নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বিজ্ঞানের দর্শন


পর্ব-বিজ্ঞান

শিরোনামে দুটি টার্ম আছে; একটি হচ্ছে বিজ্ঞান, অপরটি হচ্ছে দর্শন। তাই, প্রথমে এ’দুটো টার্ম (বিজ্ঞান ও দর্শন) সম্পর্কে একটু পরিষ্কার ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। এই পর্বে, আমি বিজ্ঞান কী ; অর্থাৎ বিজ্ঞান বলতে যা বোঝায়, তা আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

বিজ্ঞান কী
প্রথমে একটি প্রশ্ন করা যাক, ‘বিজ্ঞান কী’? বিজ্ঞান কী কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান, কোনো বস্তু, নাকি, অন্য কোনকিছু? উদাহরণস্বরূপ, আইনস্টাইন একজন বিজ্ঞানী ছিলেন; তাহলে কী বলা যায়, আইন্সটাইন মানেই বিজ্ঞান? উনার সব ধারণা, চিন্তা, কথা, লেখা, তত্ত্ব, ইত্যাদি সবই বিজ্ঞান? সহজভাবে বলা যায়, তার মানে কি এই যে, আইন্সটাইন যা বলবেন, লিখবেন বা করবেন তাই বিজ্ঞান, বাকি কোনো কিছু বিজ্ঞান নয়; আইন্সটাইন-ই হচ্ছেন বিজ্ঞানের অধিকারী? এখন, আইনস্টাইনকে রেখে আমরা প্রতিষ্ঠানের দিকে দৃষ্টিপাত করি; The Royal Society হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বৈজ্ঞানিক একাডেমি, নিউটনসহ অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী এই একাডেমির সদস্য ছিলেন এবং এখনো অনেক নামকরা বিজ্ঞানী এই একাডেমির সদস্য; তাহলে কি বলা যায়, এই একাডেমি যা বলবে বা প্রকাশ করবে তাই বিজ্ঞান, আর বাকি সবকিছু অবিজ্ঞান? এমনটি কি বলা যাবে যে, কোনোকিছু বিজ্ঞান হবে কিনা তা এই প্রতিষ্ঠান-ই সিদ্ধান্ত নেবে? আইনস্টাইন ও রয়েল সোসাইটি-কে বাদ দিয়ে আমরা এখন প্রশ্ন করি, বিজ্ঞান কি কোন বস্তু/ যন্ত্র? প্লেন আকাশপথে উড়ে বিজ্ঞানের নিয়মাবলীকে অনুসরণ করে; তাহলে কি বলা যায়, এই যন্ত্র বা বস্তুটি হচ্ছে বিজ্ঞান, পৃথিবীর সব বস্তু বা যন্ত্র-ই হচ্ছে বিজ্ঞান, আর অন্য সবকিছু বিজ্ঞান-বহির্ভূত? এই সবগুলো প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে ‘না’; আইনস্টাইন, রয়েল সোসাইটি, প্লেন – কোনোকিছুই বিজ্ঞান নয়; বিজ্ঞান কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বস্তু হতে পারে না। বিজ্ঞানের কোনো স্রষ্টা নেই, নেই কোনো জন্মদাতাও। বিজ্ঞান কারো গোলাম নয় যে সে তার মালিকের মর্জিমাফিক চলবে, সে চাকরও নয় যে কারো আদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হবে, সে আদর্শ সন্তানও নয় যে জন্মদাতার কথা শুনবে; বিজ্ঞান হচ্ছে বিশেষ জ্ঞান (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, ২০১১: ৮৭০) বা বিশেষভাবে জানা। ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি আসলে (বি+ জ্ঞান); যেখানে ‘বি’ একটি উপসর্গ, যা ‘বিশেষরূপ’ অর্থে ব্যবহৃত হয় (মামুদ, ২০১১: ২৫৩)। এখন, তাহলে আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়, এই ‘বিশেষ জ্ঞান’ আসলে কী? আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে ‘ইলেকট্রন’ সম্পর্কে জানতে পারি, ইন্টারনেট থেকে জানতে পারি ‘মহাকাশ’ সম্পর্কে, সংবাদপত্র থেকে জানতে পারি ‘পরিবেশ’ সম্পর্কে; আমার এই জানা-ই তো আসলে জ্ঞান, কারণ জ্ঞান মানেই তো জানা [আমি এখানে ‘জ্ঞান’ শব্দটির সাধারণ অর্থ ব্যবহার করেছি; এই শব্দটি ব্যুৎপত্তিগতভাবে, বৈজ্ঞানিকভাবে ও দার্শনিকভাবে ভিন্ন অর্থ বহন করে (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, ২০১১: ৪৮২; খান, ২০১৫: ১১; করিম, ২০১২: ২৫৩-২৫৪)], তাহলে আমার এই জানা-ই কি আসলে ‘বিজ্ঞান’? উত্তর হচ্ছে – না; আমরা অনেক মাধ্যমে বা অনেক প্রক্রিয়া থেকে বিভিন্নভাবে অনেককিছু জানতে পারি, কিন্তু তা বিজ্ঞান নয়। বিজ্ঞান বলতে বোঝায় বিশেষ বা নির্দিষ্ট পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমে আহরণকৃত জ্ঞানকে; আর এই বিশেষ পদ্ধতিসমূহকেই বলা হয় Methodology। পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপের ভিত্তিতে জীবন ও জগতের কোনো বিশেষ দিককে কেন্দ্র করে যে জ্ঞান গড়ে উঠে তাকে আমরা বিজ্ঞান বলে জানি (খান, ২০১৫: ১১)। এখন আরেকটি প্রশ্ন সামনে চলে আসে, ‘সকল বিজ্ঞানে কি এই পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করা যায় বা একই রকম পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপ করা হয়? সকল বিজ্ঞান কি একই রকম Methodology অনুসরণ করে? উত্তর হচ্ছে – না; সকল বিজ্ঞানে একই রকম Methodology অনুসৃত হয় না, Cosmology-তে পরীক্ষণের সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি, পর্যবেক্ষণ তুলনামূলক সহজসাধ্য (বিজ্ঞান বিশ্বকোষ, ২০০৫: ১৭১), তাই বলে কি Cosmology বিজ্ঞান নয়? অবশ্যই এটি একটি বিজ্ঞান। আমরা জানি, বস্তুর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান আলোচনা করে জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ে; যদি বস্তু-সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞান থাকে, জীব-সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞান থাকে, তাহলে আরেকটি প্রশ্ন এসে যায়, সমাজ-সম্পর্কিত কি কোনো বিজ্ঞান থাকতে পারে? ভাষা-সম্পর্কিত কি কোনো বিজ্ঞান থাকতে পারে? উত্তর হচ্ছে – হ্যাঁ, সমাজ-সম্পর্কিত বিজ্ঞান রয়েছে যাকে ‘সমাজবিজ্ঞান’ বলা হয়; তিউনিসিয় দার্শনিক ও কূটনৈতিক ইবনে খালদুন প্রথম এই বিজ্ঞান সম্পর্কে কথা বলেন (Chambliss, 1963: 285- 313)। ভাষা-সম্পর্কিত বিজ্ঞানও রয়েছে যা ‘ভাষা-বিজ্ঞান’ নামে পরিচিত এবং এই বিজ্ঞানটি এখন অনেক সমৃদ্ধ (Hudson and Pinker)।

তাহলে, উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা জানলাম যে, পর্দাথবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান প্রভূতি বিজ্ঞান হওয়া সত্ত্বেও এগুলো একই ধরনের বিজ্ঞান নয়, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান; এবং জ্ঞান আহরণের জন্য প্রতিটি বিজ্ঞানের একই, ভিন্ন বা স্বতন্ত্র পদ্ধতিসমূহ থাকতে পারে।

এখন, আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল: এই যে বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি, সেই জানা কী আসলে নির্ভরযোগ্য? অর্থাৎ, বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমি যতটুকু জানি তা কতটুকু সঠিক? পূর্বে আমরা বিজ্ঞানের মাধ্যমে জেনেছিলাম যে, মৌলিক পদার্থ অবিভাজ্য, কিন্তু এই সময়কার বিজ্ঞান বলে এগুলোকে বিভাজন করা যায়; বিজ্ঞান যদি সব সময় আমাদেরকে সঠিক তথ্য দেয়, তাহলে, এখানে এর ব্যত্যয় ঘটল কেনো? এখন যদি মৌলিক পদার্থকে ভাঙা যায়, তাহলে আজ থেকে দেড়শ বছর পূর্বেও তো মৌলিক পদার্থকে ভাঙা যেত; কিন্তু ঐ সময়ের বিজ্ঞান কেনো বলল যে, তা ভাঙা যায় না? বিজ্ঞান যদি সব সময় সত্য তথ্য উপস্থাপন করে, তাহলে কেনো মিথ্যা তথ্য দিল আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে? বিজ্ঞান কি সব সময় নিখাদ সত্য উপস্থাপন করতে পারে, তথ্যের নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে? না; বিজ্ঞান কখনোই নিশ্চিত তথ্য প্রদান করে না, অবিজ্ঞান-ই তথ্যের নিশ্চয়তা দেয় - আর এই মত সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন অস্ট্রিয়ান দার্শনিক ও বিজ্ঞানী কার্ল পপার (খান, ২০১৫: ১৩, ২৩; Stemwedel, 2011; Crash Course Philosophy #8; Popper; 1963) [এখানে, একটি বিষয় বলে রাখা ভাল সেটি হচ্ছে “বিজ্ঞান কখনোই নিশ্চিত তথ্য প্রদান করে না, অবিজ্ঞান-ই তথ্যের নিশ্চয়তা দেয়” – এটি কার্ল পপারের উক্তি নয়; আমি চেষ্টা করেছি এ বিষয়ে উনার মূল দর্শনকে এই কয়েকটি শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে। পরবর্তীতে উনার বিজ্ঞান-সম্পর্কিত এই দর্শনটি অনেকের দ্বারা তীব্র সমালোচিত হয়।]। তাহলে, এই উদাহরণ ও আলোচনা থেকে আমরা বুঝলাম যে, বিজ্ঞান কোনকিছু সম্পর্কে আমাদেরকে নিশ্চিতভাবে অবহিত করতে অক্ষম।

এখন, আরেকটি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করি, সেটি হল : বিজ্ঞানের কি কোনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে? এই যে বিজ্ঞান বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য প্রদান করে, সেই পদ্ধতিসমূহের কি কোনো ত্রুটি আছে? বিজ্ঞানের এই পুরো পদ্ধতিসমূহকেই ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন আরেক ‘ভিয়েনা সার্কেল’-এর দার্শনিক পল ফেয়ারাবেন্ড (Feyerabend, 1975)। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, বৃত্তের সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী, বাস্তব জগতে বৃত্ত অনুপস্থিত, কিন্তু আমরা বৃত্তের আদর্শিক ধারণাকে প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরণের গাণিতিক প্রমাণ করে থাকি; বাস্তবে যার কোন অস্তিত্ব নেই সেই বিষয়টাকে মাথায় রেখে কীভাবে আমরা অন্য কোনোকিছু প্রমাণ করতে সক্ষম হই? আর এভাবে একটি ‘ধরে নেয়া’ ধারণা প্রয়োগ করে আমরা যা প্রমাণ করি তা কতটুকু নির্ভরযোগ্য? – আর এই কারণেই এই দার্শনিক বিজ্ঞানের প্রথাগত পদ্ধতিসমূহের চিড় ধরিয়ে বই লিখলেন Against Method; যেখানে তিনি বিজ্ঞানের স্বীকৃত পদ্ধতিসমূহকে বাতিল করে দেন।

(স্বীকারোক্তি : এই লেখায় ব্যাকরণ, ভাষা, তথ্য ও তত্ত্বগত যেকোনো ভুল পেলে আমাকে অবহিত করবেন; লেখাটি সম্পর্কে যেকোনো ধরনের সমালোচনা সাদরে গৃহীত হবে।)

রেফারেন্স

এক. মুহম্মদ এনামুল হক [সম্পা.] (২০১১); ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ঢাকা
দুই. হায়াৎ মামুদ (২০১১); উচ্চতর স্বনির্ভর বিশুদ্ধ ভাষা-শিক্ষা, দি অ্যাটলাস পাবলিশিং হাউস, ঢাকা
তিন. গালিব আহসান খান (২০১৫); বিজ্ঞানের দর্শন, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা
চার. সরদার ফজলুল করিম (২০১২); দর্শনকোষ, প্যাপিরাস, ঢাকা
পাঁচ. এ. কে. এম. নুরুল ইসলাম [সম্পা.] (২০০৫); বিজ্ঞান বিশ্বকোষ, চতুর্থ খণ্ড, বাংলা একাডেমি, ঢাকা
ছয়. Chambliss, Rollin. 1963. Social Thought. HOLT, RINEHART AND WINSTON.
সাত. Hudson, A., R. 2002. Sociolinguistics. CAMBRIDGE UNIVERSITY PRESS.
আট. Pinker, S. Linguistics as a Window to Understanding the Brain. Floating University.
নয়. Popper, Karl. 1969. Conjectures and Refutations. New York: Haper and Row.
দশ. Feyerabend, Paul. 1975. Against Method. PDF File.
এগারো. Stemwedel, D., Janet. 2011. Drawing the line between science and pseudo-science. Scientific American.
বারো. Crash Course Philosophy #8. Karl Popper, Science, and Pseudoscience. https://www.youtube.com/watch?v=-X8Xfl0JdTQ.

সৈয়দ মাহী আহমদ, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়, সিলেট।

বিভাগ: 

Comments

আবু মমিন এর ছবি
 

চমৎকার,বিজ্ঞান সম্পর্কে একটি চমৎকার বিশ্লেষণ।

আবু মোমিন

 
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
 

ধন্যবাদ, আপনাকে।

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

বিজ্ঞান নিয়ে আমাদের দেশে আগ্রহ কম, লেখকের আছে স্বল্পতা। ভাল লাগল আপনার বিশ্লেষন। নিয়মিত লিখতে থাকুন।

আর হ্যাঁ, ইস্টিশনে স্বাগতম।

 
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
 

ধন্যবাদ, আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৈয়দ মাহী আহমদ
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 9, 2016 - 4:18পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর