নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 11 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মূর্খ চাষা
  • নরসুন্দর মানুষ
  • রাজিব আহমেদ
  • কাঠমোল্লা
  • পৃথু স্যন্যাল
  • আল আমিন হোসেন মৃধা
  • নিরব
  • সাগর স্পর্শ
  • দ্বিতীয়নাম
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ
  • রাজদীপ চক্রবর্তী
  • নাজমুল-শ্রাবণ
  • চিন্ময় ভট্টাচার্য
  • নেইমানুষ
  • পরাজিত শুভ

আপনি এখানে

অর্ধেক নারীবাদ- পুরষতন্ত্রের গিফট!


যেকোন জিনিস আধাআধি অত্যন্ত খারাপ। নারীবাদের ব্যাপারে সেটা আরো খারাপ। অর্ধেক নারীবাদী যারা, তারাই নারীবাদের মূল শত্রু। দুঃখজনক হলো, আমার চারপাশের অধিকাংশ নারীই অর্ধেক নারীবাদী। তেনারা ঘরেরটা খান, পরেরটা পরেন, পুরুষতন্ত্রের পানি পান এবং তাদের মুখেই ঝাল খান, কিন্তু খুব যত্ন করে নারীবাদের একটা মুখোশ মুখমণ্ডলে আটকায়ে রাখেন। যেন সকলেই তাকে যথেষ্ট আধুনিক, প্রগতিশীল ও উচ্চমনা বলে ভাবতে পারে। ঘটনা হলো, এরা জানেই না যে এরা নারীবাদকেই জানে না। এরা মনের ভিতর থেকে নিজের নারী অস্তিত্বের বাইরে বাইর হইতে পারে না। এরা একটু ঘরের বাইরে যাইতে পারলেই পুরুষরে ধন্য ধন্য করেন আর বলেন, 'ও না আমাকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছে।' তারপর ধরেন, বাচ্চা মানুষ করতেসে বলে চাকরি ছাড়ছে, চাকরি ছাইড়া দিনরাত একাকার করে দিসে সংসারের পিছনে, আর নিজের যে একটা আস্ত জীবন ছিল,ক্যারিয়ার ছিল, সেইটা কোথায় যে ফুটুস করে উড়ে গেছে হাওয়ায় ভেসে, তার খবর নাই। তো তিনি কইবেন, 'বাচ্চা মানুষ করা একটি মহৎ কাজ আর একটু স্যাক্রিফাইস তো মেয়েদের করতেই হবে'।

তারপর ধরেন তারা নানা তত্ত্ব বানায়ে নিসে। যেমন ধরেন, মেয়েরা প্রকৃতিগতভাবে ভালো, শান্ত নিরীহ, স্বার্থহীন, ত্যাগী, মহৎ ইত্যাদি। এইসব তত্ত্ব ক্যান দেয়? দেয়, যাতে নিজে যেসব অকর্ম করতে বাধ্য হইতেসে, তার একটা তত্ত্বীয় ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় আর অন্তরে যে জ্বালা আর বেদনাটা আছে, সেটাতে কিছুটা হইলেও মলমের পরশ লাগে আর কি!

তো আমি এইসব মানুষের সাথে আলোচনা তর্ক বিতর্ক কোনটাতেই যাই না। গিয়ে লাভ কি? এরা তো পুরুষতন্ত্রের পোষা পাখি, খুঁদ কুড়া আর খাচার ছায়ায় আরামে থাকার অভ্যাসের ভিতরে ঢুকে গেছে। আপনি আঁকশি দিয়াও এদের টেনে তুলতে পারবেন না। আমি তাদের টেনে তোলার তেমন কোন চেষ্টাও করি না। পুরুষতন্ত্রকে যারা প্রকৃতি ও ধর্মের নামে শরীরে মনে আঁটে, তাদেরকে বলার কী আছে? কিন্তু সমস্যা হলো, তেনারা বাধ সাধেন আমাদের যারা আমরা নারীবাদকে সম্পূর্ণ করে চাই। যারা পুরুষতন্ত্রের বিনাশ চাই। যারা একটা সোজাসাপ্টা সমান সমান পরিস্থিতি চাই। যে পরিস্থিতিতে নারী একজন সম্পূর্ণ মানুষ, যার ইচ্ছে অনিচ্ছে, চলা, বলা, সিদ্ধান্ত নেয়া, ওঠা, বসা, শোয়া, লাফানো, জামা পরা, জামা খোলা, হাসা, কাঁদা, যৌনতা অযৌনতা- সমস্ত কিছুর মালিক নারী নিজে। পুরুষ এবং পুরুষতন্ত্র নয়।

কিন্তু ওই যে বললাম অর্ধেক নারীবাদ-ওই অর্ধেক নারীবাদকে ধারণা করা পুরুষতান্ত্রিক নারীরা নারীবাদকে এনে ফেলে দিয়েছে পুরুষতন্ত্রের সুবিধামাফিক একটি কাঠামোতে। কাঠামোটা ক্যামন? কাঠামোটা হইলো- নারী পড়ালেখা করবে, চাকরি করবে, অর্থ আয় করবে, হাতাকাটা জামা পরবে, ডিভোর্স দেবে- কিন্তু- নারী চাকরি করে টরে বাড়ি ফিরে কাজ কামের বেশিটাই করবে, অন্যায় হইলে ডিভোর্স দেবে কিন্তু তার আগে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় একটু মার টার খেলে ভাবতে হবে এটা সংসারের স্বার্থেই করা হয়েছে, টাকা কামালেও সেই টাকাতে স্বামীরও অধিকার আছে এবং সেটাই আসল, নারীর যৌনতা আছে, কিন্তু সেই যৌনতা ভবিষ্যৎ স্বামীর জন্য জমায়ে রাখবে এবং বিবাহপূর্ব যৌনতা অবশ্যই নিন্দনীয়- যদি কেউ করে, সেই নারী খারাপ, বেশ্যা, ব্লা ব্লা ব্লা। তো বলতে গেলে বিশাল একখান ফর্দ বাহির হবে। মোটেমাটে কথাটা এইরকম, পুরুষতন্ত্রকে বাঁচায়া পুরুষকে আরামে রেখে নারীজাতিকে সামান্য একটু দরজা ফাঁক কইরা বাইরে একটু সানবাথ করতে দেবার নামই অর্ধেক নারীবাদ।

এই অর্ধেক নারীবাদের ধারক অধিকাংশই হইলো নারী। যারা নারীবাদী লেখা পড়ে বিরক্ত হন, লেখিকারে অতি স্মার্ট, অতি বাড়াবাড়ি এইসব বইলা বেদম তৃপ্তি পান, পরিবারে বা বন্ধুমহলে প্রকৃত অর্থে নারীবাদের চর্চা করেন এমন কাউরে পাইলে আড়ালে তার যৌনজীবন তথা চরিত্র বিশ্লেষণ করে তুলাধুনা করেন,আর ভরা আড্ডায় পুরুষতন্ত্রের কোলে বসে আধো আধো আল্হাদী গলায় বলেন, "উমম... মেয়েদের একটু সমঝে চলতেই হয়। আমি কি চাকরি করি না? আমি কি স্বাধীন চলি না? কিন্তু পুরুষ একটু বেশি স্বাধীন আর শক্তিশালী, এটা তো ঈশ্বরই বানিয়ে দিয়েছেন, এটা তো মানতে হবে বাবা, উফ এত বেশি বাড়াবাড়ি করলে চলবে?"

তো এই জীবনে এইসব অর্ধেক নারীবাদীকে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছি। ঘৃণা করেছি এবং সশব্দে এড়িয়ে চলেছি। দুইদিন আগে আমারে আমার বোন ফোন করে বলে, 'শোন ওই টক শোতে তুই যে বললি বিয়ের আগে মেয়েদের দেখানো হয় গরুর মত- এত সুন্দর বলছিস। এত সত্য বললি। জানিস আদিবাকে (তার ভাগনি) এইভাবে দেখলো পরশু, কি যে খারাপ লাগলো!' এক নিঃশ্বাসে এইটুক বইলা থামলো আমার বোন। তারপর ফোস করে শ্বাস ফেলে আবারো কইলো, 'তাও যাই হউক, আদিবার এই বিয়েটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলেই ভালো। ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার, খুব ভালো।'

তো আমার বোন, এই মহিলারে আপনে কী কইবেন? নারীবাদী? সে তো আমার নারীবাদী বক্তব্য সমর্থণ করলো, কিন্তু তারপর কী করলো? তারপর নারীবাদের সমস্ত বিশ্বাস আর অস্তিত্বের ওপর জাস্ট একদলা থুথু মেরে দিলো।

পৃথিবী একদিন বদলাবে- এই প্রত্যাশা আমি করি, কিন্তু এই জীবনে আমি, কি আমার কন্যার জীবনে তার সেটি দেখার সৌভাগ্য হবে না। এই সমাজ এই ধর্মচর্চা এই লোকাচারের সম্মুখে যতদিন পর্যন্ত পুরুষ অধিক শক্তিমান, প্রতিভাবান, ক্ষমতাশালী- ততদিন পর্যন্ত নারী তার অধীনস্ত প্রজা হয়েই থাকবে। আর পুরুষতন্ত্রের খেদমতকারী নারীরা আত্মমর্যাদাহীন নির্ভার শয্যায় শুয়ে সেই দিনগুলোকে আরো দীর্ঘায়িত করার পাপাচারে লিপ্তই থাকবে। পুরস্কারস্বরূপ পুরুষতন্ত্র নারীবাদের নামে তাদের দেবে দশটা -পাঁচটার চাকরির 'অনুমতি', যথেচ্ছ শপিংয়ের সুখ, বাড়িতে রুই মাছ রান্ধার সর্বময় কর্তৃত্ব আর এক আধবেলার অল্পস্বল্প পরকীয়ার মজা। মারহাবা মারহাবা! শুভরাত্রি!

Comments

পৃথু স্যন্যাল এর ছবি
 

এরা জানেই না যে এরা নারীবাদকেই জানে না।
শতভাগ সহমত।

তারা ধরেই নিয়েছে নারী স্বাধীনতা হলো পুরুষের বেধে দেয়া গন্ডির ভেতরে থেকে আরাম আয়েস করে খেতে পারা। খাচার পাখীর মত সময়ে সময়ে খাবার, পানি আর মাঝে মধ্যে শেকল পায়ে বাইরে বের হওয়া। এর বেশি চাইতে গেলেই আপনি নষ্টা, ভ্রষ্টা।

খুব ভাল লিখেছেন।
ইস্টিশনে আপনার যাত্রা শুভ হোক।

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

অনেক ধন্যবাদ

শারমিন শামস্

 
শেহজাদ আমান এর ছবি
 

নারীবাদ' একটা ফালতু ধারণা। 'নারীবাদকে' 'মানবতাবাদ' দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। যেমন জরুরী নারীদের নিজেকে নারী না করে মানুষ মনে করা আর এই ধরণের 'Gender Commerce' থেকে দূরে থাকা।
এই লেখার সাথে শতভাগ সহমত যারা করতে পারে, কেন জানি মনে হয় মুক্তচিন্তার দিক থেকে সে অনেক আদিম অবস্থায় আছে।
বোঝা যাচ্ছে স্যাপিয়েন্সকে আরো অনেক বিবর্তিত হতে হবে। হতে হবে আধুনিক।

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 
সিগন্যাল-ম্যান এর ছবি
 

চমৎকার একটা পোস্ট।

নারীবাদ মানে যে শুধু নারীর কিছু চাহিদা পূরণ নয়, সেটা আমাদের আধুনিক নারিবাদী নারীরাও জানেন না।

খুব ভাল লিখছেন।

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

অনেক ধন্যবাদ

শারমিন শামস্

 
সিগন্যাল-ম্যান এর ছবি
 

খুব ভাল লেগেছে আপনার কথাগুলো।
সকলকেই এভাবে ভাবা দরকার।

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

Smile

শারমিন শামস্

 
আকন্দ এর ছবি
 

পূর্ণাঙ্গ নারীবাদ বলতে আপনি লিখেছেন “যে পরিস্থিতিতে নারী একজন সম্পূর্ণ মানুষ, যার ইচ্ছে অনিচ্ছে, চলা, বলা, সিদ্ধান্ত নেয়া, ওঠা, বসা, শোয়া, লাফানো, জামা পরা, জামা খোলা, হাসা, কাঁদা, যৌনতা অযৌনতা- সমস্ত কিছুর মালিক নারী নিজে। পুরুষ এবং পুরুষতন্ত্র নয়”।
লেখিকার কাছে বিনীত প্রশ্ন।
১. আপনি কি বিয়ে প্রথা সমর্থন করেন? বিয়ে মানে তো চুক্তি। চুক্তিতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে। নারীর ভরণপোষণ এর দায়িত্ব সম্পূর্ণ পুরুষের। আপনি কি এটা সমর্থন করেন? বিয়েতে নারীর যৌনতা যেমন নিয়ন্ত্রিত পুরুষেরও তাই। কাজেই নারীর যৌনতা নিয়ন্ত্রিত বলেই নারীর স্বাধীনতা কমে গেল মনে করা ঠিক হবে কি?
২. স্নেহ বা ভালবাসা বা দায়িত্ববোধের কারণে মানুষ অনেক সময় ত্যাগ স্বীকার করে। আনন্দ চিত্তেই করে। সন্তানের জন্য বাবা-মা কিংবা বাবা-মায়ের জন্য সন্তানদের আত্মত্যাগের মত পরিবারের জন্য নারীর আত্মত্যাগ কি নারীবাদের অন্তরায়?
৩. আপনি নারীদেরকে যেভাবে অর্ধেক নারীবাদের জন্য দায়ী করছেন এটা কি ঠিক? নারীরা তো এখানে পুরুষতন্ত্রের পুলিশ মাত্র।

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

দুঃখিত উত্তর দিতে দেরি হলো বলে।
১. আমি বিয়ে প্রথা সমর্থণ করি না। কিংবা বলতে পারেন, বিয়ের আদৌ কোন প্রয়োজন একসময় থাকবে বলে আমার মনে হয় না। কিন্তু কেউ যদি বিয়ে করে তাতে আমার আপত্তি নেই। সত্যি বলতে হুট করে এই প্রথা বিলুপ্ত হবে না। আমি নিজেও বিবাহিত। সন্তানের মা। কারণ চাইলেই রাতারাতি বিপ্লব হয়তো করা যায়, কিন্তু তাতে অর্জণ সাময়িক। কিন্তু বিবাহ প্রথা নারীবাদের মূল অন্তরায় এটি ভ্রান্ত ধারণা। বিবাহ মাতৃতান্ত্রিক সমাজেও হয়। বিবাহকে এককভাবে দায়ী করাটা ভুল। বিবাহিত জীবন চর্চায় নারীর অবস্থান ক্যামন, সেটাই দেখার বিষয়।
২. ত্যাগ সমর্থণ করি। কিন্তু তা এককভাবে একতরফাভাবে নারীর একার হতে পারে না।
৩. আমার লেখার মূল বক্তব্য তো এটাই। কিছু নারী, বা বেশিরভাগ নারীই পুরুষতন্ত্রের পুলিশ। সেই পুলিশির অংশ হিসেবে তারা অর্ধেক নারীবাদ তত্ত্ব প্রচার করে।

শারমিন শামস্

 
শেহজাদ আমান এর ছবি
 

১. আমি বিয়ে প্রথা সমর্থণ করি না। কিংবা বলতে পারেন, বিয়ের আদৌ কোন প্রয়োজন একসময় থাকবে বলে আমার মনে হয় না। - See more at: https://www.istishon.com/?q=node%2F23150#sthash.PLv4z0PC.YYpaDks6.dpuf

কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষ অসভ্য থেকে সভ্য হয়েছে; আদিম থেকে আধুনিক হয়েছে। এখন কেউ যদি আদিমতা, অসভ্যতা এর উচ্ছৃংখলতাকে নীতি মনে করে, তা খুবই দঃখজনক। মর্মান্তিক।

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

বিবাহপ্রথা মানুষকে সভ্য করেছে মনে করার কারণ কি? দাস প্রথার মত চুক্তিভিত্তিক যৌন মিলন ও নারীকে দাসী করে রাখা ছাড়া সভ্যতা নামের কিছুর অস্তিত্ব আছে বিয়েতে?

 
Isabella এর ছবি
 

Fantastic write up.Thank you.

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

thank you

শারমিন শামস্

 
শেহজাদ আমান এর ছবি
 

এরা একটু ঘরের বাইরে যাইতে পারলেই পুরুষরে ধন্য ধন্য করেন আর বলেন, 'ও না আমাকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছে।' তারপর ধরেন, বাচ্চা মানুষ করতেসে বলে চাকরি ছাড়ছে, চাকরি ছাইড়া দিনরাত একাকার করে দিসে সংসারের পিছনে, আর নিজের যে একটা আস্ত জীবন ছিল,ক্যারিয়ার ছিল, সেইটা কোথায় যে ফুটুস করে উড়ে গেছে হাওয়ায় ভেসে, তার খবর নাই। তো তিনি কইবেন, 'বাচ্চা মানুষ করা একটি মহৎ কাজ আর একটু স্যাক্রিফাইস তো মেয়েদের করতেই হবে'। - See more at: https://www.istishon.com/?q=node%2F23150#sthash.PLv4z0PC.YYpaDks6.dpuf

দিদি, আপনি নিজে মা। বাচ্চা মানুষ করা কতটা কঠিন, সেটা আপনি জানেন। বাচ্চার জন্মের কমপক্ষে পাচ্চ বছর পর্যন্ত তার প্রতি ইনতেনসিভ কেয়ার লাগে পরিবারের। পরিবারের কাউকে না কাউকে সেটা দিতেই হয় নিজের প্রফেশনাল লাইফকে স্যাক্রিফাইস করে। এক্ষেত্রে মাই সন্তানের সবচেয়ে বড় অভিভাবক; সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যভাবে তাকে সেই টেক কেয়ার করতে পারে। তাই তার চাকরি ছেড়ে বাচ্চাকে টেক কেয়ার করাটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত নয় কি?
ধরেন, মা চাকরি না ছেড়ে বাবা ছাড়ল; তখন কি স্ত্রী স্বামীকে কামাই করে খাওয়াবেন, এর সংসারের সব খরচ চালাবেন? এই প্রস্নঙ্গটা সম্মন্ধে মনে হয় আপনাদের মত নারিবাদিরা কখন ভাবেন। তাই আপনাদের লেখা ভীষণভাবে একচোখা; আপনাদের নারীবাদ তাই হয় যায় উগ্র নারীবাদ; এক ধরনের লিঙ্গ ব্যবসা (Gender commerce).

তো এই জীবনে এইসব অর্ধেক নারীবাদীকে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছি। ঘৃণা করেছি এবং সশব্দে এড়িয়ে চলেছি। দুইদিন আগে আমারে আমার বোন ফোন করে বলে, 'শোন ওই টক শোতে তুই যে বললি বিয়ের আগে মেয়েদের দেখানো হয় গরুর মত- এত সুন্দর বলছিস। এত সত্য বললি। জানিস আদিবাকে (তার ভাগনি) এইভাবে দেখলো পরশু, কি যে খারাপ লাগলো!' এক নিঃশ্বাসে এইটুক বইলা থামলো আমার বোন। তারপর ফোস করে শ্বাস ফেলে আবারো কইলো, 'তাও যাই হউক, আদিবার এই বিয়েটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলেই ভালো। ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার, খুব ভালো।'

তো আমার বোন, এই মহিলারে আপনে কী কইবেন? নারীবাদী? সে তো আমার নারীবাদী বক্তব্য সমর্থণ করলো, কিন্তু তারপর কী করলো? তারপর নারীবাদের সমস্ত বিশ্বাস আর অস্তিত্বের ওপর জাস্ট একদলা থুথু মেরে দিলো।
- See more at: https://www.istishon.com/?q=node%2F23150#sthash.PLv4z0PC.YYpaDks6.dpuf

ভালয় ভালয় বিয়ে হওয়ার প্রসঙ্গের ভিতর আপনি কি থুথু মারা দেখলেন, সেটা আপনারা তথাকথিত নারীবাদীরাই জানেন!
তাই বলছি, 'নারীবাদ' একটা ফালতু ধারণা। 'নারীবাদকে' 'মানবতাবাদ' দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। যেমন জরুরী নারিদের নিজেকে মানুষ মনে করা এই ধরণের 'Gender Commerce' থেকে দূরে থাকা।

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

”এক্ষেত্রে মাই সন্তানের সবচেয়ে বড় অভিভাবক; সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যভাবে তাকে সেই টেক কেয়ার করতে পারে। তাই তার চাকরি ছেড়ে বাচ্চাকে টেক কেয়ার করাটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত নয় কি?
ধরেন, মা চাকরি না ছেড়ে বাবা ছাড়ল; তখন কি স্ত্রী স্বামীকে কামাই করে খাওয়াবেন, এর সংসারের সব খরচ চালাবেন?” ... আপনার এই চিন্তাচেতনার বিপরীতে আপনার সাথে কোন কথা বলার আগ্রহ পাচ্ছি না। ভালো থাকুন

শারমিন শামস্

 
শারমিন শামস্ এর ছবি
 

বাই দ্য ওয়ে, আপনি সেই বদরুলের সাপোর্টার শেহজাদ আমান, চোখে পড়লো মাত্র যাকে ফেসবুকে একদিনে বহু মানুষ আনফ্রেন্ড ও ব্লক করেছেন। হাহাহাহহা। বদরুলের বন্ধু আপনি

শারমিন শামস্

 
শেহজাদ আমান এর ছবি
 

@ শারমিন আপুঃ হ্যা, আনিই সেই শেহজাদ আমান। যাকে ২২০০ ফ্রেন্ডের মধ্যে মাত্র ১৮ জন উগ্র নারীবাদি, নারী মৌলবাদী আর তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল ব্যাক্তিরা যাকে আনফ্রেন্ড ও ব্লক করেছিলেন। কাপুরুষ ও মাথা ব্যাথা হলে যারা মাথা কেটে ফেলায় বিশ্বাসী, তারাই এভাবে ব্লক আর আনফ্রন্ড করে, পালিয়ে বাচতে চায়। কিন্তু, বিশ্বাস করেন আপু, এটা কোনো সমাধান নয়। বদরুলের কোপাকুপিকে কিন্তু আমি কখনো সাপোর্ট করিনি। তবে, উগ্র নারীবাদী, নারী মৌলবাদী আর লিং ব্যবসায়ীরা যদি কখনো সমাজের ক্ষমতায় যায়, তাহলে একজন শেহজাদ আমানের অবস্থা যে খাদিজার মতো হবে না, সেটা কে বলতে পারে?

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 
শেহজাদ আমান এর ছবি
 

@ শারমিন আপুঃ পাবেন কি করে? যে যুক্তি দেখিয়েছি এর বিপরীতে কথা বলা আসলেই মুশকিল। আর কেউ যদি 'Gender Commerce'-এ বিশ্বাসী হয়, নারীকে মানুষ হিসেবে না দেখে নারী হিসেবেই দেখিয়ে ও টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের পক্ষে তো আমার এগেইন্সটে যুক্তি দেখানো আসলেই মুশকিল।

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

শারমিন শামস্
শারমিন শামস্ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: বুধবার, ডিসেম্বর 14, 2016 - 1:55পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর