নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজিব আহমেদ
  • নাগিব মাহফুজ খান
  • পৃথু স্যন্যাল
  • নুর নবী দুলাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • মূর্খ চাষা

নতুন যাত্রী

  • গোলাম মাহিন দীপ
  • দ্য কানাবাবু
  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ
  • রাজদীপ চক্রবর্তী
  • নাজমুল-শ্রাবণ
  • চিন্ময় ভট্টাচার্য

আপনি এখানে

বই উৎসবে মুলমানদের হামলা আর বাংলা একাডেমীর পরিচালকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা


সিলেটে বই উৎসবে হামলা চালিয়ে ভেঙেচুড়ে তছনছ করে দিয়েছে ইসলাম-ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তারা মসজিদ থেকে বেড়িয়ে এসে ইসলামের এই ইমানী দায়িত্ব কঠোর পরিশ্রম করে পালন করেছেন। আপনি ভাবছেন এটা বোধহয় আমাকে অবাক করেছে। মোটেও না। তবে বই মেলায় হামলাটা আমাকে চিন্তিত করেছে। এদেশের বই মেলা একদিন যাদুঘরে যাবে না তো? সিলেটের বই মেলায় হামলার জন্য অপদার্থ, মেরুদন্ডহীন বাংলা একাডেমীর পরিচালকরা এই নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেছে? না করেনি। বই মেলায় হামলা মানে যে পুরো একটা বাঙালীর ভাষা-আন্দোলনে অর্জিত অস্তিত্বের উপর হামলা করা, এই কথা আমাদের ইতর দায়িত্বজ্ঞানহীন বাংলা একাডেমীর পরিচালকরা বুঝেন না, বা তাদের ঘটে সেই কমনসেন্স টুকু নেই। বই মেলা কি? কোথায় থেকে, কোন প্রেক্ষাপট থেকে বাংলাদেশের বই মেলার জম্ম? কাঁদেরকে স্মরন করে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এই "অমর একুশে গ্রন্থমেলা"র আয়োজন করা হয়? কাঁদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে বাংলা একাডেমী একুশে বই মেলার আয়োজন করে?

দিনটি ছিল ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সাল। পাকিস্তানি শাসকরা এই পুর্ব বঙ্গের (তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তান) শতভাগ বাংলা ভাষাভাষীর মানুষের উপর যখন রাষ্টভাষা উর্দু জোর পুর্বক চাপিয়ে দিচ্ছিল, তখন কিছু তরুন এই নোংরা বৈষম্য নীতিকে মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা ২১ই ফেব্রুয়ারির সকাল বেলা পাকিস্তানী রাষ্টের কঠোর দমন নীতি, ১৪৪ ধারা জারিকৃত আইনকে ভঙ্গ করে রাষ্টভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করে। আবার ঐদিকে বঙ্গবন্ধু রাষ্টভাষা বাংলার দাবিতে জেলে বসে অংশন শুরু করে। তারই তীব্র প্রতিবাদ ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুন ছাত্রদের মধ্যে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতরা....। মিছিল বেশি দুর আগাতে পারেনি। পাকিস্তানীর বর্বর শাসকগোষ্ঠী মিছিলের উপর এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষন করে! মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পাকিস্তানী বুলেটের আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার.... পরদিন ২২ই ফেব্রুয়ারি আব্দুল গাবফার চৌধুরী লেখেন,-"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?" চট্টগ্রামের কবি মাহাবুব আলম রাষ্ট্রের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে লেখেন, -"কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দঁড়ি নিয়ে এসেছি!"

যে বাংলাদেশের "বাংলা একাডেমী" প্রতিষ্টানটি (বই মেলার আয়োজক) সৃষ্টি হয়েছে একদল তরুন প্রতিবাদী শহীদদের কেন্দ্র করে। যাঁরা ভাষার জন্য, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কি নিদারুন অকৃতজ্ঞ বাংলা একাডেমীর পরিচালকরা! সিলেটে বই মেলায় মুসল্লিরা হামলা চালিয়ে বই মেলা ভেঙ্গে দিয়েছে, অথচ এসব অপদার্থ আত্নমর্যদাহীন ইতরগুলো চুপ! বছর দুয়েক আগে মুসলমানদের অনুভুতি রক্ষা করতে গিয়ে এই বাংলা একাডেমী মেলা থেকে রোদেলা প্রকাশনীকে (নবী মুহম্মদের ২৩ বছর বইটি প্রকাশ করায়) নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। "ইসলাম বিতর্ক" বই প্রকাশ করায় ব-দ্বীপ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলা একাডেমী। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ব-দ্বীপের প্রকাশক শামশুজ্জেহা মানিককে ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে দেয়। এর প্রতিবাদ করায় এই বছর বাংলা একাডেমীর পরিচালক শ্রাবন প্রকাশককে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। শালার কুকুরেরও দারুন কৃতজ্ঞতা বোধ আছে, অথচ এসব মানুষরুপী ইতরদের কোন কৃতজ্ঞতাবোধ নেই!

যে বই মেলাকে প্রাণের মেলা বলা হয়, যে বই মেলা ভাষা আন্দোলনের মুল স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই বই মেলায় যদি মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী লেখক-প্রকাশকদের বই-স্টল নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি ঠিক কতোখানি শ্রদ্ধা থাকলো বাংলা একাডেমীর? আর বুদ্ধিবেশ্যারাও দেখি দারুনভাবে চুপ! ইসলামিস্টরা হামলা করে একটা বই মেলা পণ্ড করে দিল, অথচ এরা নিশ্চিন্তে নিদ্রা যাচ্ছে!
যারা ঠোটের কোনে হাসি ঝুলিয়ে হাত বাড়িয়ে "স্বাধীনতার পদক" পুরস্কার নেয়, তারাও দেখছি আত্নমর্যদা জলাঞ্জলি দিয়ে চুপ করে আছে। কয়েক লক্ষ টাকার স্বাধীনতা পদক তাদেরকে রাষ্টচালকদের গোলাম ভাঁড়ার বানিয়ে দিল! ১৯৫২ সালে রাষ্টের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বাররা.... নিজেদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্টভাষা করার স্বিকৃতি আদায় করেছিল। আর এখন বাংলা একাডেমীর পরিচালকরা রাষ্টচালকের কথা শোনার জন্য তাদেরর পায়ের কাছে ভৃত্যের মতো বসে থাকে।
শুনো হে বাংলা একাডেমীর সুবিধাবদী নিকৃষ্ট পরিচালকগন, মনে রেখো তোমরা ভাষা শহীদদের বুকের উপর চেয়ার নিয়ে বসে আছো!

-বই লিখব ভাবছি। বই প্রকাশ করব ভাবছি। কিন্তু বই যে প্রকাশ করব সেই অস্তিত্ব কোথায় আজ? যে মৃত্তিকায় মানুষ মানুষের সাম্যের বীজ বুনবো, অধিকারের কথা বলবো, অন্ধকারকে সরিয়ে আলো আনবো, সেই উর্বর পলিও তো নীল চাষের থাবায় আজ আক্রান্ত। বই মেলার পরিচালকরা আজ মধ্য যুগীয় বর্বর ইসলামি চেতনায় আক্রান্ত। তবে আমাদের চুপ করে থাকলে হবে না। সালাম, রফিক, বরকতদের মতো আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে বাংলা একাডেমীর অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। কারণ বই মেলাটা ওদের বাপের নয়, বই মেলাটা আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার মুক্ত একটা আকাশ। যেভাবেই হোক এই নিকষ কালো অন্ধকারযুক্ত দানবীয় মেঘকে সরিয়ে স্বাধীন বিস্তৃত নীলাকাশকে আমাদের মুক্ত করতে হবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অপ্রিয় কথা
অপ্রিয় কথা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 16 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 24, 2016 - 2:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর