নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • অনিন্দ্য
  • নুর নবী দুলাল
  • আরণ্যক রাখাল
  • রুদ্র মাহমুদ
  • মাইনুদ্দীন স্বাধীন

নতুন যাত্রী

  • মাইনুদ্দীন স্বাধীন
  • বিপু পাল
  • মৌন
  • ইকবাল কবির
  • সানসাইন ১৯৭১
  • রসরাজ
  • বসন্ত পলাশ
  • মারুফ মোহাম্মদ বদরুল
  • রাজীব গান্ধী
  • রুবেল মজুমদার

আপনি এখানে

নাসিরনগর হামলায় ইসলাম কতখানি অনুপ্রেরণাময়


হযরত জাহাঙ্গীর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাবাঘরের উপর দেবতা শিবকে বসিয়েছিলো কাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সেটা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। হেফাজত ইসলাম, আহলে সুন্নতের হুজুররা দৃশ্যপট থেকে যাতে অদৃশ্য হয়ে যায় সেটা শুরু থেকেই সরকার চাচ্ছিল। প্রয়োজনে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর বেশি ফোকাস দিতেও সরকার কুন্ঠিত হয়নি কারণ সরকার বিশ্বাস করে হুজুরদের হাত করেই নির্বিঘ্নে দেশ চালাতে হবে। যারা হুজুরদের সততা নিয়ে এখন বিস্ময় প্রকাশ করছেন তাদের বলছি, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অমুসলিমদের দেশত্যাগ করা, তাদের হত্যা করা, তাদের সম্পত্তি লুট করা ইসলামের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। মদিনায় যতগুলো ইহুদীদের বিরুদ্ধে নবী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন, তাকে হত্যা করার অভিযোগ তুলেছিলেন, তার কোনটারই তিনি প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি এসব ক্ষেত্রে জিব্রাইলের বার্তার মাধ্যমে দুষ্টু ইহুদীদের ষড়যন্ত্রের কথা জানার কথা উল্লেখ করেছেন মাত্র।

নবীর জমানায় মদিনার নবু নাযির ইহুদীদের ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে নবী তাদের গোটা গ্রামকে অবরোধ করে। এই বনু নাযিররা ছিল কৃষক শ্রেণীর। খেজুর চাষ করাই ছিল তাদের অন্যতম আয়-রোজগার। নবী ইহুদীদের জব্দ করতে খেজুর গাছ কেটে ফেলতে ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ফেলার আদেশ দিলেন। বুখারীতে সে ঘটনার উল্লেখ আছে, ‘কুতায়বা (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- রাসূল বনী নাযীর গোত্রের খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন, যা 'বুওয়াইরা' নমক স্থানে (মদিনার নিকটে) ছিল’ (সহীহ বুখারী - ৪৫১৯ )। ইতিপূর্বে নবী মুহাম্মদ গাছপালার উপর নাশকতা চালানোকে মন্দ কাজ বলে দাবী করতে বলে বনু নাযির ইহুদীরা নবীকে নিজের কথার বরখেলাপ করার অভিযোগ তুললে তৎক্ষণাত কুরআনের আয়াত নাযিল হতে থাকে, 'তোমরা যে খেজুর গাছ কেটেছ বা যেগুলোকে কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিতে, যাতে আল্লাহ পাপীদের লাঞ্ছিত করবেন' (সূরা ৫৯, আয়াত ০৫)। আশ্চর্য হতে হয় ইতিপূর্বে একজন নবী গাছপালা নষ্ট করাকে অন্যায় বলে দাবী করেছিলেন, তারই আল্লাহ সেই মন্দ কাজকে বৈধ্য করছেন এই বলে যে, এ তো আমার হুকুমেই তোমরা করেছো! কে কেমন ঈশ্বর? যিনি নিজেই নৈতিকতা ভঙ্গ করে অন্যায়ের দায় নিজের মাথাতে নিয়ে বলেন, তিনি অন্যায় করতে হুকুম করেছেন!

শেষ পর্যন্ত বনু নাযির ইহুদীরা অবরোধে কোণঠাসা হয়ে আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। বনু নাযিরদের হয়ত হত্যাই করা হতো কিন্তু মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই শর্ত দুই পক্ষ মেনে নেয় যে, বনু নাযির ইহুদীদের প্রাণে মারা হবে না এই শর্তে যে, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মুসলমানদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে খালি হাতে দেশ ত্যাগ করতে হবে। সে কথা মতই ইহুদীরা তাদের দেশ ত্যাগ করে বাড়িঘর, খেতখামার সব স্বেচ্ছায় মুসলমানদের বুঝিয়ে দিয়ে। বিনা যুদ্ধে মুসলমানরা লাভ করে বিপুল ধনসম্পদ। ইসলামে বিনা যুদ্ধের এই গণিমতকে ‘ফাই’ বলে থাকে। নবী ফাই হিসেবে নিজের ভাগে ইহুদীদের সেই বিশাল খেজুর বাগান যার নাম ছিল ‘ফদক’ নিয়ে নেন। ফদক নবী পরিবারের জন্য শেষতক এক অভিশপ্ত বাগানে পরিণত হয়। মুহাম্মদ মারা যাবার পূর্বে মৌখিকভাবে ফদক কন্যা ফাতেমাকে দান করে যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আবু বকর যিনি একই সঙ্গে নবীর বন্ধু ও শ্বশুড় ছিলেন, তিনি ফাতেমাকে ফদক দিতে অস্বীকার করে নিজের কাছে রেখে দেন। ফাতিমাকে মুখের উপর বলে দেন নবীর কোন উত্তরাধিকার থাকে না। এই ফদক এরপর নানা হাত বদল হতে থাকে বিভিন্ন খলিফার রাজত্বকালে। প্রায় সকলেই ফদককে নবী বংশের জন্য নিষিদ্ধ করে রাখেন।

গণিমত নিয়ে প্রচন্ড লোভ ছিল সাহাবীদের। বস্তুত মদিনায় সে সময় মক্কা থেকে বহু চোর-ডাকাত খুনে লুটেরা মানসিকতার লোকজন শুধুমাত্র গণিমতের লোভেই মদিনায় গিয়ে নবীর দলে নাম লেখায়। ধন-সম্পত্তির মত বড় আকর্ষণ ছিল নারীদের ধর্ষণ করার বৈধ উপায়। কিন্তু এই প্রচন্ড লোভ এক পর্যায় নবীকেই অমান্য করার মত পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলে। সহি বুখারীতে আছে, আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) উমার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- বনী নাদীর এর বিষয়সম্পত্তি ঐ সকল বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ তাঁর রাসূল -কে 'ফাই' হিসেবে দিয়েছেন, এ জন্য যে মুসলিমরা ঘোড়ায় বা উটে চড়ে যুদ্ধ করেনি। সুতরাং এটি খাস ছিল রাসূল এর জন্য। এর মধ্য থেকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ দান করতেন। এরপর বাকিটা তিনি অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘোড়া সংগ্রহের কাজে ব্যয় করতেন আল্লাহর পথে জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে (সহীহ বুখারী –৪৫২০)।

১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে গণিমত হস্তগত হয়েছিল ‘ফাই’ উপায়, অর্থ্যাৎ বিনা যুদ্ধে। তারপর ৬২ থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে আজতক ‘ফাই’ উপায়েই গণিমত লুন্ঠিত হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে নাসিরনগর, রামু, মালুপাড়ায় সশস্ত্র জিহাদ করে গণিমত লুন্ঠিত করা হয়েছে বৈকী। আজকের যুগে সশস্ত্র জিহাদ ফৌজদারী অপরাধ। এতে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয। যে কারণ একজন হযরত জাহাঙ্গীরকে বিচার করার উছিলায় ধরা হয়। তারচেয়ে চুপচাপ রাতের আধারে ‘ফাই’ আদায় করা বেশ সেভ।

মন্তব্যসমূহ

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

Facebook comments

বোর্ডিং কার্ড

সুষুপ্ত পাঠক
সুষুপ্ত পাঠক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 2 দিন ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 21, 2013 - 9:33পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর