নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
  • দ্বিতীয়নাম
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার

আপনি এখানে

বাগানের নাম মালনীছড়া


মালনীছড়া চা বাগানের কাহিনী প্রথম জানতে পারি কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের "বাগানের নাম মালনীছড়া " উপন্যাস থেকে। পরে এই উপন্যাসটি নিয়ে একটি নাটক ও প্রচারিত হয়েছিল বিটিভিতে। অভিনয় করেছিলেন শংকর সাওজাল কাজী উতপলসহ অনেকেই।

১৮৫৪ সালে এই চা বাগানের মাধ্যমেই উপমহাদেশে প্রথম চা চাষ শুরু হয়। অসম্ভব সুন্দর এই বাগান টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।আকাশপথে যারা সিলেটে আসেন তাদের প্রথমেই স্বাগত জানায় এই চা-বাগান। বাগানটির অদ্ভুত সুন্দরের মায়ায় পড়েছিলেন অনেক বিদেশি। গাড়ি থামিয়ে তারা দাঁড়িয়েছেন বাগানের পাশে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাস প্লেন থেকে নেমে বাগানের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে বলেছিলেন, পৃথিবী এতো সুন্দর যে মালনীছড়া বাগান না দেখলে তা বোঝা যাবে না।
১৯৭১ সালে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খনির মাঝেই এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক বাহিনী। সিলেট শহরে তখন চলছে পুরোদমে প্রতিরোধ যুদ্ধ। পাকিস্তানি মেজর সরফরাজের নেতৃত্বে পাকবাহিনীর একটি প্লাটুন দখল নেয় চা বাগানটি।

৬ এপ্রিল বিকাল সাড়ে চারটার দিকে মালনীছড়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপকের বাসভবন পাকিস্তানিরা ঘেরাও করে। শওকত নওয়াজ তখন এই বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক। তিনি ছিলেন একজন প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক মানুষ, অকুন্ঠ সমর্থন করছিলেন অসহযোগ আন্দোলনকে। উল্লেখ্য, ১৮৫৪ সালে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান হিসেবে স্বীকৃত এই মালনীছড়া চা বাগানের মালিকানা ১৯৭১ সালে ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেড এর হাতে ছিল।

২৬ মার্চ শওকতনওয়াজের ছোট ভাই শাহনওয়াজ এবং তার দুই বন্ধু মেজবাহউদ্দিন ও আব্দুল কাদের তার বাসায় উঠেন। চা বাগানের তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা অবস্থান করছে; মেজর সরফরাজ একটি লাল গাড়িতে চড়ে টহল দিত পুরো এলাকাজুড়ে। অনেকেই তখন শওকত নওয়াজকে উপদেশ দিত বাগান ছেড়ে পালিয়ে যেতে; কিন্তু তাকে রাজি করানো যায়নি।

৬ এপ্রিল তারিখে তার বাসভবন থেকে শওকতনওয়াজ, তার ছোট ভাই ও দুই বন্ধু মেজবাহউদ্দিন ও আব্দুল কাদের সহ আরো ছয়জন অধীনস্থ কর্মচারীকের ধরে আনে। বাগানের ভেতর তখন কামানের গর্জনে অন্যান্য শ্রমিকেরা প্রাণ বাচাতে দৌড়াতে থাকে দিগ্বিদিক। বন্দী এই ১০ জনকে অতঃপর একই স্থানে দাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্থানি পশুরা। বিজয়ের পর বধ্যভূমি থেকে সন্তানের কঙ্কাল উদ্ধার করেন শওকত নওয়াজের বাবা।

শওকতনওয়াজ মার্চ মাসে তার বোনের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠির কিছু অংশ তার কবরের গায়েও লেখা আছে,
"... যদি আমরা বেচে থাকি তবে দেখা হবে। আর দেশের জন্য যদি প্রাণ হারাই, তার জন্যে দুঃখ নাই। তবে ভীরু কাপুরুষের মতো মরব না। ... আমরা এখান থেকে যতদূর সম্ভব দেশের কাজ করে যাব।"

"মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান লেখা আছে অশ্রুজলে "……………………………

তথ্যসূত্রঃ

১. বাগানের নাম মালনীছড়া : রাবেয়া খাতুন
২. কাদামাটির বাংলা ব্লগ

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজেশ পাল
রাজেশ পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 3 weeks ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 22, 2014 - 8:54পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর