নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জংশন
  • বেহুলার ভেলা
  • রুদ্র মাহমুদ
  • রিক্ত রিপন
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মাইনুদ্দীন স্বাধীন
  • বিপু পাল
  • মৌন
  • ইকবাল কবির
  • সানসাইন ১৯৭১
  • রসরাজ
  • বসন্ত পলাশ
  • মারুফ মোহাম্মদ বদরুল
  • রাজীব গান্ধী
  • রুবেল মজুমদার

আপনি এখানে

নিষিদ্ধ শ্রাবণ: নিকষ আঁধার যুগের শেষ সংকেত!


কাল দুপুরে ফেসবুকে অলস চোখ বুলাচ্ছি। হঠাৎ রবিন আহসানের স্ট্যাটাস চোখে পড়লো। আগামি দুই বছরের জন্য একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলা একাডেমির বইমেলা সংক্রান্ত কমিটি। রীতিমত বজ্রপাতের মত একটা খবর। যদিও এই দেশে বজ্রপাত এত বেশি হয় যে, জনগনের ঘাড়ে দীর্ঘদিন কোন বজ্র পতিত না হলেই, আমাদেরই কেমন আইঢাই লাগতে থাকে!

যাই হোক, শ্রাবণ প্রকাশনীর দোষটা কী? দোষ হইলো, একাডেমির সমালোচনা তো রবিন ভাই নিয়মিতই করেন, এখন তিনি একটি টক শো’তে সরাসরি বাংলা একাডেমির নানা কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। এখন রবিন ভাই তো আমার দেখা সেইসব অবুঝ অশান্ত তরুণদের একজন, যারা এই বঙ্গদেশে খাড়ার ঘা আসবে জেনেও বারবার প্রশ্ন তুলেই যাচ্ছে তুলেই যাচ্ছে। এই হীরক রাজার দেশে, প্রশ্ন তোলাই যেখানে বিরাট অপরাধ, সেখানে কিছু মানুষ শুধু প্রশ্নই তোলে না;যুক্তি, মুক্তবুদ্ধি আর সুস্থ চিন্তা দিয়ে রাষ্ট্রের, প্রতিষ্ঠানের, ব্যাক্তিস্বার্থের অনৈতিকতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করার কাজটা ক্লান্তিহীন করেই যায়। তারা লড়াই করে, শুধু নিজের জন্য না, মানুষের জন্য।

তো রবিন আহসানকে বরাবর দেখছি সেই কাজটাই করছেন। কাউকে ভয় পেতে হবে, কারো তোষামোদ করতে হবে, কাউকে হাতে রাখতে হবে, বা কাউকে পটাতে হবে- এরকম কোন চিন্তা মাথায়ই নাই তার। যদি থাকতো, তবে কাল বইমেলার স্টল বরাদ্দের ফর্ম নিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হত না তাকে। আজ এই লড়াইয়ের মাঠে নামতেও হত না। বইমেলায় দিব্যি একটা যুতসই জায়গায় স্টল বরাদ্দ পেয়ে যেতেন ফটাফট। তো সে তো হবার নয়। সত্য কথা, সত্য লড়াই জ্বালা ধরায় সেইসব ক্ষমতাবানের পশ্চাৎদেশে যারা চাটুকারিতা আর মোসাহেবিকে রীতিমত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্তরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

গত বছর যখন ব-দ্বীপ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করা হল, স্টল বন্ধ করে দেয়া হল, লেখক প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিককে হাতকড়া পরিয়ে কোর্টে তোলা হল, আমরা কিছু চুনোপুটি মানুষ তার প্রতিবাদ করেছিলাম। কোন স্বাধীন মত, নতুন চিন্তা প্রসারের পথটি ক্ষমতাবান তার শক্তি প্রয়োগ করে বন্ধ করে দিতে পারে না। মানুষ নিজের বিবেচনা ও সুস্থ বিচার বুদ্ধি দিয়ে ভালোমন্দ বেছে নেবে। এই বেছে নেবার সুযোগ, বিবেক প্রয়োগ ও চিন্তার স্বাধীনতাই মুক্তবুদ্ধির চর্চার মূল কথা। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, আমাদের মত কিছু ক্ষুতাতিক্ষুদ্র লোক ছাড়া এই নিয়ে কেউ কোন টু শব্দটি করলেন না। কোন লেখক বুদ্ধিজীবী কবিকে, এমন কি কোন প্রকাশককে দেখলাম না, দুইটা কথা বলে প্রতিবাদটা অন্তত জানাতে। উল্টো মুহম্মদ জাফর ইকবাল মানিকের প্রকাশনা থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ বইটি নিয়ে কড়া কড়া আরো দুই কথা বলে দিলেন। সরকার্ খুশি। জাফর ইকবাল সায় দিয়েছেন। আর কি চাই। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকার এই প্রক্রিয়ায় আমরা হতবুদ্ধি। হেফাজতকে সন্তষ্ট করার এই নোংরা চেষ্টা আমাদের স্তম্ভিত করলো। সেই নিয়ে আমরা গলা ফাটিয়েই চললাম। আর এই রবিন আহসান। শাহবাগের মোড়ে প্রতিবাদী ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে পড়লেন সমমনা সহযাত্রীদেন সাথে নিয়ে। বরাবরের মতই। আজ জানলাম, এই দাঁড়িয়ে পড়া, এই প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, এই সমালোচনা, এই চিহ্নিত করে দেয়াই রবিন আহসানের অপরাধ আর সেই অপরাধের কোপ পড়েছে তার পুস্তক প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণের উপর।

শ্রাবণ, জাগৃতি, সময়, অনন্যা, ঐতিহ্য -এরকম কিছু প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণ ছাড়া বইমেলাকে আমরা কোনদিন কল্পনা করতে পারিনা। নতুন পুরানো প্রতিটি বই প্রকাশকের অধিকার আছে বইমেলায় অংশ নেবার। এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির কোন এখতিয়ার নেই কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার। রবিন আহসান নন, শ্রাবণ বা ব-দ্বীপ নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে অন্যায় ও অনধিকার চর্চা করে আসছে বাংলা একাডেমি নিজেই। কারণ বইমেলা আয়োজনের এখতিয়ারও এই একাডেমির নাই। কাউকে নিষিদ্ধ করা তো আরো পরের কথা। অথচ সদম্ভে শিয়াল কবে নিজ ঘোষণায় বনের রাজা বনে গেছে। সেদিকে আমরা কেউ লক্ষ্যও রাখি নাই। কেন রাখি নাই? বইমেলা তো হওয়ার কথা সব প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে। এখানে বাংলা একাডেমি মোড়ল সেজে বসার সুযোগ কীভাবে পেল? কেন পেল? বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রসারের কাজ বাদ দিয়ে কে কোথায় কোন টক শোতে কড়া কথা বললো আর কতটুকু ঘি কম ঢাললো এই যদি হয় বাংলা একাডেমির মূল কাজ- তাহলে সেই একাডেমির কাছ থেকে বাংলা ভাষার আর কোন অগ্রগতি আশা করা, বেকুবি ছাড়া আর কিছু নয়। অথচ আমরা দিনের পর দিন সেই একাডেমিকেই বাংলা ভাষা আর সাহিত্যের রক্ষাকর্তা, ত্রাণকর্তা বানিয়ে চোখ মুদে আছি।

একটা দেশে প্রতি বছর একুশে বইমেলায় যদি এভাবে কোন প্রকাশনা সংস্থাকে নিত্যনতুন অযুহাতে হেনস্তা করা হয়, যন্ত্রণা দেয়া হয় তবে সেই দেশে প্রকাশনা শিল্প আসলে কোন বেদনার বালুচরে দাঁড়িয়ে আছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর এই দেশই বোধহয় সেই আজব দেশ, যে দেশে বইমেলা প্রাঙ্গণ রক্তাত্ত হয় লেখকের রক্তে বারবার, কিন্তু বছরের পর বছর এর কোন বিচার হয় না! এর চেয়ে অন্ধকার কোন যুগ এদেশের জন্য আসবে বলে ধারণা করতে পারি না। কিংবা হতে পারে, এটি নিকষ কালো আঁধারে ডুবে যাবার শেষ অশনি সংকেত।

এরপরও আমরা কবে জেগে উঠবো, কবে আমরা আড়মোড়া ভেঙ্গে বুঝে নেব আমাদের অধিকার, কবে আমরা জোর গলায় বলতে পারবো, ‘চুপ করো’ বললেই চুপ করিয়ে রাখা যায় না! যদি আমাদের পূর্বপুরুষ হয়ে থাকেন ৫২’র সেই মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসী তরুন তরুনীরা, একুশের চেতনাই যদি হয় আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি, যদি শহীদ মিনার হয় আমাদের প্রাণের বেদি, তবে সেই শহীদের প্রাঙ্গনে এই লোভ, মিথ্যাচার, অসুস্থতার চর্চা আর মেনে নেয়া যায় না। জানি না, কবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখবো একসাথে, কবে ডাক দেবো প্রতিরোধের, কবে আমরা মানুষ হব!

মন্তব্যসমূহ

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

একটা প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনীকে বইমেলা থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পরও দেশের লেখক-প্রকাশকদের চুপ করে থাকা দেখে অবাক হচ্ছি। বিগত দুই বছর যাবৎ বাংলা একাডেমীর অনাধিকার চর্চায় চুপ থেকে এসব লেখক-প্রকাশক একাডেমীর স্বেচ্ছাচারিতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বাংলা একাডেমীর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনী ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার দায়িত্ব লেখক প্রকাশকদের। তা না করে তারা মুখে আঠা সেটে বসে আছে। এসব মেরুদন্ডহীন লেখক প্রকাশকদের লেখালিখি ও বই প্রকাশ ছেড়ে দিয়ে শেখ হাসিনার ভৃত্যের চাকুরী নেওয়া উচিত।

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

একমত

শারমিন শামস্

 
শেহজাদ আমান এর ছবি
 

শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধের ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাকর ঘটনা। এতে প্রমাণিত হয় বর্তমানের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার শুধু নামে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে, কিন্তু কাজে কর্মে পুরো সাম্প্রদায়িক। ভাবতে অবাক লাগে যে শামসুজ্জোহা মানিকের মতো একজন বর্ষীয়ান লেখক ও প্রকাশককে এই জালিম সরকার এখনো কারাগারে আটকে রেখেছে; এসব কাজ মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই।

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

Facebook comments

বোর্ডিং কার্ড

শারমিন শামস্
শারমিন শামস্ এর ছবি
Offline
Last seen: 20 ঘন্টা 14 min ago
Joined: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 13, 2016 - 7:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর