নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজিব আহমেদ
  • কাঠমোল্লা
  • পৃথু স্যন্যাল
  • আল আমিন হোসেন মৃধা
  • নিরব
  • সাগর স্পর্শ
  • দ্বিতীয়নাম
  • নুর নবী দুলাল
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ
  • রাজদীপ চক্রবর্তী
  • নাজমুল-শ্রাবণ
  • চিন্ময় ভট্টাচার্য
  • নেইমানুষ
  • পরাজিত শুভ

আপনি এখানে

ওয়াইল্ড ওয়েস্ট থেকে বাংলাদেশঃ ইতিহাস বারবার ফিরে ফিরে আসে



ছোটবেলায় ওয়েস্টার্ন মুভিগুলোর খুব ভক্ত ছিলাম। এখনো আছি। কাঠফাটা রোদের মাঝে ঘোড়ার পিঠে বসা রোদেপোড়া রুক্ষ চেহারার সাহসী মানুষগুলো মুগ্ধ করতো প্রতিনিয়ত। জন ওয়েইন বা ক্লিন্ট ইস্টউডের ইস্পাত কঠিন ব্যক্তিত্ব আকর্ষণ করতো তীব্রভাবেই। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে তামাক চিবুনো , বিশেষ ভঙ্গিতে চুরুট ফোকা , চোখের পলকে হোলস্টার থেকে রিভলবার বের করে নির্ভুল নিশানায় গুলি চালানোর ভঙ্গিমা ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল আমার কিশোর মনকে। Bruce Cassidy and the Sundance Kid, The searchers , For a few dollars more, Good Bad Ugly, Mackana's gold এর মতো মুভিগুলো যে কতশতবার দেখা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। স্কুল জীবনে হাতে এসে পড়ে সেবা প্রকাশনীর ওয়েস্টার্ন সিরিজগুলো। সেইসাথে বৃদ্ধি পায় মুগ্ধতা। যা টিকে আছে আজ পর্যন্ত।

অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বেপরোয়া পশ্চিমের সুলুকসন্ধান করেছি ইন্টারনেটেও। আর বিস্মিত হয়েছি Doc Holiday, Billy the kid, John Hardin,Wyatt Earp এর মতে দুর্ধর্ষ গান ফাইটারদের কাহিনী পড়ে। এরা হয়ে উঠেছিলেন তখন স্বপ্নের নায়ক।

সেইসাথে আরো একটা ব্যাপার মাথায় ঘুরপাক খেতো। এরা এভাবে হাতিয়ার বহন করতেন কেন? একটি ওয়েবসাইটে একবার পেয়েছিলাম এর উত্তর্।সেখানে লেখা ছিলো , আমেরিকার আদিবাসী রেড ইণ্ডিয়ানদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যেই নাকি অনুমোদন ছিলো এই হাতিয়ার ব্যবহারের্। বলাবাহুল্য , পপুলার কালচারে , চলচ্চিত্র বা উপন্যাসে রেড ইণ্ডিয়ানদের কিন্তু দেখানো হয় রক্তপিপাসু বর্বর অসভ্য উপজাতি হিসেবেই। তাই সিনেমাতে নায়কের নির্ভুল নিশানায় দুএকটা বর্বর কুপোকাত হতে দেখলে হাততালি দিতাম চরম উল্লাসে, পুলকিত মনে।পরবর্তী কালে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রেড ইণ্ডিয়ানদের নিয়ে বেশ কিছু তথ্য হাতে এসে পড়ায় তাদের সম্পর্কে ধারণা আমুল পাল্টে যায়। বুঝতে পারি আসলে এরাই হলো শ্বেতবর্ণ মানুষদের গ্রেট আমেরিকা গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞের প্রকৃত ভিকটিম। বিশেষ করে "Bury me at wounded knee" বইটি পড়ার পরে রীতিমতো শিউরে উঠি। কিভাবে ঠান্ডা মাথায় ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হলো একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে তা ভাবলেই বিস্মিত হতে হয়। হতে হয় মর্মাহত।

অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত স্যারের সাম্প্রতিক গবেষণাটি সম্পর্কে জানার পরে কেন জানি ওয়াইল্ড ওয়েস্ট এর রেড ইণ্ডিয়ানদের কথা হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল। অদ্ভুত মিল দুটো কাহিনীতে। শুধু আমেরিকার স্থলে বাংলাদেশ আর রেড ইণ্ডিয়ানদের জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায় বসিয়ে নিলেই যথেষ্ঠ। ইতিহাস এভাবেই ফিরে ফিরে আসে।

বারাকাত স্যারের গবেষণায় দেখা গেছে , "৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ দশকে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬১২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ নিরুদ্দিষ্ট বা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। আর প্রতিদিন দেশ ছেড়েছেন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু।"গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়কালে প্রতিদিন গড়ে নিরুদ্দেশ হওয়া হিন্দুদের সংখ্যা সমান নয়, যেমন-১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ পাকিস্তানের শেষ ৭ বছর প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৭০৫ জন হিন্দু। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৫২১ জন। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৪৩৮ জন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিদিন ৭৬৭ জন হিন্দু দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আর ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৬৭৪ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশ থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। "এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, "এটি একটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার যে এই দেশে জন্ম নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। তিনি বলেন, যেভাবে হিন্দুরা হারিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই নিরুদ্দেশ প্রক্রিয়ার প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী দুতিন দশক পরে এদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনও মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না"

আবহমান কাল থেকেই এই সম্প্রদায়টি শিক্ষা , দীক্ষা , শিল্প ,সাহিত্য , সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে , রাখছে আজো। কিন্তু ক্রমাগত জাতিবিদ্বেষ আর বৈষম্যের শিকার হতে হতে আজ ক্রমশঃ ধীরে ধীরে এদেশের মাটি হতে বিলুপ্তির পথেই এগিয়ে চলছে তারা। সম্প্রতি নাসিরনগরের তাণ্ডবলীলা সে আশংকার ইঙ্গিতই প্রদান করে।

হয়তো এভাবে কয়েক দশকের মধ্যেই এই সম্প্রদায়টি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে এদেশের মাটি হতে। সেই সাথে সাথে বিলুপ্ত হবে বৌদ্ধ , খ্রিস্টান , সাওতালসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র সম্প্রদায়গুলোও। কিন্তু তখন কি নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহমিকার দাবীদাররা? নাকি ওয়াইল্ড ওয়েস্ট এর শ্বেতাঙ্গ কাউবয়দের মতোই রেড ইণ্ডিয়ান বিতাড়ণ শেষে নিজেরাই কনফেডারেট আর ইউওনিয়নওয়ালাদের মতোই জড়িয়ে পড়বেন গেটিসবার্গের ভাতৃঘাতী সংঘাতে?

ইরাক ,সিরিয়া , পাকিস্তান , আফগানিস্তানের ইতিহাস কিন্তু সতর্কবাণীর পতাকাই বহন করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজেশ পাল
রাজেশ পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 22, 2014 - 8:54পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর