নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

চিতোরের রানা প্রতাপঃ অবিস্মরণীয় এক রাজপুত বীর



১৫২৭ সালের ২৩ শে জুলাই, বিখ্যাত যুদ্ধক্ষেত্র রাজস্থানের হলদিঘাটি প্রান্তর। একপাশে কামান আর বন্দুক সজ্জিত লক্ষাধিক মোগল সৈন্য। সকলের মুখে কেমন জানি তাচ্ছিল্যের হাসি। কারণ অপর পারে রয়েছে মাত্র হাজার বিশেক রাজপুত। নেই কামান বা বন্দুক। এই যুদ্ধে জয় তাদের যে হাতের মুঠোয় সে ব্যাপারে তারা মোটামুটি নিশ্চিত। যেখানে আজ প্রধান সেনাপতি রাজা মানসিংহ নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত, সেখানে তাদীর জয় আর ঠেকায় কে?

সৈনিকদের মতো অতোটা নিশ্চিত নন রাজা মানসিংহ। যুদ্ধ তাঁর জীবনের আরেক নাম। শতাধিক
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাঁর ভাণ্ডারে। নিজে রাজপুত তিনি।ভালোমতোই জানেন রাজপুতেরা একমাত্র ভগবান শিব ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নোয়ায় না। জীবন আর মৃত্যু তাদের কাছে সমার্থক। ইতিহাসে কখনোই হার মেনে নেয়নি তারা। আর এই মেবারের রাজপুতেরা আরো এককাঠি সরেস। সম্মান হারোনোর চেয়ে মৃত্যুকেই তারা বড় বেশী আপন বলে মনে করে। অষ্টম শতকে তারা তাদের দেশে গ্রীক আক্রমণ প্রতিহত করে। তাদের রাণী কর্ণাবতী যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো লড়াই করেন। সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর লালসা হতে রক্ষা পেতে রাণী পদ্মাবতী ও শত শত রাজপুত কন্যারা জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে ঝাপ দিয়ে জীবনের বিনিময়ে সতীত্ব রক্ষা করেন। এমনই এক লড়াকু জাতি তারা।অনেক ঐতিহাসিকের মতে সতীদাহ প্রথাটি এখান থেকেই উৎপত্তি হয়। কারণ প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় টেক্সট বেদ বা পুরাণে এই প্রথাটির উল্লেখ নেই।

সম্রাট আকবর ছিলেন বাস্তবিকই বিচক্ষণ। তিনি বলের পরিবর্তে ছলের আশ্রয় নিলেন।রাজপুত রাজা টোডরমল আর বীরবলের ঠাই হলো নবুরত্ন সভায়। মহারাণী করলেন রাজা ভগবান দাসের কন্যা রাজকুমারী যোধাবাইকে। আর প্রধান সেনাপতি পদে নিয়োগ দিলেন তৎকালীন ভারতের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা রাজা মানসিংহকে। সর্বতোভাবে চেষ্টা করলেন ছলে,বলে,কৌশলে অধিকার করতে এই অজেয় যোদ্ধা জাতিটিকে। অধিকাংশ রাজপুত রাজারা আকবরের বশ্যতা মেনে নিলেও বেঁকে বসেন চিতোরের রানা প্রতাপ।মোঘলদের তিনি ভারতীয় বলে জ্ঞান করতেন না।পছন্দও করতেন না একেবারেই। তাঁর দৃষ্টিতে মোঘলরা ছিলো স্রেফ বৈদেশিক হানাদার। রানা প্রতাপকে নানা ধরণের প্রলোভন দেখানো হয়, হুমকিও দেয়া হয়। কিন্তু কিছুতেই তাঁকে বৈশ্যতা স্বীকারে রাজি করানো গেলোনা। সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে সম্রাট আকবর সেনাপতি মানসিংহকে পাঠান দূত হিসেবে। মানসিংহকে যথেষ্ঠ পরিমাণ আপ্যায়িত করার পরেও তাঁর সাথে এক টেবিলে বসে আহার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান রানা। এতে বিস্মিত হয়ে কারণ জিজ্ঞেস করলে রানা উত্তর দেন,

…… বিদেশী শত্রুর নিকট আত্মমর্যাদা বিলিয়ে দেয়া মানুষের সাথে আমি এক পাতে খেতে বসতে পারিনা।
প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েই দিল্লী ফিরে যান মানহিংহ। গিয়ে সবিস্তারে সবকিছু খুলে বলেন সম্রাটকে। সব শুনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন সম্রাট। রানাকে দমনের জন্য মানসিংহ আর শাহজাদা সেলিমের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। প্রতাপও বুঝতে পারেন যে লড়াই অত্যাসন্ন। আর পিছু হটা সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। তিনিও নির্দেশ দিলেন তাঁর বাহিনীকে প্রস্তুত হতে।

অবশেষে এলো সেই চূড়ান্ত দিন। ১৫২৭ সালের ২৩ শে জুলাই। বিখ্যাত যুদ্ধক্ষেত্র রাজস্থানের হলদিঘাটিতে সর্বসাকূল্যে হাজার বিশেক রাজপুত সেনা প্রতাপের নেতৃত্বে কামান বন্দুকে সজ্জিত বিশাল মোঘল বাহিনীর মুখোমুখি হয়। শুরু হয় ইতিহাস বিখ্যাত এক অসম লড়াই। বীরের মতো লড়াই করতে থাকে রাজপুতেরা। কিন্তু কামান , বন্দুকের সামনে তলোয়ার আর বর্শা দিয়ে কতোক্ষণ টেকা যায়? দলে দলে মারা পড়তে লাগলো তারা। এমন অবস্থায় প্রতাপ দেখতে পেলেন মানসিংহকে। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বিশাল হাতীর পিঠে বসে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন তিনি। প্রতাপ জানতেন যে মানসিংহ শুধু বড় যোদ্ধাই নন, একজন যোগ্য সেনাপতিও বটে। তাঁর যদি পতন হয়, তাহলে মোঘল বাহিনীর মনোবল অনেকটাই ভেঙে যাবে। নিজের যুদ্ধ অশ্ব চেতকের পিঠে বসে হাতের বর্শা উচিয়ে মানসিংহের দিকে ছুটে যান তিনি। ছুড়ে মারেন বর্শা। কিন্তু ঠিক সেই মূহুর্তে হাতীটা সামান্য সরে যায়,বর্শার আঘাত মানসিংহের বুকে না লেগে তাঁর দেহরক্ষীর গায়ে লাগে। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি।

এদিকে মোঘল সৈন্যদের হাতে রাজপুতদের অবস্থা তখন শোচনীয়।চারপাশ থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেছে তারা।হঠাত একটি গুলির আঘাতে রানা আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। রানাকে বাচাতে তাঁর সেনাপতি ও বন্ধু মানা প্রতাপের শিরস্ত্রাণ নিজের মাথায় পড়ে নেন। তাকেই রানা প্রতাপ মনে করে তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় মোঘলেরা। এই সূযোগে রানার দেহরক্ষীরা তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। যুদ্ধে রাজপুতদের পরাজয় হয়। পতন হয় চিতোরের। জংগলে আশ্রয় নেন স্বপরিবারে রানা ও তাঁর অনুসারীরা। পালিয়ে বেড়াতে লাগলেন তারা। কিন্তু পেছনে মোঘল বাহিনীও নাছোড়বান্দা। সম্রাটের আদেশ যেভাবেই হউক জীবিত অবস্থায় আটক করতে হবে এই উদ্যত রাজপুত রাজাকে। রানা প্রতাপ বুঝতে পারলেন, এভাবে পালিয়ে জীবন বাচানো তাঁর মতো বীরের পক্ষে অসম্ভব। প্রয়োজনে জীবন দেবেন, তবুও মাথা নত করবেননা। অবশিষ্ট শক্তি নিয়ে তিনি রুখে দাড়ালেন মোগল বাহিনীর।বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তারা। দেখতে দেখতে তাঁর অবশিষ্ট সৈন্যও নিঃশেষ হয়ে এলো। তিনি নিজেও প্রায় ধরা পড়ে যাচ্ছিলেন। হঠাত গঠলো একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ঝাকে ঝাকে তীর আর বর্শা এসে বিদ্ধ করতে লাগলো মোগলদের। জংগলে থাকার সময়ে প্রতাপের বাহিনীর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো স্থানীয় ভীল আদিবাসীদের।বন্ধুদের বিপদে পড়তে দেখে তারাই ছুটে এসেছে অস্ত্র হাতে। ভীলরা আদিবাসী হলেও ভয়ঙ্কর যোদ্ধা। সংখ্যায়ও ছিলো অনেক। মোগলদের রীতিমতো কচুকাটা করে তারা। উদ্ধার করে প্রতাপদের।আশ্রয় দেয় নিজেদের কাছে।

ভীলদের আশ্রয়ে নিরাপদে থকলেও স্বাধীনতার বাসনা তাঁকে কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে। কিন্তু কিছুই যে করতে পারছেন না। এমন সময় ঘটলো আরেকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। চিতরের এক ধণাড্য ব্যবসায়ী প্রতাপের সাথে দেখা করেন। তাঁর হাতে তুলে দেন তাঁর আজীবন সঞ্চিত সকল সম্পদ স্বাধীনতার যুদ্ধের জন্য। নতুন উদ্যমে কাজে নেমে পড়েন রানা প্রতাপ। ভীলদের নিয়েই গঠন করেন তাঁর নতুন বাহিনী। শিবাজীর মতো একই কায়দায় গেরিলা কৌশলে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেন মোঘল বাহিনীকে। তাঁর নামে কেপে উঠত মোগল শিবির। যেকোন মূল্যে তাঁকে খতম করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। প্রতাপকে কোনদিনই গ্রেফতার করতে পারেননি তারা।

দীর্ঘ ২০ বছর মোগলদের বিরুদ্ধে এই অক্লান্ত সংগ্রামের পরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় চির বিদায় দেন রানা প্রতাপ। কিন্তু দেশপ্রেম আর সাহসিকতার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রইলো ইতিহাসের পাতায়।

বিভাগ: 

Comments

পথচারী এর ছবি
 

রাজা মানসিংহ জন্মগ্রহন করেন ১৫৫০ সালে। রানাপ্রতাপের জন্ম ১৫৪০ সালে। হলদিঘাটের যুদ্ধ হয় ১৫৭৬ সালে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজেশ পাল
রাজেশ পাল এর ছবি
Offline
Last seen: 10 months 2 দিন ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 22, 2014 - 8:54পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর