নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মলি
  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • দ্বিতীয়নাম
  • নীল কষ্ট
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • অনন্ত দেব দত্ত

নতুন যাত্রী

  • মাষ্টার মশাই
  • লিটন
  • অনন্ত দেব দত্ত
  • ইকরামুল হক
  • আবিদা সুলতানা
  • ইবনে মুর্তাজা
  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • ঝিলাম নদী
  • কিশোর ফয়সাল
  • উসাইন অং

আপনি এখানে

আলেপ্পোর পতন ঘটেছে, সাথে মানবতারও


পূর্ব আলেপ্পোর, সিরিয়ার গণতান্ত্রিক-জাতীয়তাবাদী বিপ্লবের শেঘ ঘাঁটি,পতন ঘটছে। আসাদ সরকারের সেবায় নিয়োজিত বিদেশি সাম্প্রদায়িক মিলিশিয়া, যারা মদদ পাচ্ছে রুশ যুদ্ধবিমান থেকে ক্রমাগত বোমাবর্ষণের, বিদ্রোহী সীমাগুলো অতিক্রম করেছে। বিরতিহীন বিমান হামলা শহরের বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অধিকাংশকে ধবংসস্তূপে পরিণত করেছে। প্রতিটি হাসপাতাল ধবংস করা হয়েছে, সেই সবকিছু সমেত যা জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরীঃ পানির পাম্প, বেকারি, খাদ্য গুদাম, স্থানীয় কাউন্সিলের অফিস, এমনকি এই হত্যাকাণ্ড রিপোর্ট করা সাংবাদিকদের অফিস পর্যন্ত।

পঞ্চাশ হাজার সিভিলিয়ান পালিয়ে গেছেন, হয় পশ্চিম আলেপ্পোয়, অথবা শেখ মাকসুদ কুর্দি জেলায়, যা নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াইপিজি (কুর্দি মিলিশিয়া)। আলেপ্পোয় রয়ে যাওয়া আর সকলেরই কেউ হয় সরকারি কালো তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে, অথবা তাঁদের কোনো প্রিয়জন এই শহরে কর্মরত বা যুদ্ধরত অবস্থায় আছে। অনেকের জন্য আত্মসমর্পণ কোনো অপশনই নয়। ইতোমধ্যেই সরকার-কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচশ মানুষ, যখন সরকার মাসাকান হানানো জেলা জয় করেছিলো, হারিয়ে গেছে। রিপোর্ট আছে যে যে-সব সিভিলিয়ান শহর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলো তাঁদের অনেককেই সরকারি মিলিশিয়ারা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যখন অনুমিত ‘সেইফ প্যাসেজ’ দিয়ে পূর্ব আলেপ্পো থেকে জনতা পালানোর চেষ্টা করছিলো তখন সরকার পঁয়তাল্লিশ জনকে শেলবর্ষণের মাধ্যমে হত্যা করেছে।

মনে হচ্ছে এই গণহত্যার হিংস্রতা শুধুমাত্র সারা দুনিয়ার প্রগতিশীল শক্তিগুলোর নির্লিপ্ততার সাথেই তুলনীয় হতে পারে। এই গণহত্যার প্রতিবাদে কোনো মিছিল বা সমাবেশ হয় নি। দেশে দেশে জনগণ রুশ এমবেসির সামনে গিয়ে জড়ো হচ্ছে না এই বোমাবর্ষণ থামানোর দাবি নিয়ে। যুদ্ধবিরোধী গ্রুপ, ট্রেড ইউনিয়ন, এবং র‍্যাডিকাল বামপন্থীদের প্রায় সবাই চুপ মেরে আছে।
এটা কি করে সম্ভব যখন এই একই গ্রুপগুলো ফিলিস্তিনে বোমাবর্ষণ হলে হাজারো মানুষকে, বা ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা ইরাকে আগ্রাসন চালালে লাখো মানুষকে মোবিলাইজ করে, কিন্তু তাঁরা একটা বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারে না রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে যখন এই রাষ্ট্রটি আলেপ্পোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে?

একটি সুপ্ত প্রাচ্যবিদা ও বর্ণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতার একটি অপরিশীলিত এবং অনুন্নত বোঝাপটা, এবং ন্যুনতম গণতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিকতাবাদী নীতিসমূহ সমর্থনে ব্যর্থ হওয়া কার্যকর আছে এই ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতার পেছনে। একুশ শতকের বহুমেরুকৃত পুঁজিবাদী বিশ্বে, সমস্ত সাম্রাজ্যিক শক্তিই বর্বর, এবং নিজেদের ক্লায়েন্টদেরকে রক্ষা করতে নৃশংস গণহত্যা পরিচালনায় সক্ষম, এবং সব রাষ্ট্রই তাঁর বঞ্চিত ও শোষিত জনগণ তাঁরা জনপ্রিয় বিদ্রোহের সম্মুখীন হতে পারে।

এই মৌলিক সত্যগুলো স্বীকার করার বদলে, এবং সিরিয়ার বিপ্লবী সংগ্রামের সাথে সংহতি আন্দোলন নির্মাণে কাজ করার বদলে, একটি বিভীষিকাময় ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ন্যারেটিভ গ্রহণ করে নিয়েছে অনেকে, যার ফলে সিরিয়ার শান্তিকামী প্রতিবাদী আর জাতীয়তাবাদী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি যোদ্ধারা [তাদের চোখে] ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদীতে’ পরিণত হয়েছে, ‘সেকুলার’ আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যাদের মদদ দিচ্ছে সৌদি আরব আর কাতার। এই জনপ্রিয় আন্দোলনে র‍্যাডিকাল ইসলামিক শক্তিগুলোর উপস্থিতিকে তাদের বাস্তব সামর্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি অতিরঞ্জিত করে দ্যাখা হয়েছে, যেই জনপ্রিয় আন্দোলনের উত্থানপর্বে লাখো মানুষ ছিলো, তাঁদের সমস্ত দ্বন্দ্ব আর সমস্যা সমেত।

যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলো যাদের পুরো অস্তিত্ব উৎসর্গীকৃত হয়েছিলো সাম্রাজ্যিক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরাচারসমূহের বিরুদ্ধে তারা হঠাৎ করে ঘোষণা দিলো শুধুমাত্র তাদের নিজেদের সরকারই ম্যাটার করে, এবং যদি এই সরকারগুলো যুক্ত না থাকে, তাহলে এখানে তাদের কিছু করার নেই। কায়মনোবাক্যে সরকারের পেছনে রুশ অস্ত্রশস্ত্র আর ইরানি মদদকে অস্বীকার করে গিয়ে, গৃহযুদ্ধের সমস্ত দায় চাপিয়ে দেয়া হয় বিদ্রোহের প্রতি যৎসামান্য যে পশ্চিমা সমর্থন ছিলো এর ওপর, সরকারের সিভিলিয়ানদের বিরুদ্ধে বোমা, অত্যাচার, ব্যাপক ধর্ষণ ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারকে অভিযুক্ত করার বদলে।

বামপন্থী একটিভিস্টরা, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে যুক্তি দিয়েছেন যে আসল সন্ত্রাসবাদী হচ্ছে সিভিলিয়ানদের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনী ব্যবহার করা অই সুটেড বুটেড লোকজন, যে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা সবসময়ই প্রতিরোধ আন্দোলন বা জনপ্রিয় সংগ্রামের সহিংসতার চেয়ে অধিকতর নিকৃষ্ট, হঠাৎ করেই আবিষ্কার করে বসলেন যে নয়া-রক্ষণশীলতাবাদীদের মতো তাঁদেরও আতঙ্ক আছে অস্ত্র হাতে দাঁড়িঅলা মুসলমানদের ব্যাপারে, এবং মত দিলেন যে সবচে খারাপ যেটা ঘটতে পারে সেটা হচ্ছে জনপ্রিয় বিদ্রোহে আসাদ সরকারের পতন। যে বাম নিজ দেশে জনপ্রিয় বিদ্রোহ চায় সেই একই বাম সিরিয়ায় ‘স্থিতিশীলতা’ আর ‘শৃঙ্খলা’ রক্ষার প্রধান প্রবক্তায় পরিণত হল, এমনকি তা যদি অত্যাচার শিবির আর গণহত্যার মাধ্যমেও রক্ষা করতে হয়।

সিরিয়ার সংগ্রামের সাথে কোনো সংহতি আসছিলো না, এবং বামদের অবস্থান হয়ে দাঁড়ালো একটা সেলফ-ফুলফিলিং প্রফেসি। প্রগতিশীল শক্তি ও আর বামপন্থীদের কাছ থেকে কোনো সমর্থন না পাওয়ায়, এবং পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলোর কাছ থেকে স্রেফ লিপ সার্ভিস পাওয়ায়, গণতান্ত্রিক আর জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো সাইডলাইনড হল তুলনামূলকভাবে অধিক অস্ত্রসজ্জিত ও তহবিলপ্রাপ্ত ইসলামি গোষ্ঠীগুলো দ্বারা। আইসিস এই ক্যাওসের সুযোগ নিলো ইরাক থেকে সিরিয়ায় দখলদারি চালানোয়, সরকার এবং ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ মতবাদীদেরকে একটি প্রোপাগাণ্ডা চালানোর সুযোগ উপহার দিয়ে। লাখো মানুষ সরকারের ব্যারেল বম্ব আর পোড়া মাটি নীতির রণকৌশলে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে গেলো লেবানন, তুরস্ক, আর জর্দানের ক্যাম্পগুলোতে পচে মরার জন্য।

উদ্বাস্তুরা, একটি বিপ্লবী সংগ্রাম থেকে নির্বাসিত হয়ে, সিরিয়ায় প্রত্যাবর্তন করতে সেই ক্যাম্পগুলো অপেক্ষা করতে অসম্মত জানালেন যে প্রত্যাবর্তনের সময় কখনো নাও আসতে পারে। তাঁরা পশ্চিমের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং সাঁতরে ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ঢুকে পড়েন একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আশ্রয় চেয়ে। আইসিস, দমন আর গৃহযুদ্ধের ক্যাওস দ্বারা পুষ্ট হয়ে, এট্রোসিটি চালিয়ে গেছে পশ্চিমকে উসকানোর জন্য এবং উৎসাহিত করেছে আরো বেশি দমন আর মুসলিম বিরোধী বর্ণবাদ।

পশ্চিমের উগ্র ডানপন্থী আর ফ্যাশিস্ত গ্রুপগুলো সরকারের ছড়িয়ে দেয়া এই ক্যাওসের দ্বারা পুষ্ট হয়েছে। প্রতিটি আইসিস এট্রোসিটি, প্রত্যেক নতুন উদ্বাস্তু ঢেউ যেনো তাদের ন্যারেটিভকেই বৈধতাপ্রদান করছিলো, তারা নিজেদেরকে দাঁড় করালো এমন অবস্থানে যে কেবলমাত্র তারাই প্রস্তুত পশ্চিমা সভ্যতাকে ইসলামি মাথাগুলোর হাত থেকে রক্ষা করতে। তাঁরা সবাই শপথ নিলো আসাদ আর পুতিনকে এবং সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে এদের যুদ্ধকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার।

এই সবকিছুর ভেতরেও, আলেপ্পো অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলো। এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত স্থানীয় কাউন্সিল খাদ্য বিতরণ, পৌরসেবা প্রদান, নারীদের সংগঠিত ও ক্ষমতায়িত করার জন্য প্রশিক্ষণ সেশন চালু রেখেছিলো। এর শিক্ষকেরা ইশকুল বানিয়েছিলেন, ভূগর্ভে নার্সারি আর প্লেগ্রাউণ্ডও, পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি বোমার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। শিল্পীরা বিপ্লবের ব্যাপারে থিয়েটার সংগঠিত করেছেন, এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্যও। সাংবাদিকরা ইউনিয়ন সংগঠিত করেছিলেন সংগ্রামের ব্যাপারে, এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির দুর্নীতি ও বাড়াবাড়ির ব্যাপারে রিপোর্ট করার, তাঁদের স্বাধীনতা রক্ষায়। এই আশায় যে একদিন সরকারের ওপর তাঁদের বিজয় আসবে।

এই সবকিছু কুচলে দেয়া হয়েছে। আলেপ্পোর সাথে সাথে আরব বসন্তের জন্য শেষ আশাও মরে গেছে। এবং আলেপ্পোর পতনের সাথে, পৃথিবীও পতিত হয়েছে।

আসাদের দমনপীড়নের ক্যাওস থেকে বেরিয়ে এসে উত্থান ঘটেছে নতুন নতুন স্বৈরাচারীরঃ হোফার, ট্রাম্প, লা পেন, ওরবান, সিসি। আরব বসন্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে বিশ্ব প্রতিবিপ্লব। এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেই গ্রুপগুলোর, যারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আর সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ায় বলে মনে হয়ঃ তারা সবাই চুপ থেকেছে।

এই নৈশব্দ আসলে রাজাকারিতা, এবং এটা আমাদের সবাইকে অভিযুক্ত করে। সিরিয়ান জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা, আর তাঁদেরকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য, সারা দুনিয়াকে সাফার করতে হবে।

মার্ক বথরয়েড
(তর্জমাঃ ইরফানুর রহমান রাফিন, ওয়াইল্ডক্যাট ডিসপ্যাচেস থেকে)
মূল লেখার লিংকঃ http://wildcatdispatches.org/2016/12/02/mark-boothroyd-aleppo-falls-and-humanity-falls-with-it/

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইরফানুর রহমান রাফিন
ইরফানুর রহমান রাফিন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 15 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, এপ্রিল 12, 2016 - 3:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর