যায়।

হঠাৎ করে তাদের একদিন মনে হলো, আমরা তো পিচ্চি বাবু, কিন্তু আমরা অনেক সম্মানিত আর শক্তিশালী হয়েও বুড়ো বাবুদের কোলে নিতে পারি না, আদর করতে পারি না, চকলেট দেখে আমাদের এত আনন্দ হয় না, এসব কি ঠিক হচ্ছে? এসব ভাবতে ভাবতে ওদের মনে পড়লো সেইদিনগুলার কথা, যখন তারাও বুড়োবাবু ছিল। আকাশে মেঘ করলেই সব বুড়ো বাবুরা হই-হুল্লোড় করতে করতে বাইরে চলে আসতো। চকলেট এনে দেয় বলে সে সময় মেঘ ছিল পিচ্চিবাবু আর বুড়োবাবু, সবারই খুব পছন্দের। আর চকলেট, তার কথা তো না বললেই নয়, এখনও মনে পড়লে জিভে পানি চলে আসে। কী মজারই যে ছিল দিনগুলো!

যাইহোক, তারা ভাবলো, জীবনের শুরুতেই এত মজা না করে তারা হয়ে হারিয়ে যাবার আগে অনেক মজা করে সব হলে ক্ষতি ছিল না। ওরা হালুম দেবতার কাছে গিয়ে আবদার করে বললো,

- “আমাদের শরীর বুড়ো বাবুদের মত শক্তিশালী করে দাও, আর সব বুড়োবাবুকে আমাদের মতো পিচ্চি বাবুর মত, যাতে আমরা অন্নেক আদর করতে পারি ওদের কোলে নিয়ে।”

তখন হালুম দেবতা বললো,

- “না ফুলরাজা, না ময়ুরানী, এটা করলে সবকিছু পাল্টে যাবে। অনেক বুদ্ধি করে আমি এমনভাবে তোমাদের বানিয়েছিলাম, সবকিছু সাজিয়েছিলাম। এখন একটা বদলে দিতে গেলেই সব পাল্টে যাবে। আমি এসব করতে পারবো না।”

ফুলরাজা আর ময়ুরানী হাল ছাড়লো না, ওরা বুদ্ধি করে ওয়া ওয়া করে কান্নাকাটি শুরু করলো। এমন ওয়া ওয়া করে কান্নাকাটি ওই সময়ে বুড়োবাবুরা ছাড়া আর কেউ করতো না। আর সেই কান্না দেখে হালুম দেবতার মন নরম হয়ে গেল। গায়ে অনেক শক্তি থাকলেও হালুম দেবতা ছিলেন খুবই লক্ষী একটা হলুদ রঙের কালো কালো ডোরাকাটা ছাপওয়ালা বড় বিল্লী। হালুম দেবতা তাদের কান্না দেখে বললেন,

- “আচ্ছা যাও, আজ থেকে বুড়োবাবুরা পিচ্চিবাবুদের চাইবে আর পিচ্চিবাবুরা হয়ে যাবে শরীরের আকারে বুড়োবাবুদের মতন। পিচ্চিবাবুরাই এখন থেকে চকলেট খাবে,

বুড়োবাবুদের কোলে করে ঘুরবে। মানে আজকে থেকে সকল পিচ্চিবাবু মানে বুড়োবাবু আর সকল বুড়োবাবু হয়ে গেল পিচ্চিবাবু। তবে এই সিদ্ধান্ত কিন্তু আর বদলে দেয়া যাবে না।”

রাজা রানী বললেন,

- “আচ্ছা, না বদলালে না বদলাবে, আমরা তারপরেও বুড়োবাবুই হবো।”

এই শুনে হালুম দেবতাও বললেন,

- “তবে তাই হোক।”

বলবার সাথে সাথেই ফুলরাজা আর ময়ুরানী দেখলো যে তারা বুড়োবাবুদের মত হয়ে গেছে। আর নিজের মহলে ফিরে দেখলো কাউকে চেনা যাচ্ছে না। তারা আরও দেখলো যে, বদলে গিয়েও বুড়োবাবুগুলো সব ঝাল খাবার খাচ্ছে, পিচ্চিবাবুগুলো চকলেট খাচ্ছে। ওরা নিজেরাও দেখলো যে চকলেট খেতে আর আগের বুড়োবাবু থাকবার দিনগুলোর মত ভাল লাগছে না।

আসলে সবকিছুতেই গন্ডগোল লেগে গিয়েছিল। পিচ্চিবাবুরা বড়বাবু হয়ে যখন পানির উপরে হাটতে গেলো, তখন দেখলো যে পানিও তাদের উপর রাগ করেছে। ওরাও কান্না করতে করতে আরও অনেক নরম হয়ে গেছে, হাটতে গেলেই পানির ভেতরে ডুবে যাচ্ছে। আর পানির এই অবস্থা দেখে ডলফিন আর বাবু তিমিমাছগুলো গাল ফুলিয়ে বললো,

- “আমরা তোমাদের পীঠের উপর নিয়ে ঘুরাবো না!”

এদিকে আকাশে মেঘ করবার পর যখন চকলেট বৃষ্টি হলো, তখন কোনো বুড়োবাবু চকলেট কুড়াতে গেল না, পিচ্চিবাবুরা দৌড়ে গিয়ে চকলেট কুড়ানো শুরু করলো। মেঘ ভাইয়া এসব দেখে ভাবলো, এ কী কান্ডো, ওরা বুড়োবাবুদের চকলেট নিয়ে নিচ্ছে কেন? সেও বললো,

- “যাও, আমি আর চকলেটই দিব না!”

এভাবে সবকিছুতে গন্ডগোল লেগে গিয়েছিল। সূর্য আর চাঁদেরও এসব সহ্য হয়নি। ওরা বললো,

- “আমরাও উল্টে যাবো, ছেলে সূর্যটা বললো আমি রাতে আসবো না, দিনে আসবো।”

মেয়ে সূর্যটা বললো,

- “রাজা রানী যে অন্যায় করেছে আমি আর উঠবোই না, সবসময় ঘুমাবো।”

একই কথা বলে ছেলে চাঁদটা রাতে আসবে বললো, আর মেয়ে চাঁদটা বললো,

- “আমিও সূর্য আপুর মত ঘুমাবো।”

সেই থেকে আর দুটা সূর্য দুটা করে চাঁদ নেই, সূর্য দিনে আসছে আর চাঁদ রাতে।

এসব দেখে হালুম দেবতা বুঝতে পারলো অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। সে রাগে গজগজ করতে লাগলো আর এমন অবস্থা করবার জন্য মানুষ দেখলেই খেয়ে ফেলতে লাগলো। সেই থেকে হালুম দেবতা, মানে বাঘ মামাকে সবাই রাগী রাগী হিসেবে চেনে। অবশ্য রাগটা কমে এলে বাঘ আঙ্কেল অথবা হালুম দেবতা তার বউ আর বাচ্চাদের কাছে এসব গল্প করবার সময় অনেক কষ্ট পাচ্ছিলো। হালুম দেবতার বউ বাঘিনী আন্টি বললেন,

- “তুমিও যে এত কষ্ট পাচ্ছো এসব দেখলে তো সবাই হাসবে। এরচেয়ে বরং আমরা অন্য কোথাও চলে যাই যেখানে মানুষ অনেক কম। ওদের থেকে দূরে থাকাই ভালো, বলা যায় না আবার কখন কি বুদ্ধি দিয়ে সব ওলটপালট করে দেবে!”

হালুম দেবতা ওরফে বাঘ আঙ্কেল সেই কথা মেনে নিলেন। এরপর হালুম দেবতা বাঘিনী আন্টি আর পিচ্চিপিচ্চি হালুম বাবুসহ সুন্দরবনে বনবাসে চলে গেল। আর আমার গল্পটাও ফুরালো!

বিভাগ: 

Comments

আরণ্যক রাখাল এর ছবি
 

আর কিছুদিন পর সুন্দরবনে চুল্লি এলো, ধোয়া এলো। এলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। আর হালুম দেবতা হারিয়ে গিয়ে শুধু আপনার গল্পেই থেকে গেল!
যাক গে।
গল্পটা এনজয় করেছি খুব। ভাষার মারপ্যাঁচটা অসাধারণ ছিল।
খুব সুন্দর

তুমি প্রতিদিন ভাঙ্গার কথাই বলো
আমি ঈদানিং শান্ত নগরবাসী-
তুমি খুব করে সুতোটা ছিড়ে ফেলো
আমি ঘরকুনো, জানলা নিভিয়ে বসি।

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

সুন্দরবনে চুল্লি বসানো নিয়ে নো কমেন্ট স্ট্যান্সই নিরাপদ। এমনকি ঢাকা শহরে পারমানবিক চুল্লি বসলেও তা জনগণের ভালো ভবিষ্যতের জন্য জনদরদী সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ এমনটা ভেবে নেয়াই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গল Smile

এনিওয়ে, গল্প পড়বার এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ Smile

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর