নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
  • দ্বিতীয়নাম
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার

আপনি এখানে

শুধু রোহিঙ্গা নয়, সমস্ত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির পাশে দাঁড়ান!


১.
১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।এরফলে রাতারাতি মিয়ানমারের আর্থসামাজিক গতিপথ বদলে যায়। এই প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের জন্য জান্তাপক্ষের তরফে নেমে আসে নির্যাতননের স্টিমরোলার। সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের বিদেশি হিসেবে ঢালোভাবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জাতি ও ধর্মীয় কারণে নেমে আসেও অত্যাচার-নিপীড়নের খড়গ। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়ে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সম্পত্তির অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয় রোহিঙ্গাদের। নিয়মিত বাধ্যশ্রমে কাজ করানো, শিক্ষার অধিকার হরণ, স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত করা এমনকি বিয়ে, সন্তান-সন্ততিতেও নানান বিধিনিষেধ আরোপ করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এমনকি সীমাহীন ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মিয়ানমারের মূল জনগোষ্ঠি রোহিঙ্গাদের 'কালা' বলে ডাকে।

২.
মিয়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, বুথিডাং, মংডু, কিয়ক্টাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা এলাকায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির বসবাস। ২০১২ সালের এক জনগণনা হিসেবে দেখা যায় যে, প্রায় ৮,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করে। মায়ানমার ছাড়াও ৫ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে যুগযুগ ধরে বসবাস করছেন। উইকি অনুসারে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা সৌদিআরবে বসবাস করছেন। মিয়ানমার সরকার, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতক্ষ মদদে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে গণহারে হত্যা নির্যাতন করা হচ্ছে। আর তা যুগযুগ ধরেই হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবেই হচ্ছে। সংখ্যায় মুসলমান জনগোষ্ঠিই চোখে পড়ে তবে কম হলেও অন্যর ধর্মালম্বীরাও আছেন। আগ্রহীরা একটু উইকিসহ ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করলেই এর সত্যতা পেয়ে যাবেন।

৩.
'তোরা বাঙালি হয়ে যা...!' এই আপ্তবাক্যকে আমলে না নিয়েও যদি বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের শুরু থেকে আজকের বাংলাদেশকে গোনায় ধরেন দেখবেন বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রে হিসেবে পিলে চমকানোর মতো ব্যাপারস্যাপার আছে। যেমনঃ 'বাংলাদেশের জনগণ জাতিতে বাঙালি বলিয়া পরিচিত হইবে।' সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ, পঞ্চদশ সংশোধনী-২০১১। পাহাড়ি জনজাতির উদ্দেশ্যে মিশনারি স্টাইলে বাঙালি হয়ে যাওয়ার দাওয়াতি কাজকারবার না হলেও আজকের বাংলাদেশের সংবিধান কিন্তু পাহাড়ি আদিবাসীদের জন্য রীতিমতো তাদের অস্তিত্ব নাই বলে স্বীকার করে, করে নিয়েছে। ফলে বিষয়টা মিমাংশা করে ফেলেছে রাষ্ট্র। তামাদি হয়ে গেছে আরকি।

৪.
এখন এই অবস্থায় রাষ্ট্রের হজমজনিত গুরুপাক হচ্ছে। আদিবাসীদের এই নিরাপত্তাহীনতা রাষ্ট্র ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠির ইচ্ছেয় হচ্ছে। আজ ভয়, আতংককে সাথী করেই তাঁরা খোলা আকাশের নিচে প্রায় মাস খানেক ধরে বেঁচেবর্তে আছেন। যেভাবেই হোক রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে সরকার ও সংখ্যাগুরুরা চায় প্রায় ৫৪টি ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায় ও গোষ্ঠির প্রায় ত্রিশ লাখ আদিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠি এরা বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রে শর্তসাপেক্ষ বাঙালি (স্পষ্ট করে বললে মুসলমান!) হয়ে থাকতে পারলে থাকুক। না হলে নাই। হিসেব সোজা। ব্রহ্মাস্ত্র হিসেবে সংবিধান তো আছেই, নাকি?

৫.
'১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ দশকে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬১২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ নিরুদ্দিষ্ট বা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। আর প্রতিদিন দেশ ছেড়েছেন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু।' ড. আবুল বারাকাতের সাম্প্রতিক গবেষণামূলক বইয়ের তথ্য-উপাত্তের হিসেব এটি। এই হিসেবকে আমলে নিয়ে দেখা যায় যে, রাষ্ট্রের বর্তমান আদমশুমারি অনুযায়ী ৮.৫% হিন্দুরা এই দেশে আর বেশি দিন নাই। ধারাবাহিক হামলা, অত্যাচার, নিপীড়ন, জ্বালাও-পোড়াও তথা প্রাণের তাগিদে দেশ ছাড়ার কারণে আদি বাঙালি হয়েও শুধু ধর্মীয় কারণে বিলুপ্তপ্রায় জনজাতি হিসেবে এঁদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে শীঘ্র ঠাঁই পাবে। রাষ্ট্র ধর্ম ও সংবিধানের বর্মজালের ফেরে পরে একই কায়দায় বিলুপ্তপ্রায় হচ্ছেন সংখ্যায় নগন্য বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমদিয়া-শিয়া ও ভিন্নমতাবলম্বী, নাস্তিকেরাও। যার রুপ অধুনা বাংলাদেশ ও সারাবিশ্ব কমবেশ দেখেছে।

৬.
দেশীয় প্রেক্ষাপট, প্রতিবেশী দেশের প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক পটভূমিকে সামনে রেখে বলুন তো, আপনি/আপনারা যেমনটা নিজ ধর্ম-সংস্কৃতির বলে বলীয়ান হয়ে বৈশ্বিক মুসলমান জনজাতির জন্য বিবেকের তাড়নায় প্রতিবাদ, ঘেরাও, বিক্ষোভ কর্মসূচি কিংবা তাঁদেরকে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশয় দিতে প্রচার-প্রচারনা ও সমর্থনে যেমনটা সরব তেমনি নিজ দেশের, এই মাটির সন্তান হয়ে, এই জাতি জনগোষ্ঠির হয়ে, রক্তের উত্তরাধিকার হয়েও হিন্দু, সাঁওতাল, বৌদ্ধ তথা সমস্ত সংখ্যালঘু, আদিবাসী, ভিন্নমতাবলম্বী, নাস্তিকদের তাঁদের ভয়াবহ বিপদের দিনে তাঁদের জন্য এমনটা করেছিলেন কিনা? তাঁদের পক্ষে একইভাবে দাঁড়িয়েছেন কি না? মোদ্দাকথা আপনি/আপনারা, সংখ্যায় গরিষ্ঠরা তাঁদেরকে বাংলাদেশে ভয়ডরহীন, স্বাভাবিক জীবনযাপন ও স্বাধীনভাবে বসবাস চান কিনা? হলে সেই দাবিতে অনড় আছেন কি না, প্রতিবাদে আছেন কি না? আপনার/আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করুন। উত্তর পেয়ে যাবেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি করুণা নয়, সহানুভূতি নয় বরং চাই তাঁদের জন্মভূমির অধিকার ফিরে পাক। ভয়ডরহীন মাতৃবাস ফিরে পাক। স্বাধীনতা ফিরে পাক। আমাদের দেশের সব সংখ্যালঘু, হিন্দু, সাঁওতালসহ আদিবাসীদের মতো নিজভূমে পরবাসী যেনো না হ হয়, সেটাই চাই মনেপ্রাণে চাই। তাঁরা নিরাপদ মাতৃভূমি ও সুস্থ জীবন ফিরে পাক এটাই চাই। মানুষ মানবতা বিবেক ও অন্তরাত্মার জয় হোক, সেটাই চাই।

Comments

Borendra Lal Tripura এর ছবি
 

Great piece!!!!! Amader deshe ekhonu kichhu humanist lukjon achhe dekhei ekhono asha niye desher mati akre achhi.

Prithibir somosto nipirito manusher pashe daranu ebong tader pokkhe kotha bolatai ideological stance and that's how coercion may be eliminated from the world. Standing beside only 'my people' is a form of quotary interest and sentimental stance. This position will not eliminate oppression rather it will instigate oppression in broader perspective.

 
মনির হোসাইন এর ছবি
 

ধন্যবাদ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনির হোসাইন
মনির হোসাইন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 6 দিন ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 20, 2013 - 10:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর