নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দীপ্ত সুন্দ অসুর
  • কান্ডারী হুশিয়ার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • আলমগীর কবির
  • গোলাম সারওয়ার

নতুন যাত্রী

  • সুক্ন্ত মিত্র
  • কাজী আহসান
  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ

আপনি এখানে

বাংলাদেশে কোন দাঙ্গার ইতিহাস নেই তবু আমাদের 'লজ্জ্বা' ব্যান করতে হয়!


১৯৯২ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সার্ক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ভারত ও বাংলাদেশ ম্যাচ চলাকালে শত শত তৌহদী জনতা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে ম্যাচ পন্ড করে দেয়। (ঘটনার সত্যতা জানতে দেখুন https://en.wikipedia.org/wiki/1992%E2%80%9393_SAARC_Quadrangular)। ঘটনাটি ঘটে ভারতের পরিত্যাক্ত বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তখন ফেইসবুক ছিল না, তাই নয়ন চ্যাটার্জি-পিনাকী ভট্টাচার্যির ভূমিকা পালনের দায়িত্ব ছিল দৈনিক ইনকিলাবের। ইনকিলাব কাল্পনিক নিউজ ছেপে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার উশকানি দিচ্ছিল সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতে। ৯২ থেকে ৯৩ পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে প্রায় ২৮ হাজার হিন্দু মন্দির ও বসতবাড়ি ভাঙ্গা হয়েছিল। সে-সময়কার পত্রিকাগুলোতে সে ইতিহাস খুঁজে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে কোন লেখক, বুদ্ধিজীবী আজতক এই বিষয়ে দুই লাইন লেখেননি। কোলকাতার লেখকদের হাতে অবমূল্যায় ও হেনস্থার জেদ তাদেরকে কখন যে সাম্প্রদায়িক করে তুলেছে তারা নিজেরাই বোধহয় সেটা জানেন না। এক ভদ্রলোক আমার একটা পোস্টে কমেন্টস করেছেন ভারতে দাঙ্গা হয়, মুসলমানদের গরুর মাংস খেতে দেখলে মারধর করে আর বাংলাদেশে সবাই নাকি কি সুন্দর ভাই ভাই হয়ে থাকে… ইত্যাদি ইত্যাদি…।

বাংলাদেশে কোন দাঙ্গার ইতিহাস নেই। যেটা ভারতে আছে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ভারত থেকে এক্ষেত্রে দাঙ্গার কলংকমুক্ত। দাঙ্গা হয় দুই দলের মধ্যে যারা একে অপরকে আক্রমন চালায়। বাংলাদেশে এ কারণে কোন দাঙ্গার ঘটনা নেই। এদেশে একতফা সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরুরা হামলা চালায়। ১৯৪৭ সাল ও ৬৫ সালকে বাদ দিয়েও ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শুরুর দিকে যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের সবাই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। পাকিস্তানী মেলেটারি হিন্দুদের পাকিস্তানের অংশ মনে করত না। যুদ্ধের প্রথম তিন মাস কেবল তাদের উপর দিয়েই ইতিহাসের ঘৃণ্য বর্বরতা চালানো হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়গুলোতেও দেখা যায় রাজাকার আল বদরদের হিন্দু নারীদের উপর টার্গেট করে নির্যাতনের সংখ্যা বেশি। দেশ স্বাধীন হবার পর অত্যন্ত নির্মম সত্য হলো পাকিস্তান সরকারের করা শত্রু সম্পত্তি আইনটি বাতিল না করে তাকে নাম পরিবর্তন করে রেখে দেয়া হয়। এই আইনটি স্বাধীনতার পরবর্তী সময় হিন্দুদের এদেশ থেকে ভিটাবাটি ত্যাগ করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত বলছেন এই কুখ্যাত আইনটি দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠরা হিন্দুদের ১.৬৪ মিলিয়ন একর জমি দখল করে নিয়েছে। এই যে কর্মকান্ডগুলো সবই ঘটেছে নিরবে নিভৃতিতে। ভারতে গরুর মাংস খেতে বাধা দিলে ভারতের গণমাধ্যম যে পরিমাণ কভারেজ দেয়, ভারতের সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীরা, বামপন্থি বুদ্ধিজীবীরা যেভাবে প্রতিবাদ করেন তাতে এ ধরণের ঘৃণ্য কাজ খুব বেশি দূর যেতে পারে না। প্রকাশ্যে গরুর মাংস খেয়ে প্রতিবাদ করার সাহস যে দেশের বুদ্ধিজীবী সেলিব্রেটিদের থাকে সে দেশকে চাইলেই কেউ প্রতিক্রিয়াশীতার পথে নিতে পারবে না।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রতিনিধি বুদ্ধিজীবী, শিল্পী মায় সেলিব্রিটিদের চোখ বন্ধ করে রাখা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসিরনগর হামলার সময় সেলিব্রেটিরা ব্যস্ত ছিলেন বিপিএল ক্রিকেট নিয়ে। সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন কোলকাতা ভ্রমণ করে সেখানে আনন্দবাজারের সঙ্গে বলেছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি চমৎকার…। সংখ্যাগুরুর প্রতিনিধি হিসেবে উনি এটা বলতেই পারেন। তবে একজন লেখক চিরকাল নিপীড়িতের পক্ষে থাকেন, তাদের অস্ফুট কথাগুলো যা তারা ভয়ে ও শংকায় বলতে পারে না সেটাই লেখকরা লেখায় ফুটিয়ে তুলেন। বাংলাদেশের কথাসাহিত্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের কথা কখনই বলেনি। তসলিমা নাসরিন ৯২ সালের বাবরী মসজিদ পেক্ষাপটে ‘লজ্জ্বা’ লিখে বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিকদের বিব্রত করেছিলেন। তাদের ব্যর্থতা ‘লজ্জ্বা’ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। সেসময় ঢাকার উপন্যাসিক গুন্ডারা লজ্জ্বাকে বাড়াবাড়ি বলে অবহিত করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী পূর্ণিমা ধর্ষণ ঘটনা লজ্জ্বা উপন্যাস কতখানি সত্য সেটাই প্রকাশ্য করেছিল। এদেশে ফেলানী নিয়ে বই বের হয়েছে। কিন্তু পূর্ণিমার নামও এখন কেউ উচ্চারণ করে না। এসব ভুলে যেতে হয়। বলতে হবে বাংলাদেশে হিন্দুরা খুব ভাল আছে। ভারতেই মুসলমানরা অত্যাচারিত তারা গরুর মাংস খেতে পারে না। আবুল বরাকাতের গবেষণা বলছে ‘১৯৭১-২০১৩ অবধি ৪২ বছরে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমে তাদের আগের সংখ্যার এক-চতুর্থাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ২৮% ভাগ থেকে ৮% শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে’। ভারতে এত মুসলিম নির্যাতন ঘটে কিন্তু সেখান থেকে একজন মুসলমানও পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় না!

সেই কবে মান্ধাত্তার আমলের একটা বাবরী মুসজিদ ভাঙ্গার কাহিনী শুনতে হয় এদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ণের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে। আর এদেশে সারা বছর ধরে মন্দির ভাঙ্গা হয়। এমন মাস নেই যেখানে ৫-১০টা মন্দির ভাঙ্গা হয় না। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে এবং ২০১৪ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে যে হামলাগুলো চলে তাতে ছিল রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ। কোন ঘটনারই আজতক বিচার হয়নি। রামু, মালোপাড়ার কোন বিচার হয়নি। নাসিরনগর ঘটনায় ভিকটিমদেরকেই অভিযুক্ত করে ছক কষা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সংবিধানে বিসমিল্লাহ। এক সময় যারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরোধীতা করে আদালতে গিযেছিলেন তাদের একজন বদরুদ্ধি উমার সম্প্রতি এই রিটের সঙ্গে উনার সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করেছেন। এই বাম ভদ্রলোক একই সময়কালে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনকে অস্বীকার করে হিন্দুদের হাতে মুসলমান নির্যাতনের দাবী করেন। বাংলাদেশের পড়ালেখা করা পন্ডিত জ্ঞানীদের তুলনায় বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ঋষিকাপুড় চিন্তার দিক দিয়ে যে কতখানি মুক্ত আর অসাম্প্রদায়িক তা বার বার তার প্রতিবাদ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাদের দুর্ভগ্য এদেশে তরুণদের কাছে আদর্শ হওয়ার মত একজনও জীবিত নায়ক নেই। জাকির নায়েকের মত কুতর্কি অজ্ঞতায় ডুবন্ত একটা পেশাদার লেকচারার সেই শুন্যস্থান দখল করে নিয়েছে।

Comments

আরণ্যক রাখাল এর ছবি
 

এদেশে যেমন ভাল সাহিত্যিক নেই, তেমন নেই প্রতিবাদ করার মানুষও। এদেশের সেলিব্রেটিরা সবসময় গা বাঁচিয়ে চলতেই অভ্যস্ত

তুমি প্রতিদিন ভাঙ্গার কথাই বলো
আমি ঈদানিং শান্ত নগরবাসী-
তুমি খুব করে সুতোটা ছিড়ে ফেলো
আমি ঘরকুনো, জানলা নিভিয়ে বসি।

 
অর্পিতা রায়চৌধুরী এর ছবি
 

এদেশে আদর্শ হওয়ার মতো মানুষেরা কখনই টিকতে পারেনা। আর এখনতো এতো এতো সুশীল, সেলেব্রিটি, রাজনীতিবিদের ভিড়ে কোথাও এতোটুকু আশা জাগানোর মতো কাওকে দেখতে পাইনা। দেশ আর মানুষগুলোর জন্য কষ্ট হয়।

 
 

আমাদের গিয়েছে যে দিন, সে দিন কি একেবারেই গেছে!!

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুষুপ্ত পাঠক
সুষুপ্ত পাঠক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 17 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 21, 2013 - 3:33অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর