নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বই পরিচিতিঃ এ হিস্ট্রি অব গড | আহমেদ দীন রুমি


জ্ঞানগম্যির আশির্বাদে অজস্র সমস্যার সমাধান মিলেছে। তারপরও একটা বিষয় বোধ হয় আজও ফয়সালা করা হয়নি। সময়ের স্রোত বেয়ে ধারণার বিবর্তন ঘটেছে মাত্র। বলা হচ্ছে ধর্মের কথাই। অথচ এই ধর্মই বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ইতিহাসের পট পরিবর্তন করেছে। ত্যাগ আর মানবতার গল্প আছে, আবার অপব্যাখ্যা দিয়ে হিংস্রতার নজীরও কম নেই। এভাবে মানুষের ইতিহাসের মতোই গড়ে উঠেছে ঈশ্বরের ইতিহাস। ঠিক এমন একটি বিষয় নিয়ে লেখা বই- “এ হিস্ট্রি অব গড’। লেখিকা ক্যারেন আর্মস্ট্রং- এর দীর্ঘ গবেষণায় আব্রাহামিক ধর্মগুলোর বিচিত্র গল্প।

ধারণা করা হয়, আদিতে মানুষ একজন পরম উপাস্য (supreme deity)- এর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতো। কালক্রমে বিভিন্ন গুণে বিশেষায়িত দেবতাদের দ্বারা পরম ঈশ্বর (High God or sky God) প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ প্যালিওলিথিক যুগে কৃষির বিকাশ ঘটার সময় High God কে ম্লান করে দিয়ে সামনে আসে Great mother। উর্বরতার প্রতীক হয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা দেবীমূর্তি।

সময়ের পালাবদলে আবির্ভূত হন বা’আল, তিয়ামাত, ইয়া, আপসু, মারদুক দেবতাগণ। মানুষের মতোন এদেরও দখলদারিত্বের প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। কেউ থাকে, কেউ হারিয়ে যায়। খ্রিষ্টপূর্ব বিশ শতকের মাঝামাঝি আব্রাহাম কানানে বসতি গড়েছিলেন। তিঁনি ছিলেন “এল” গডের উপাসক।

খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ সালের দিকে আব্রাহামের বংশধর বলে দাবীদার গোত্রগুলো মিশর থেকে কানানে আসে। ইয়াহওয়েহ এর উপাসক মোজেস এদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৭৪২ সালে সলোমনও ছিলেন এই ইয়াহওয়েহ এর অনুগত। মূলত একেশ্বরবাদের সূচনালগ্ন এভাবেই।

খ্রিষ্টপূর্ব পয়লা শতকে ইহুদীবাদ ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করে। বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়ায়। এসময় গ্রিক চিন্তাধারাতেও উকি মারেন ঈশ্বর। দার্শনিক প্লটিনাসের দ্যা ওয়ান এবং এরিস্টটলের Unmoved mover এর ধারণা ব্যাপকভাবে নাড়া দেয় চিন্তাশীলদের। এরপরেই আসে খ্রিষ্টধর্ম। জেসাসের জন্মরহস্য, আকস্মিক ক্রুশবিদ্ধ হওয়া এবং পুনরুত্থানের ধারণা মিলে জন্ম নেয় ট্রিনিটি। পিতা, পুত্র আর পবিত্র আত্মা।

৬১০ সালে ইসলামের নবী মুহাম্মদের আত্মপ্রকাশ। বিস্ময়কর দ্রুততার সাথে আরবরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে বিজয় পতাকা উড়ায়। সাথে নিয়ে যায় এক আল্লাহ- এর ধারণা। খোলাফায়ে রাশেদিন পরবর্তী উমাইয়া এবং আব্বাসীয় শাসনকালে রাজনৈতিক ইসলাম ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলামকেও ব্যাখ্যা করা যায় নানা ভাবে। এজন্য খ্রিষ্টানদের ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট, মেথডিস্ট ও ব্যাপ্টিস্ট এর মতো মুসলিমরা সুন্নি ও শিয়া এর মতো বেশ কিছু সেক্ট এ বিভক্ত।

নবম শতকের পরে এসে দার্শনিকদের বেশ দোড়-ঝাপ চলে ঈশ্বর নিয়ে। ইবনে সিনা, ইমাম গাজ্জালি, আল-ফারাবী, ইবনে রুশদ ব্যাপক চিন্তা করেন। পরবর্তীতে যা মাইমোনাইডস, টমাস একুইনাস, আলবার্ট দ্যা গ্রেটকেও প্রভাবিত করে। প্লেটো কিংবা এরিস্টটল এর ধারণা আরবীয়দের স্পর্শে ঈশ্বর শুধু ঈশ্বর হয়ে থাকেনি। আত্মপ্রকাশ করেছেন সকল ধর্মের দর্শন হিশেবে।
এরপরেও থেমে থাকেনি চিন্তার চাকা। অতীন্দ্রিয়বাদীদের কাছে ধর্ম অন্যরকম ব্যাখ্যা লাভ করে। ইহুদী, খ্রিষ্টধর্ম এবং ইসলাম- তিনটি ধর্মেই মিস্টিসিজম দারুণরকম জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে ক্রুসেড পরবর্তী অস্থিরতায়। সুহরাওয়ার্দী, ইবনুল আরাবী, রুমি, শামস তাবরিজ কিংবা মানসুর হাল্লাজের মতো মুসলমানরা যেমন ছিলো, ছিলো মেইস্তার একহার্ত, জোহান্স টাওলার, হেনরি সুসো, রিচার্ড রোলে এবং ডেম জুলিয়ানের মতো বাঘা বাঘা পশ্চিমারাও। ঈশ্বর এখানে প্রেমিক হিশেবেই মুখ্য।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতক ঈশ্বরবাদীদের জন্য চরম সিদ্ধান্তমূলক। মুসলমান আর ইহুদীদের খেদিয়ে খ্রিস্টানজাত তখন ইউরোপের নায়ক। একদিকে আতঙ্ক আর হতাশা, অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সমাজে ঈশ্বর তৃতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। অথবা রেনেসাঁর জোয়ার সাঁতরে মানুষ যুক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে আলোকন চেয়েছে। এর ধারাবাহিতায় আসেন স্পিনোজা, দেকার্ত, হেগেলের মতো যুক্তিনিষ্ঠ দার্শনিক। সংস্কারকদের হাতে বেশ ভালোভাবেই নয়া রূপ নেন ঈশ্বর।
ঊনবিংশ শতকে প্রবেশ করে পুর্ববর্তী সবকিছু আরেকদফা সমালোচনায় আসেন। নাস্তিকতা একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়। অথচ কিছুদিন আগেও সেটা ছিলো খুব দুর্লভ। ম্যাটারিয়ালিজমের তোপে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে ভাববাদ। ডারউইনের জীববিবর্তন, কার্ল মার্ক্স- এর সমাজ বিবর্তন এবং ফ্রয়েডের মনোবিবর্তন দারুণভাবে ঝাঁকি দেয় প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যকে। অন্যদিকে মৌলবাদের উত্থান প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রচলিত বিশ্বাসকে। সে হিশেবে ঈশ্বর কি আরো একদফা সংস্কারের মুখোমুখি হবেন?

সন্দেহ নেই, “এ হিস্ট্রি অব গড” লেখিকার দীর্ঘসময়ের গবেষণার ফসল। এতেও সন্দেহ নেই, সভ্যতার সকাল থেকে আজ অবধি মানুষ আর ধর্মের সম্পর্ক অসাধারণ নিপুণতার সাথে তুলে ধরেছেন। তারপরও সমালোচনা করতে গেলে বলতে হবে, বইয়ের শুরুটা আরো সুন্দরভাবে করা যেতো। তাছাড়া জরাথ্রুস্টবাদ ও মিথরাসবাদের কথা একেবারেই বলা হয়নি বইটিতে। যদিও এরা একেশ্বরবাদী ধর্ম ছিলো এবং ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে পরবর্তী একেশ্বরবাদী ধর্মগুলোকে। প্রাচ্যের হিন্দু এবং বৌদ্ধধর্ম নিয়ে তেমন আলোচনা করা হয় নি। দায়সারাভাবে দু’একবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। সে হিশেবে নাম “এ হিস্ট্রি অব গড” হলেও বইটা আচরণ করেছে “এ হিস্ট্রি অব আব্রাহামিক গড” এর মতো।

যাহোক, রুডলফ অটো-র “দ্যা আইডিয়া অব দ্যা হোলি” প্রকাশের প্রায় এক শতাব্দী পরে ক্যারেন আর্মস্ট্রং এর “এ হিস্ট্রি অব গড” শুধুমাত্র বিষয়বস্তুর জন্যই না, গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতার জন্যও শ্রেষ্ঠত্বের দাবী রাখে। যেখানে সমাজের নব্বইভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত, সেখানে ঈশ্বর বিষয়টা নিয়ে নতুন করে আরো একবার ভেবে দেখা উচিৎ। অন্তত ইতিহাস থেকে পাঠ নেয়া দরকার। সে দিক থেকে বইটি অবশ্যই অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ক্যারেন আর্মস্ট্রং বর্তমান বিশ্বে ধর্মতত্ত্ব গবেষণায় এক অনন্য নাম। “এ হিস্ট্রি অব গড” ছাড়াও তাঁর বেস্টসেলার বইগুলোর মধ্যে “এ শর্ট হিস্ট্রি অব মিথ”, মুহাম্মদ, বুদ্ধ, বাইবেল, ইসলাম প্রভৃতি প্রধান। বস্তুবাদী বিশ্বে নিহিলিজম যখন

বিভাগ: 

Comments

বেহুলার ভেলা এর ছবি
 

ধারণা করা হয়, আদিতে মানুষ একজন পরম উপাস্য (supreme deity)- এর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতো।

কে এটা ধারণা করেছে?

সকল ধর্মই কিছু কুসংস্কারের সমষ্টি।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মাটির ছেলে
মাটির ছেলে এর ছবি
Offline
Last seen: 3 years 3 months ago
Joined: শনিবার, মে 3, 2014 - 11:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর