নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজিব আহমেদ
  • নাগিব মাহফুজ খান
  • পৃথু স্যন্যাল
  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • মূর্খ চাষা

নতুন যাত্রী

  • গোলাম মাহিন দীপ
  • দ্য কানাবাবু
  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ
  • রাজদীপ চক্রবর্তী
  • নাজমুল-শ্রাবণ
  • চিন্ময় ভট্টাচার্য

আপনি এখানে

খৃষ্টধর্মের উৎপত্তি ১: যীশু কে ছিলেন? যীশুর অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক


ইহুদী ধর্ম হচ্ছে খৃষ্টধর্মের অগ্রদূত। খৃষ্টধর্ম ইব্রাহিমী একত্ববাদী ধর্মের একটা প্রশাখাই নয়, এর সূচণাও হয়েছিল ইহুদী ধর্মের কেন্দ্রস্থল ফিলিস্তিনে। খৃষ্টধর্মের জন্মকালে (১ম শতাব্দী) ফিলিস্তিন ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক ইহুদীর বাসভূমি এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে ইহুদীবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূণ্যভূমি।

ইসলাম ধর্মীয় উপাখ্যানে যীশুর জন্ম সংক্রান্ত নানান কেচ্ছা-কাহিনী প্রচলিত আছে। তবে খৃষ্টধর্মীয় উপাখ্যান অনুসারে যীশু জন্মেছিলেন ফিলিস্তিনে কুমারী মাতা মেরীর (মরিয়ম) গর্ভে, যিনি তখন যোসেফের (ইউসুফ) বাগদত্তা ছিলেন। যীশুর জন্মের পর ফিলিস্তিনের রোমান শাসক হেরোড নাকি ইহুদীদের নবজাতক শিশুদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও এর কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। সে কারণে মেরী ও যোসেফ বাচ্চা যীশুকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ মিশরে পালিয়ে যান এবং সেখানেই সে বড় হয়। হ্যারোডের মৃত্যুর পর যীশু বাবা-মার সাথে ফিলিস্তিনে ফিরে এসে হ্যারোড এ্যান্টিপাস শাসিত গ্যালিলির নাযারেথ শহরে বসবাস করে। মোটামুটি ৩০ বছর বয়সে তিনি ধর্ম প্রচারণা শুরু করেন এবং বছর তিন পর তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়।
যীশু প্রকৃতপক্ষে কে ছিলেন কিংবা এমন কেউ আদৌ ছিলেন কিনা, সে সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা রয়েছে। খৃষ্টধর্মের উৎপত্তি হৃদয়ঙ্গম করতে হলে এর সূচণাকালে ফিলিস্তিনের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও অনুধাবন করা অপরিহার্য। এ বিষয়গুলো এখানে সংক্ষেপে আলোচিত হবে।

যীশু কে ছিলেন?
যীশুর ঐতিহাসিকতা বিষয়ক সংশয়ঃ যুগযুগ ধরে অনেক বিখ্যাত গবেষক ও পণ্ডিত যীশুর ঐতিহাসিক অস্ত্বিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে এসেছেন। ব্যক্তি যীশুর ঐতিহাসিক অস্ত্বিত্ব তথা রক্তমাংসের মানবদেহে পৃথিবীতে ঈশ্বরের আবির্ভাব সম্পর্কে বিতর্ক শুরু হয় খৃষ্টধর্ম প্রতিষ্ঠার সূচণা যুগেই, যখন ‘ডকিটিক নস্টিক’ নামের এক খৃষ্টান গোষ্ঠী বিশ্বাস করতো যে, বস্তু হচ্ছে মন্দের প্রতীক যা ঈশ্বরের প্রকৃতি বিরুদ্ধ; ফলে রক্তমাংসের শরীর-রূপী যীশু তথা বস্তুরূপে ঈশ্বরের ধরাতলে আগমণ ছিল অসম্ভব। নস্টিক গোষ্ঠীর এই দাবীর জবাব দিতে বাধ্য হন প্রাথমিক যুগের খৃষ্টান পণ্ডিতগণ, যাদের মধ্যে রয়েছেন ‘গস্পেল’ (যীশুর বাণী) লেখক ও প্রচারক এ্যাপোসল জন। তিনি রক্তমাংসের শরীরে যীশুর আবির্ভাব তত্ত্বের বিরোধীদেরকে নিন্দা করতঃ খৃষ্ট-বিরোধী (এ্যান্টি-ক্রায়েস্ট) শয়তানের আত্মা আখ্যা দেনঃ

  • (১) “যীশু রক্তমাংস রূপে এসেছেন – এ তত্ত্বটি গ্রহণকারী প্রতিটি আত্মার উৎপত্তি স্বয়ং ঈশ্বরকে থেকে এবং তা প্রত্যাখ্যানকারী আত্মার উৎপত্তি ঈশ্বর থেকে নয়, তারা এ্যান্টি-ক্রায়েস্ট তথা শয়তানের প্রেতাত্মা মাত্র” (১ জন ৪:২-৩)।
  • (২) “অনেক প্রতারক, যারা রক্তমাংস রূপে যীশুর আগমণকে অস্বীকার করে, তারা বিপথগামী। এরূপ মানুষ প্রতারক ও এ্যান্টি-ক্রায়েস্ট ছাড়া কিছুই নয়।” (২ জন ৭)

খৃষ্টধর্মের জন্মের সূচণা যুগেই যীশুর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব সম্পর্কে উদ্ভূত এ সন্দেহ সচল থেকেছে আধুনিক কাল পর্যন্ত। আমেরিকার প্রতিষ্ঠা পিতা ও তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন ও দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মত বিদ্যান ব্যক্তিত্বও যীশুর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে গেছেন। অন্যদিকে গোড়া খৃষ্টানরা এরূপ সন্দেহকারীদেরকে নিন্দা করতঃ ‘শয়তানের আত্মা’ আখ্যা দিয়ে গেছেন। যীশুর অস্তিত্ব সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও বিতর্ক এখানে সংক্ষিপ্তাকারে উপস্থাপন করা হবে।
খৃষ্টধর্মের বয়স দুই হাজার বছর। অথচ আজও ‘যীশু কে ছিলেন’ প্রশ্নটি অনিশ্চয়তায় পূর্ণ। খৃষ্ট বাইবেল তথা নিউ টেস্টামেন্টে যীশুর নানান অলৌকিক কর্মকাণ্ড বর্ণিত হয়েছে – যেমন নানান দুরূহ রোগে আক্রান্তদের যীশুর অলৌকিকভাবে নিরাময়করণ, বারবার এক টুকরো রুটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে পেটভরে খাওয়ানো এবং তার জন্মকে ঘিরে অবিশ্বাস্য ও কিংবদন্তীরূপ ম্যাজাই কাহিনী ও অন্যান্য। এসব উদ্ভট কেচ্ছা-কাহিনী সহজেই যৌক্তিক ও বাস্তববাদী মনে যীশুর ঐতিহাসিকতার বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করে। বলা আবশ্যক যে, গস্পেল অনুসারে যীশুর দুনিয়াতে আগমণ ছিল শুধুই ইজরাইলবাসী বা ইহুদীদের ‘মেসিয়া’ বা ‘পরিত্রাণকারী’ হিসেবে, কিন্তু ইহুদীদেরকে তার ধর্ম সংস্কার মিশনে আকৃষ্ট করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন এবং শেষশেষ ইহুদীদের অভিযোগের ফলশ্রুতিতে সেকালীন রোমান শাসক তাকে শুলে চড়িয়ে হত্যা করে। কবর থেকে কথিত পুনরুত্থানের পর যীশু নাকি তার ১২জন নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীর সাথে গোপনে বৈঠক করেন এবং তাদেরকে ইহুদীদের বাদ দিয়ে পৌত্তলিকদের (জেন্টাইল) মাঝে খৃষ্টধর্ম প্রচারের নির্দেশ দিয়ে চিরতরে উধাও হয়ে যান। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টার জন্য কেবল মানব প্রজাতির ছোট্ট একটা গোষ্ঠীর জন্য এতটা দরদ দেখানো বা তাদেরকে রক্ষার জন্য ভুড়িভুড়ি অলৌকিক অনুদান-আশীর্বাদ সহ যীশুকে পাঠানো কতটা যৌক্তিক? একজন ন্যায়পরায়ণ ও সমতাবাদী ঈশ্বরের দরদ, করুণা ও আশীর্বাদ অবশ্যই সমগ্র প্রাণীজগতের প্রতি না হলেও অন্তত সমগ্র মানবজাতির জন্য সমানভাবে বরাদ্দ থাকবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ – যে ইহুদীদের জন্য এতটা দরদ দেখাতে, তাদেরকে রক্ষা করতে, ঈশ্বর স্বয়ং যীশু রূপে ধরনীতে এলেন, তখন পর্যন্ত পৃথিবীতে সে জাতিটির তেমন কোন অবদান ও অর্জন ছিল না। বরং মিশরীয়, ভারতীয়, গ্রিক এবং পারস্য জাতিগুলো পৃথিবীতে অনেক বেশী অবদান রেখেছিল এবং ইহুদীদের তুলনায় ঈশ্বরের দরদ ও আশীর্বাদের অনেক বেশী দাবীদার ছিল।
যীশু কে ছিলেন, সে বিষয়ে বাইবেলেও অনেক অস্পষ্ট, গোলমেলে, পরস্পরবিরোধী ধারনা বিদ্যমান। নিউ টেস্টামেন্ট দাবী করে যে, মা মেরীর গর্ভে যীশুর ভ্রুনায়ন হয়েছিল তথাকথিত ‘পবিত্র আত্মা’ (হোলি স্প্রিট) দ্বারা (ম্যাথিও ২:২০): “…তার (মেরীর) গর্ভে যা ধারিত, তা এসেছে হোলি স্প্রিট থেকে।”অথচ যীশুর পরিচয় সম্পর্কে বাইবেল ৩টি গোলমেলে দাবী উপস্থাপন করেছেঃ
(১) যীশু মানব পুত্রঃ নিউ টেস্টামেন্টে যীশুকে ৮বার ‘মানব পুত্র’ বা ‘পুরুষ মানুষের পুত্র’ (Son of Man) আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দেখুন ম্যাথিউ ১৬:২৭-২৮, ২৬:৬৪; মার্ক ২:১০,২৮, ৮:৩১, ৯:৯,৩১; লুক ৬:৫,২২; জন ১:৫১, ৩:১৩-১৪ ইত্যাদি বাণীগুলো।
(২) যীশু ঈশ্বর পুত্রঃ বাইবেলে যীশুকে ঈশ্বর পুত্র (Son of God) বলা হয়েছে অনেকবার। দেখুন ম্যাথিউ ৪:৩, ২৬:৬৩ ও ২৭:৪০,৪৩,৫৪; মার্ক ১:১ ও ৩:১১; লুক ১:৩৫ ও ৪:৩,৯; জন ১:৩৪,৪৯ এবং গ্যাল ২:২০ ইত্যাদি।
(৩) যীশু স্বয়ং ঈশ্বরঃ গসপেলে যীশুকে স্বয়ং ঈশ্বর হিসেবেও দাবী করা হয়েছে। যেমন জন ১:১ বলছেঃ “শুরুতে ছিল শব্দ এবং শব্দ ছিল ঈশ্বরের সাথে এবং শব্দই ছিল ঈশ্বর। শুরুতে তিনি (যীশু) ছিলেন ঈশ্বরের সাথে।” অর্থাৎ শুরুতে শব্দ ছিল ঈশ্বরের সাথে এবং শব্দই ঈশ্বর, এবং যীশু ছিলেন ঈশ্বরের সাথে। কাজেই যীশু-ই শব্দ এবং স্বয়ং ঈশ্বর। যীশুর ঈশ্বর স্বরূপ ধ্বণিত হয়েছে জন ১:১৪ আয়াতেও – “আমরা দেখেছি মাহাত্ম সেই জনের, শুধুই সেই জনের (the One and Only), যিনি (যীশু) পিতার কাছ থেকে সম্পূর্ণ মহিমা ও সত্য সহ এসেছেন।” ‘সেই জনের, শুধুই সেই জনের’ (the One and Only) বলতে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে এবং যীশু এসেছিলেন সর্বশক্তিমানের সকল মহিমা ও সত্য নিয়ে। কাজেই যীশু এবং ঈশ্বর এক ও অভিন্ন। আরেক ঘটনায় (জন ১৪:১০) ইহুদীদের সাথে তর্কাতর্কির মাঝে যীশু দাবী করেন তিনি ইহুদীদের পিতৃপুরুষ ইবাহিমকে দেখেছেন। এতে ইহুদীরা অবজ্ঞার সুরে বলে, “তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ হয় নি অথচ তুমি ইব্রাহিমকে দেখেছো!” প্রতিউত্তরে যীশুর দাবী, “ইব্রাহিমের জন্মের আগেই জন্মেছিলাম আমি”, যা আবারও যীশুর ঈশ্বরীয় প্রকৃতির দাবী প্রতিপন্ন করে। তবে যীশু যে স্বয়ং বিশ্বপিতা বা ঈশ্বর ছিলেন, তার সবচেয়ে জোরদার দাবী উত্থিত হয়েছে তার এ উক্তিতেঃ “তোমরা কি বিশ্বাস করো না যে আমিই পিতার মাঝে এবং আমার মাঝেই পিতা?” (জন ১৪:১০)। অর্থাৎ যীশু ও বিশ্বপিতার সত্ত্বা একে অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার। আরেক জায়গায় যীশু বলেন, “হে পবিত্র পিতা, তাদেরকে তোমার না"মে রক্ষা করো, যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছো, যাতে তারা এক হয়ে যায় যেভাবে আমি ও তুমি একই" (জন ১৭:১১)। এখানে আবারও দাবী করা হচ্ছে যে, ঈশ্বর ও যীশু একই সত্তা।
খৃষ্টানরা সার্বিকভাবে যীশুকে স্বয়ং ঈশ্বর হিসেবে গ্রহণ করেছে কিংবা ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে – যা বাইবেলের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ এক জায়গায় যীশু নিজেই তার পুনঃপুন ঈশ্বরত্বের দাবীকে অস্বীকার করেছেন (মার্ক ১০:৭-১৮):

যীশু পথে বের হলে এক লোক দৌঁড়ে গিয়ে তার চরণতলে পড়ে গিয়ে বলল, “হে মহান গুরু, চিরন্তন জীবন লাভের জন্য আমি কী করতে পারি?” জবাবে যীশু বলেন, “আমাকে কেন মহান বলছো? কেউই মহান নয়, শুধুই ঈশ্বর ছাড়া।”

যীশু এখানে সুস্পষ্ট বলছেন যে, তিনি ঈশ্বরের সমতুল্য নন।
খৃষ্টানরা যেহেতু যীশুকে ঈশ্বর পুত্র বা স্বয়ং ঈশ্বর বলে গ্রহণ করেছে, বাইবেলে ‘মানব পুত্র’ হিসেবে যীশুর পরিচয়টি তাদের জন্য এক মাথাব্যাথার কারণ। তারা নানান গোলমেলে ব্যাখ্যা দিয়েছে এ অসঙ্গতি সম্পর্কে। কেউ কেউ বলেছেন, ‘মানব পুত্র’ হিসেবে যীশুর পরিচয় শুধুই একটা ‘ত্রাণকর্তামূলক শিরোনাম’ মাত্র। অন্যদের মতে, মানব পুত্র ‘বিস্তৃত তাৎপর্য’ বহন করে। প্রখ্যাত লেখক ও ধর্মতত্ত্ব যাজক সংঘের প্রেসিডেন্ট ডঃ রন রোডস-এর মতে, মানব পুত্র শব্দদ্বয় যীশুর মানবত্বকে প্রতিপন্ন করে ‘তার ঈশ্বরত্ব’কে অস্বীকার না করেই। তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়েও যীশু ঈশ্বর হওয়া থেকে সরে যান নি। যীশুর (মানব) দেহধারন তার ঈশ্বরত্বকে অপসারণ করে নি, ঈশ্বরত্বে মানবীয়তা যোগ করেছে মাত্র।’[1]
বলা আবশ্যক, বাইবেল ইহুদী নবী এজিকিয়েল-কেও মানব পুত্র আখ্যা দিয়েছে ৯৩ বার। এজিকিয়েল যেহেতু শুধুই মানুষ ছিলেন, কাজেই মানব পুত্র শব্দদ্বয় সম্ভবত আসলেই যীশুর মানবীয়তার পরিচয় বহন করে। এটা লক্ষ্যনীয় যে, এজিকিয়েল ও যীশু উভয়কে ‘মানব পুত্র’ পরিচয়ে ভূষিত করে বাইবেল এর মাধ্যমে দু’টি খুবই ভিন্ন প্রকৃতির সত্তাকে তুলে ধরেছে।
বাইবেলীয় ঈশ্বর সম্পর্কে আরেক গোলমেলে ব্যাপার হচ্ছে, যীশুকে মানবীয় ও ঐশ্বরিক সত্তার এক শঙ্কর (হাইব্রিড) মনে হয়, কেননা ঐশ্বরিক আত্মার (হোলি স্প্রিট) দ্বারা মানবীয় মেরীর ভ্রুণায়নের মাধ্যমে যীশুর জন্ম হয়েছিল। সে ভিত্তিতে যীশুকে ‘ঈশ্বরের পুত্র’, অথবা ‘মেরীর পুত্র’ কিংবা ‘নারীর পুত্র’ বলা যায়, কিন্তু কোন যুক্তিতেই ‘Son of Man’ বা ‘পুরুষ মানুষের পুত্র’ বলা যায় না। বাইবেলের বর্ণনায় কোন পুরুষই যীশু জন্মদানে ও তার দৈহিক সংগঠনে আদৌও কোন অবদান রাখে নি।
সার্বিক বিচারে, যীশু এক অত্যন্ত গোলমেলে সত্তা। তিনি কে বা কি ছিলেন সে বিষয়ে নিজেই বিভ্রান্ত। একবার তিনি নিজেকে ‘মানব পুত্র’ বলে দাবী করছেন, আরেকবার ‘ঈশ্বর পুত্র’ হিসেবে, আরেক জায়গায় ‘স্বয়ং ঈশ্বর’ হিসেবে। চারিত্রিক গুণাবলীতেও তার মাঝে দু’টো চরম বিপরীতধর্মী প্রকৃতি ফুটে উঠে। কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি ধৈর্যশীলতা, ভব্যতা ও ক্ষমাশীলতার সর্বোচ্চ প্রতীক হয়ে উঠেন, অন্যত্র দেখান ধৈর্যহীন অশিষ্টতা (যেমন তার ক্ষুধার সময় ঝাউ গাছে ফল না থাকায় গাছটিকে অভিশাপ দান, ম্যাথিউ ২১:১৮-১৯), আক্রমণ প্রবণতা (যেমন মন্দির প্রাঙ্গনে ব্যবসায়ীদের মালামাল বেচাকেনার টেবিল-বেঞ্চ উপরে ফেলা এবং ব্যবসায়ীদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া, ম্যাথিউ ২১:১২-১৩), এবং গালাগাল প্রিয়তা (‘তোমরা সাপ! তোমরা বিষধর সর্পছানা’ (ম্যাথিউ ২৩:৩৩, ১২:৩৪)। এমন আচরণ বর্তমানে শিষ্টাচারী যে কোন মানুষের জন্যই অশোভনীয় বিবেচিত।
যীশুর ব্যক্তিত্ব ও সত্তাকে ঘিরে এসব বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে তাকে ‘অবাস্তব’ সত্তা হিসেবে প্রতিপন্ন করে।[2]
আমরা আরও তথ্যসাক্ষ্য দেখতে পাব, যা প্রমাণ করবে যে যীশুর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয়বাদীদের সন্দিহান অবস্থান আদৌও ভিত্তিহীন নয়, বরং শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে।

[বিঃদ্রঃ রচনাটি ইব্রাহিমী একত্ববাদী ধর্মের আবির্ভাবের রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে খৃষ্টপূর্ব ইহুদী জনগোষ্ঠীর প্রায় ২০০০ বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসুসন্ধ
ানের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং সে কারণে পাঠকের কাছে কিছুটা খাপছাড়া লাগতে পারে।]

---

[1]Ron Rhodes, If Jesus was the Son of God, why did He call Himself the Son of Man?: http://www.christiananswers.net/q-eden/son-of-man.html
[2] For more information on this issue, readers may look at Jim Walker, Did a historical Jesus exist?: http://www.nobeliefs.com/exist.htm

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আলমগীর হুসেন
আলমগীর হুসেন এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 3 weeks ago
Joined: শনিবার, আগস্ট 6, 2016 - 10:13পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর