নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌমেন গুহ
  • আগুনখোর আঁতেল
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আরমান অর্ক
  • সুবিনয় মুস্তফী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সুমিত রায়
  • মিশু মিলন
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

কেমন কাটলো বাংলা ব্লগ এবং ব্লগারদের ২০১৬ সালঃ কিছু পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনা


আমার স্মৃতিশক্তি খারাপ। আবার ব্লগ পোস্ট বা ফেসবুক পোস্ট লিখতে গেলে সাধারণত স্মৃতিশক্তির উপর নির্ভর করি প্রাসঙ্গিক তথ্যের ব্যাপারে। ভুলভাল থেকে যায় সে কারণে। আর আগে থেকেও এতশত ভেবে লিখি না, যা মাথায় আসে লিখে যাই।

আমার দৃষ্টিতে ২০১৬ সালটাই বাংলা ব্লগগুলোর জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়, ক্রান্তিকাল পার করছে এই বছরে। যদিও এই বছর ব্লগার নাজিমুদ্দীন ছাড়া আর কাউকে হত্যা করা হয়েছে নাকি মনে পড়ছে না। হত্যার ফ্রিকোয়েন্সী হয়তো কমে গেছে কিন্তু সামগ্রিক রিস্ক ফ্যাক্টর বেড়ে গেছে বহুগুণ। প্রতিপক্ষ হিসেবে ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই নেই কেবল, সরকারও দাঁড়িয়ে গেছে। নানা ব্লগের উপর নজরদারী এবং নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কোন ধরণের গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ঠিক না। এমনকি জামাতি ব্লগ সোনার বাংলাও চলুক। যে যার যুক্তি মত তাদের মত প্রকাশ করুক। সোনার বাংলা ব্লগ চালু থাকলে সেখানের পোস্টে ধররে অবিশ্বাসীরা মন্তব্যে তাদের যুক্তির কথা বলবে, অসঙ্গতি দেখাবে কিংবা এখানে কঠোরভাবে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। ভাবনাচিন্তার ধারা তো এভাবেই উন্নত হয়। ফেসবুকও তো ব্লগের মতই। সেটাকেও নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে এসবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ হাস্যকর এবং কার্যকরী করাও সম্ভব না। অনেক অনেক সাইট, অনেক সার্ভিস ফিল্টার এবং মনিটর করতে গেলে দেশে ইন্টারনেটের গতিও হয়ে যাবে ধীর।

২০১৬ তে মেইনষ্টিম ব্লগীয় সাইটগুলোর চেয়ে ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইলগুলো এগিয়ে ছিল হয়তো। লাইকের সংখ্যা, কমেন্টের সংখ্যা দেখে আমার তাই মনে হয়েছে। পাঠকসংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে ছিল ইস্টিশন। প্রতিটা পোস্টের গড় পাঠক এখানে অনেক বেশি। যদিও প্রতিদিন পোস্টের সংখ্যা বেশ কমই বলা যায়। সামহোয়্যার ইন ব্লগের অবস্থা এই বছর আরও শোচনীয় হয়েছে। সচেতনতামুলক, যুক্তি নির্ভর কিংবা তথ্যবহুল লেখার পরিবর্তে কবিতার সংখ্যা কিংবা দুই চার লাইনের পোস্টের সংখ্যাই ছিল অনেক বেশি। পাঠকও গত বছর বা এর আগের বছরগুলোর চেয়ে বহুগুণে কম। এর পেছনে একটা কারণ পুরোনো ব্লগারদের নানা কারণে সে ব্লগ ছেড়ে যাওয়া এবং ভালো পোস্টগুলোকে সেভাবে উৎসাহিত না করা। ইস্টিশন যেমন প্রায় প্রতিটা পোস্টকেই ফেসবুক পেজে শেয়ার করে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্লগে না থাকলেও পাঠকের কাছে পৌছে যায়। মানুষ ব্লগে না থাকলেও ফেসবুকে থাকেই। আর পোস্টগুলো পৌছে দেয়া যখন ফেসবুকের মাধ্যমে আরও সহজ, সেটার সুযোগ না নেয়া বোকামী। ইস্টিশন সেটা করছে, সামু করছে না কেন তাদের কর্তারাই জানেন। মুক্তমনা কিংবা সচলায়তন ক্লোজড সার্কেলের মত ছিল, চলবেও সেভাবে। তবে যারা নিজেদের মুক্তমনা বলেন এবং বিশেষ করে নাস্তিক, তাদের জন্য মুক্তমনা বেশ ভালো একটা রেফারেন্স পয়েন্ট। যদিও আমি মনে করি মুক্তমনা বলে কিছু নেই, সব মিডিয়ার সৃষ্টি। মানুষের চিন্তা কিছু না কিছু দিয়ে অবশ্যই প্রভাবিত। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন সমাজে, পরিবেশে কিংবা কতটা আর্থিক সংগতির মধ্যে থাকছে, এমন অনেককিছুই ভাবনায় প্রভাব ফেলে। প্রভাব ফেলে পারিবারিক পরিবেশ, বিশেষ অভিজ্ঞতা কিংবা অন্য অনেককিছুই।

মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এ বছর সাধারণ মানুষের মতই ব্লগের জন্যও ভালো যায়নি। ইস্টিশন তো ব্লকে আছেই, সামুও ছিল অনেকটা সময় অঘোষিতভাবে। কতটা তুলে নেয়া হয়েছে জানি না। ইস্টিশন এক্ষেত্রে ভুগেছে বেশি। তবে সামুর মত আপসকামীতার ভাব দেখা যায়নি। সামুতে সরকারবিরোধী কিংবা আওয়ামী বিরোধী পোস্টকে হাইলাইট করা হয়নি যৌক্তিক হলেও কিংবা সরিয়েও দেয়া হয়। যেমন ১৫-ই আগস্টে যদি কেউ বাকশালের যৌক্তিক সমালোচনাও করে, সেটা সামুতে প্রথম পাতা থাকবার সম্ভাবনা কম ছিল বলেই মনে হয়, আড়ালে কোন কারণ আছে নাকি জানি না। তারপরেও বাংলাদেশের বাংলা ব্লগসমূহের যে বিশেষ ধারা, তার সূচনার জন্য সামুর অতীত অবদান অস্বীকার করবার কিছু নেই। সেখান থেকেই সমাজের একটা সচেতন অংশের আলাদাভাবে আবির্ভাবের সুচনা হয়। ইদানিংকার আপসকামীতা বা সতর্ক অবস্থানের পরিবর্তন হবে সেটাই কামনা করি। এ ক্ষেত্রে ইস্টিশন অনেকটা ধর্মবিরোধী, পাকিস্তানের যেকনো বিষয় বিরোধী হলেও ব্লগ হলেও জামাতী, পাকপ্রেমীদের পোস্টও জ্বলজ্বল করতে দেখেছি। এরপর নীতিমালা পড়লাম ইস্টিশনের, দেখলাম সেই পোস্টগুলোর অনেককিছুই নীতিমালার সাথে যায়না। তবুও সরানো হয়নি। আমি এটাকে সহনশীলতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছি। যদিও হাজারবার পঠিত এক স্বাধীনতা বিরোধী পোস্ট দেখে মেজাজ চরম খারাপ হচ্ছিল। তবুও সেসব থাকা দরকার, পোস্ট কেউ পড়লে সাথে মন্তব্যের দিকেও চোখ যায়। আশা করি পাঠকেরা সেসব থেকেও জানবে, সত্যকে বুঝতে মন্তব্যও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ব্লগের ক্ষেত্রে কোন ধরণের নীতিমালা কার্যকর অথবা মেইনটেইন করা কতটূকু সম্ভব সেটাও ভেবে দেখবার বিষয়। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যাপার মডারেটরদের কমনসেন্স এবং নিরপেক্ষতা। ব্লগাররা হবে হাজার মত, নানা ধর্মবিশ্বাস, নানা আদর্শের। তাদের মত কিংবা দৃষ্টিভঙ্গিকে কমন কাঠামোয় ফেলবার সুযোগ নেই।

দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এখন কোমড় ভাঙ্গা অবস্থা। এক্ষেত্রে নানা ইস্যুতে রাস্তায় নামাও সাহসের কাজ। কিন্তু অসঙ্গতি দেখলে প্রতিবাদ তো থেমে থাকে না। সুন্দরবন, শিক্ষায় ভ্যাট সহ নানা ইস্যুতে ব্লগগুলো রেখেছে প্রতিবাদী ভূমিকা। ফেসবুকেরও ছিল বিশাল অবদান। সরকারও সামাজিক নানা যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখছে এবং সম্ভবত জনপ্রিয়তা হারাতে চায় না। তাই অনেক দাবী মেনেও নিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য। আজকেও শ্রাবণ প্রকাশনীর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো। সামান্য হলেও এসব সম্ভব হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে, ব্লগ যার অন্যতম।

ভাবনার উপর যখন খড়গ নেমে আসে, তখনও ভাবনাগুলো থেমে থাকে না। আর স্বাধীন ভাবনাচিন্তাগুলোকে ধরে রাখছে ব্লগগুলো। বিশেষ করে ইস্টিশন ব্লগের ভূমিকা অগ্যগণ্য। কারণ, কোনো ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে সব মতের সকল মানুষের কথা একমাত্র ইস্টিশনই তুলে ধরছে বলে মনে করি। অন্য ব্লগগুলো সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা পড়ছি না। তবে বাকস্বাধীনতার এই স্বর্ণালী সময়ে অন্যব্লগগুলোর সতর্ক অবস্থানকেও অপরাধ মনে করছি না। টিকে থাকুক যেকোনোভাবে। সমাজ, জাতি এবং দেশের জন্য তাদের টিকে থাকাও জরুরী।

যাইহোক, ২০১৭ সম্ভবত আরও কঠিন হবে। বিএনপি জোট নিস্প্রভ। সরকারের ওইদিকে নজর দেয়ার খুব একটা দরকার হবেনা হয়তো। সেক্ষেত্রে ব্লগ আর সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার মানুষগুলোকে আরও নজরদারীতে আনা হতে পারে। আর তথ্যপ্রযুক্তি আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মত মোক্ষম অস্ত্রগুলো তো আছেই ব্যবহার করবার জন্য। আশা করছি তারপরেও ব্লগগুলো টিকে থাকবে। ব্লগগুলো সবার কথা তুলে ধরবে, মতবিনিময়ের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হবে। ভয় পেয়ে কোনো ধরনের সাময়িক এড়িয়ে যাওয়া নীতি গ্রহণ করবে না যা দেশের অন্যতম প্রধাণ ব্লগকে করতে দেখেছি।

সচেতন, বিবেকবান এবং নিরপেক্ষ ব্লগারদের জয় হোক, মঙ্গল হোক সাধারণ মানুষের।

সবাইকে ইংরাজী নববর্ষ ২০১৭-এর অগ্রীম শুভেচ্ছা।

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

ভালো লাগলো আপনার বিশ্লেষন ও মূল্যাায়ন।

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

ধন্যবাদ আপনাকে Smile

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 
দেজা ভু এর ছবি
 

সত্যাচার

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

ধন্যবাদ ভাই Smile

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 
অর্পিতা রায়চৌধুরী এর ছবি
 

অসাধারণ লিখেছেন। কিন্তু আপনার লেখায় একটা তথ্যগত ভুল আছে। নাজিমুদ্দিন সামাদ ব্লগার বা কোন ব্লগের সাথে যুক্ত ছিলেননা। উনি মূলত অনলাইন এক্টিভিস্ট ছিলেন।

 
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
 

অজ্ঞতা স্বীকার করছি। তবে ফেসবুক কিংবা এমন অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লেখালেখিকেও মাইক্রো ব্লগিং বলা যায় হয়তো। ব্লগারের সংজ্ঞা হিসেবে কেবল বাংলাদেশী স্টাইলের ব্লগিং সাইটে লেখালেখি করাটাকেই কেবল মানতে রাজী না। ফেসবুক প্রোফাইলও তো ব্যক্তিগত ব্লগ পেজের মতই। প্রথাগত বগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের লক্ষ্য এবং বৈশিষ্ট্য তো একইরকম প্রায়।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ Smile

মরতে মরতে ভুল হয়ে যাবে, শেষ নিঃশ্বাসে রয়ে যাবে পাপ। আমি তো নাদান, আমি যে বান্দা খারাপ...

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Online
Last seen: 36 min 49 sec ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর