নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জান্নাতুল নাইম শাওন
  • শাহরিয়ার জাহিদ...
  • পৃথু স্যন্যাল
  • নীল কষ্ট
  • আরিফ ইউডি
  • নুরুন নেসা
  • এম ইউ রাকিব

নতুন যাত্রী

  • আবুল কালাম
  • ইমরান আহমেদ সৈকত
  • উন্মাদ কবি
  • রাহাত মাকসুদ
  • শাহরিয়ার জাহিদ...
  • অপূর্ব দাশ
  • এল্লেন সাইফুল
  • বাপ্পি হালদার
  • রমাকান্ত রায়
  • আবুল খায়ের

আপনি এখানে

ডায়েরী অফ আ মালাউনের বাচ্চা


মালাউন/মালাওন (বি.) > অভিশপ্ত

১.
মালাওন বা মালাউন শব্দটির সাথে আমার পরিচয় বেশ পুরোনো। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে এই শব্দটা আমার প্রথম স্মৃতির মতোই পুরোনো। মাঝে মাঝেই শুনতাম। বলবো না সবসময় ব্যাক্তি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা হতো। তবে, শুনতাম।

কোন ছুটা বুয়াকে আর রাখা হবে না - তো বাসার বাইরে মচ্ছব লেগেছে, 'মালাউনের বাসায় আর কাম করমু না'। বা ওরসের চাঁদাবাজী চলছে তো 'মালুরা এই দেশে থাকবো, কিন্তু চাঁদা দিবো না'। বা ক্রিকেটে ভারত জিতলো, 'মালুদের ঘরে তো ঈদ লাগসে'।

ছোট ছিলাম। গায়ে লাগতো না। মাথার উপর দিয়ে যেত। ধর্মীয় কনসেপ্টগুলো তখনো আমার কাছে ক্লিয়ার না। কেবল বই থেকে গড় গড় করে মুখস্থ করা - আমার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জনগণ মুসলমান।

বইয়ের বাইরে আবার মা'র কাছে শিখতাম যে, আমি হিন্দু। মানে কি?বাংলাদেশের জনগণ মুসলমান আর আমি হিন্দু। আমি কি তবে বাংলাদেশের কেউ না? তখন প্রশ্নটা করিনি। বা করলেও ভুলে গেছি।

মা'র কাছ থেকে আরো শিখতাম, আমি ব্রাহ্মণ। কূলের শ্রেষ্ঠ*। শেষের কথাটা ঠিক বিশ্বাস হতো না। কারণ আমার স্যোসাইটি আমাকে শিখিয়েছিলো, আমার সবচে' বড় পরিচয় - আমি মালাওনের সন্তান। তখনো অর্থ জানতাম না। তবে বুঝতাম - ভয়ংকর কিছু হবে।

* কূলের শ্রেষ্ঠ বিষয়টিতে অবশ্য আমার কখনোই বিশ্বাস হয়নি। মানুষ তার জন্মের কারণে শ্রেষ্ঠ হয় না। হয় ব্যক্তি যোগ্যতা বা অবদানের কারণে।

২.
আমার মালাওনী জীবনের পত্রপাঠ হাতে খড়ি স্কুল জীবনে। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ। সংক্ষেপে টুপি আইডিয়াল। সংক্ষিপ্ত নামের কারণটা বোধ হয় সবারই জানা। এই স্কুলে ছেলেদের মাথায় টুপি ও মেয়েদের স্কার্ফ দিতে হয়। যদিও অমুসলিম ছেলেরা টুপির হাত থেকে বাঁচতে পারে; কিন্তু মেয়েদের কোন ছাড় নেই।

যাই হোক, যদি বলি স্কুলে সবাই ঢোকার সাথে সাথে আমাকে মালাওন বলে গাল দিয়েছে, তবে ডাহা মিথ্যে কথা বলা হবে। ৮ বছর এক স্কুলে পড়েছি। ২-৩ বার হয়তো শব্দটা শুনেছি। তা-ও আমাকে উদ্দেশ্য করে না।

এবার আসল কথায় আসি। ফলাফলের দিক থেকে টুপি আইডিয়াল নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সেরা স্কুলগুলোর একটি। টেক্সটবুকের পাশাপাশি নীতিশিক্ষার বই-ও পড়ায়। ক্লাস ওয়ানের বইটির নাম ছিলো 'সোনামনিদের পাঠশালা'।

ক্লাস ওয়ানের বই। আমার মেমরিও ফটোগ্রাফিক না। তবু, সোনামনিদের পাঠশালার কয়েকটি গল্প বেশ মনে আছে। মনে রাখার কারণ আছে। যেমন, একটি গল্পের কথা ধরা যাক। গল্পের প্রধান চরিত্র অমুসলিম পরিবারের একটি মেয়ে। মেয়েটি কোথাও শুনতে পায়, ভাল কিছুর আগে বিসমিল্লাহ বলা উচিৎ। সেদিন থেকে মেয়েটি বিসমিল্লাহ বলতে শুরু করে।

বাসা থেকে কিছুতেই মেয়েটির এই কার্যকলাপ বন্ধ করতে পারে না। তাই আর কোন 'উপায়' না দেখে মেয়েটির বাবা একদিন মিষ্টির হাড়িতে সাপ ভরে নিয়ে এসে মেয়েটির হাতে দেয়। সে 'বিসমিল্লাহ' বলে হাড়ি খোলে এবং ভেতর থেকে মিষ্টি বের করে খেতে থাকে।

আবার আরেকটি গল্প। এক বিধর্মী ছেলে রোজার সময় বাইরে দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছিল। তাঁর বাবা দেখতে পায়। ছেলেটিকে বকা বা মার দেয় এই কাজের জন্য। একসময় দেখা যায় সেই পিতা এই মহৎ কর্মের জন্য সে কাফের হওয়া সত্ত্বেও বেহেশ্ত পায়।

সোনামনীদের পাঠশালা ছিলো পড়ানো হতো বাংলা ক্লাসে। অল্প বয়স ছিলো। তবু হজম করা সহয ছিলো না। তারপরো সপ্তাহে একটা মাত্র ক্লাস কোন মতে পার করে দিতাম। যা পার করতে পারতাম না, তা হলো ধর্ম ক্লাস।

তখন টু'তে পড়ি বোধ হয়। ক্লাস টিচার এবং ইসলাম ধর্ম টিচার ছিলেন - এস আই খান। সিরাজুল ইসলাম খান। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ক্লাসে প্রেজেন্ট থাকাটা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। জনাব সিরাজের প্রিয় কাজ ছিলো, প্রতিদিন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করা ইসলাম ধর্ম বই এনেছি কি-না।

প্রতি দিন। প্রতিটা দিন। প্রশ্নের হের ফের নেই। আমারো একই উত্তর, 'স্যার আমি হিন্দু'। শেষমেষ উনি একদিন বলেন, "ক্লাসে কেউ পড়বে আর কেউ বসে থাকবে তা তো হইতে পারে না। খাতায় সুন্দর করে দুই পাতা লেখ - 'আমি হিন্দু'"।

এরপর থেকে ক্লাসে আমার নামটা বদলাতে থাকে। অর্ণব থেকে ধীরে ধীরে সেকশনে আমি পরিচিত হতে থাকি 'হিন্দু' নামে।

পরের বছর সিরাজুল সাহেব আর ক্লাস টিচার ছিলেন না। কিছুটা হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম। যদিও সম্ভাবত ক্লাস ফোরে থাকতে এক পরীক্ষায় উনি গার্ডে ছিলেন। পুরোটা সময় আমার পাশে বসে, ইসলাম গ্রহণের সুবিধা বুঝিয়েছিলেন। হিন্দু ধর্মের সেই পরীক্ষায় আমি গ্রেসে পাশ করেছিলাম।
 
৩.
ক্লাস টু'তে থাকতে আমার হিন্দু নামটার যে আকিকা হয়েছিলো, ফোর ফাইভে ওঠার পর মোটামুটি গায়ে সওয়া হয়ে যায়। প্রতিদিনকার কুরআন তালওয়াত বা কনভার্সনের সুবিধা ব্যখ্যা করে ইসলামিক প্রিচিং - কোনটাই আর আমার পুরু চামড়া ভেদ করতে পারতো না।

 নতুন খৎনা হওয়া বন্ধুরাও তখন টুপি আইডিয়ালের সভ্য হয়ে উঠছিলো। সুপিরিয়োরিটি ফলাতো। বিচার দিই নি কখনো। জানতাম লাভ হবে না। নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলাম। পুরোটা বোধহয় পারিনি। আমি মনে হয়, পুরোপুরি আদর্শ 'মালাওন' হতে পারি নি।

উত্তরাধিকার সূত্রে বহন করা ধর্ম বাদেও, একটি বিষয়ে অন্য ছেলেদের সাথে আমার পার্থক্য ছিলো। তখনো আমার কাছে ব্যক্তি মতামতের গুরুত্ত্বটা খুব বেশি ছিলো, কিন্তু অন্যদের মধ্যে সেই বোধ খুব একটা দেখি নি।

ক্লাস ফাইভে পড়ি। প্রায় বোম ফাঁটানোর মতো এক ছেলে ঘোষণা দেয়, সে ধর্মে বিশ্বাস করে না। বিচার ওঠে। বিচারের দায়িত্ব পায় জামশেদ স্যার। বেধড়ক পেটানো হয় ছেলেটাকে। যখন ব্যাথায়, কষ্টে থরথর করতে কাঁপতে থাকে, তখন কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

একবার শুধু বলেছিলাম, 'ও তো কোন অপরাধ করে নাই। নিজের ব্যাপার।' ৬০টা জ্বলে জ্বলে চোখ দেখে আর কিছু বলার সাহস পাইনি।

টুপি আইডিয়ালে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো। ক্লাস এইটে শেষ পর্যন্ত স্কুল বদলাই। গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল। টুপি বাদ যায় কিন্তু তার নীচে থাকা মগজগুলো ঠিকই থেকে যায়।

অনেকের মতে, 'দেখো তোমাদের চাইতে তো আমরা উচ্চ বংশীয়', কেউবা বিএনপি আসলে 'আমাদের' দেখে নেবার হুমকি জানায়। তবে হ্যাঁ, ইন্সটিটিউশনাল রেসিজমটা ছিলো না।

৪.
আমার সবসময় ধারণা ছিলো, বিশ্ববিদ্যালয় বোধ হয় সকল স্বাধীণতা-মুক্ত চিন্তার আখড়া। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটওয়ে হলো কলেজ। তো এরকম দিবা স্বপ্ন নিয়ে এসএসসির পর আমি ঢাকা কমার্স কলেজে ভর্তি হই।

কমার্স কলেজের সেকশন নির্ধারণ হয় মেরিট ভিত্তিতে। কলেজ লাইফের পুরোটা সময়ই আমি প্রথম সেকশনে ছিলাম। কলেজ লাইফ, প্রথমবারের মতো আবার কোএজুকেশন। আমি ছিলাম যাকে বলে সপ্তম আসমানে। তবে মাটিতে নামতে সময় লাগে নি।

আমার রোল ছিলো ৮৫৪৫ আর ফাহাদ শাকিবের ৮৫৮৫. আমার ঠিক পেছনের বেঞ্চেই বসতো। অসাধারণ ছাত্র। ক্লাস শুরু হবার ২-৩ পর যখন কথা হয়, তখন আমার পুরো নাম শোনার পর সে বলে, 'ও তুই তো তাইলে মালু'।

কলেজ লাইফে ফাহাদ আমাকে অন্য নামে ডেকেছে বলে আমার মনে নেই। এখনো একইরকম আছে কি-না জানি না। শুনেছি ইদানিং নাটকে কাজ করে। বিজ্ঞাপন-ও বানায় বোধ হয়। মেধাবী ছেলে। আমি মনে প্রাণে ওর মানসিক সুস্থ্যতা কামনা করি।

শাকিব বা ওর দেখাদেখি আর ক'জনের কাছ থেকে 'মালু' ডাক শোনা বাদে কলেজ লাইফ খারাপ ছিলো না। এ্যাটলিস্ট ধর্ম ক্লাসের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত। যদিও, ভারত-পাকিস্তান খেলা হলে হিসেব উল্টে যেত (বাংলাদেশ তখন টেস্ট খেলুড়ে দেশ হলেও তেমন কোন সাফল্য ছিলো না)।

একদিন ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচ চলছে। সেই ম্যাচেই সম্ভাবত ধোণীকে প্রথমবারের মতোন ওপেনিং করানো হয় এবং সে সেঞ্চুরী করে। তো আমরা কোচিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে (কলেজের স্যার/ম্যাডামরা একটা কোচিং সেন্টার খুলেছিলেন) টিভি রুমে গিয়ে খেলার আপডেট দেখছি। বেশির ভাগ পাকিস্তানের পক্ষে। আমিসহ দু'একজন বোঝানোর চেষ্টা করছি, পাকিস্তান আমাদের সাথে কি করেছে।

আমার কথা শুনে কলেজের ম্যানেজমেন্টের 'শিক্ষক' বদিউল আলম ববি ক্লাসে এসে বলেন, 'পাকিস্তান বাংলাদেশকে যদি শোষণ করে থাকে, তাহলে স্বাধীণতাও তারাই দিয়েছে। আর ভারত হিন্দু দল। আমি জেনে শুনে মুসলমানদের বিপক্ষে হিন্দুদের সাপোর্ট দিতে পারি না'।

না, বাংলাদেশি মুসলমানরা বাবার খুনী-বোনের ধর্ষকদের সমর্থন দিতে পারে, কিন্তু হিন্দুদের না।

৫.
বাংলাদেশে আমার ভার্সিটি লাইফ ছিলো মাত্র ১ বছরের। ঢাবিতে ল' নিয়ে পড়তাম (যদিও শেষ করিনি)। অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের কার মনে কি ছিলো জানি না, তবে মুখে কিছু বলেনি।

অবশ্য একবারের ঘটনা একটু ভিন্ন। কেউ একজন ফোনে থ্রেট দিয়ে বলেছিলো, এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক না ভাঙলে, 'মালু তোর কল্লা ফালামু'। হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে ঐ মেয়ের সাথে আমার কখনোই সম্পর্ক ছিলো না।

 পড়াশুনা শেষে যখন আবার দেশে ফিরি তখন পরিবেশ একটু বদলেছে। না-না মালুদের খালু বানানোর জন্য কেউ ব্যস্ত হয়নি। শুধু আমি সবকিছু সহ্য করা কমিয়ে দিয়েছিলাম।

তারপরো কম শুনিনি। আমার পিওন হোক বা ড্রাইভার। ধর্ম ইস্যুতে সুপিরিওরিটি বোধটা টনটনা। রমজানের বাকি সবার কাজ করা গেলেও, আমার কাজের সময় অনীহা।

 অফিসে যখন কোন কড়া অডিটর আসতো আর সে যদি মুসলমান হতো তবে সবাই বলতো, 'খারাপ অডিটর আসছে'। ভুলক্রমে সে যদি অমুসলিম হতো তাহলে বলতো, 'হিন্দু/ক্রিশ্চিয়ান/বৌদ্ধ একটা আসছে। খুব খারাপ।'

####

আমার বাবা বেশ উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। ছোট বেলা থেকে এর ওর কাছ থেকে শুনে আসছি, আমাদের নাকি ভারতে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। সত্যি বলতে, তাদের কথা এতোটা পারসুয়েসিভ ছিলো, মাঝে মাঝে ভাবতাম - বাবা হয়তো বলে না, আসলেই আমাদের অনেক সম্পত্তি 'ওপারে'।

ব্যাপারটা কিন্তু জটিল না! সহয কথায় হিন্দু মানেই ভারত আর ভারত মানেই হিন্দু। ভারতের কিছু হওয়া মানেই দাদাদের ধুঁতিতে টান পড়া।

তবে হ্যাঁ, তালেবান আর মুসলমান কিন্তু এক নয়; বরং সম্পূর্ণ বিপরীত। কেবল, ইসলামের বিদ্বেষী, ধর্মান্ধগোষ্ঠীই  দু'টোকে এক করে ফেলে।

 ইদানিং না কেন জানি সব কিছু সহ্য হয়ে যায়। সবকিছু নতুন করে বুঝতে পারি। মনে হয়, যারা ভারত আর বাংলাদেশি হিন্দু এক করে ফেলে তারা আসলে খুব একটা ভুল না। আদতেই বাংলাদেশি হিন্দুর একটা পা ভারতে থাকে। কারণ, যে পা-টা তাঁদের এখনো শেকড়ে আকড়ে রেখেছে, তা যে কোন সময়ই চাপাতিতে কাটা যেতে পারে।

শুরুতেই বলেছি, মালাওন/মালাউন শব্দটির অর্থ 'অভিশপ্ত'। আসলেই কেউ অভিশপ্ত না হলে, সংখ্যালঘু হিসেবে এই 'অসাম্প্রদায়িক' মৃত্যু উপত্যকায় জন্ম নেয় না।

মন্তব্যসমূহ

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

ওয়েলকাম ব্যাক......। কলম যেন না থামে এবার।

 
ধ্রুব তারা এর ছবি
 

ধন্যবাদ। এবার লেখালেখিটা চালিয়ে যাবারই প্ল্যান

 
মইনুল হক এর ছবি
 

আমি কিছুটা রিলেট করতে পারি , আমার বড় ভাই টুপি আইডিয়ালে পড়াশোনা করেছে । এই টুপি আইডিয়ালে চান্স পাওয়া না পাওয়াটা নিয়ে ছিল একটা অত্যাচার আমার সময়ের ছেলেমেয়েদের জন্য । যাই হোক এই টুপি আইডিয়াল ভেঙে অনেকগুলো স্কুল হয়েছিল , টুপি আইডিয়ালের প্রাক্তন শিক্ষকদের নিয়ে । সেরকম একটিতে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছি । সেখানে একটা ভয়াবহ অত্যাচার ছিল জোহরের নামাজ আদায় করাটা । সব ছেলেমেয়েকে বাধ্য করা হত । অনেক জালি বেতের মার খেয়েছি নামাজ ফাঁকি দিতে গিয়ে । সেদিক থেকে হিন্দু ছেলেদেরকে হিংসা হত । কারন একমাত্র ওদের নামাজ পরা লাগত না । আপনার লেখাটা ভাল লাগল । ধন্যবাদ ।

 
ধ্রুব তারা এর ছবি
 

হুমম অামার অনেক বন্ধুকে নামাজ নামের আতঙ্কের মাঝ থেকে পার হতে দেখেছি

 
মোঃ শাওন মিয়া এর ছবি
 

ভাইরে, ইসলাম ধর্ম কাউকে নিয়ে কটু কথা বলাই এলাও করে না। আর সেখানে আপনার মন ভাঙগার মতো কথা তো অনেক বড় পাপ। ওনারা আর যাই করছিলেন না কেন সেটা ইসলামের কোন আচার আচরণ নয়। ভাই মুসলমান হতে হয়, মুসলমানের ঘরে হলেই আমি মুসলমান সেটা বলা কঠিন। আমি নিযেও ভাল নই। অনেক পরিশ্রম করে একজন মুসলমানের ইমান আর আমল টিকিয়ে রাখতে হয়। ভাই, তাদের খুব অল্পই পাবেন এবং সেই শান্ত প্রকৃতির লোকগুলই সত্যিকার মুসলমান হতে আমৃত্যু চেষ্টা করে।

 
ধ্রুব তারা এর ছবি
 

অনেক পরিশ্রম করে একজন মুসলমানের ইমান আর আমল টিকিয়ে রাখতে হয়। ভাই, তাদের খুব অল্পই পাবেন

মানে আপনি স্বীকার করছেন যে বেশির ভাগ মুস মান কোন জাতের না

 
Kanak Ghosh এর ছবি
 

পড়লাম বাস্তবতার নিড়িখে , অনবদ্য লেখনি । কলম হোক শান দেওয়া তলোয়ারের মত । ধন্যবাদ । নিচে মতামতের ঘরে ( শাওন মিয়া ) ইসলাম নিয়ে অনেক সাফাই গাইছে , ইসলাম এই করে না , সেই করে না । ভাইজান পাবলিক আর খায় না । ইসলামের শক্রই ইসলাম আর কাউকে প্রয়োজন ইসলাম ধ্বংস করার, ইসলাম নিজেকে নিজে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট । দেখেন না সারা পৃথিবীর অশান্তির মুল হোতাই হলো ধর্ম । যেখানে যত গোঁড়ামি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তারাই তত নিকটে ঘৃনা , সন্দেহে ও ভয়ংকর ।

 
ধ্রুব তারা এর ছবি
 

(Y)

 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

Facebook comments

বোর্ডিং কার্ড

ধ্রুব তারা
ধ্রুব তারা এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 11 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2013 - 3:31অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর