নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজিব আহমেদ
  • কাঠমোল্লা
  • পৃথু স্যন্যাল
  • আল আমিন হোসেন মৃধা
  • নিরব
  • সাগর স্পর্শ
  • দ্বিতীয়নাম
  • নুর নবী দুলাল
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ
  • রাজদীপ চক্রবর্তী
  • নাজমুল-শ্রাবণ
  • চিন্ময় ভট্টাচার্য
  • নেইমানুষ
  • পরাজিত শুভ

আপনি এখানে

"মনরো নীতি" ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ


প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কথা এলেই মাথায় আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেনো শুরুতে যুদ্ধের ময়দানে ছিল না। খুব স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন কারণ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এখন আমরা যুদ্ধের কথা চিন্তা করতে পারি না। তবে এখানে কথা হচ্ছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তখনো যুক্তরাষ্ট্র তাদের শক্তি প্রদর্শনে নামেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষে যোগ দেয়। এবং এ কারণেই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ব্রিটেন ঘুরে দাঁড়ায় এবং অক্ষশক্তি পরাজিত হয়। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র না থাকার আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে "মনরো নীতি বা Monroe Doctrine"। এই মনরো নীতি প্রায় ১০০ বছর ধরে আমেরিকাকে ইউরোপীয় রাজনীতি থেকে বিরত রেখেছিল।

মনরো নীতি আসলে কি?
১৭৭৫ সালে আমেরিকা ফ্রান্সের সহযোগীতায় ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৮১৭ সালে 'জেমস মনরো' যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। ১৮২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকেন। তাকে বলা হয় 'যুক্তরাষ্ট্রের শেষ প্রতিষ্ঠাতা"। মনরো নীতি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত একটি বিশেষ পররাষ্ট্র নীতি যেটি ২ ডিসেম্বর, ১৮২৩ সালে প্রকাশ করা হয়। এ নীতি অনুসারে সমগ্র আমেরিকার (উত্তর ও দক্ষিণ উভয় আমেরিকায়) যে কোন বিষয়ে ইউরোপের কোন দেশের যেকোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা কলোনি স্থাপন প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকট অবৈধ হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইউরোপের দেশসমূহের কোন বিষয়ে বা তাদের কলোনিসমূহ সংক্রান্ত কোন হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। এমন এক সময়ে নীতিটি ঘোষিত হয়েছিল যখন কিউবা ও পুয়ের্তো রিকো বাদে সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন কলোনি স্প্যানিশ সাম্রাজ্য ও পর্তুগীজ সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছে। এ নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সহায়তায় আমেরিকাকে বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখতে এবং সেখানে তার একক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো এ নীতিটি ঘোষণা করেন বলে তার নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছে মনরো নীতি। এ নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভৌগলিক অবস্থানকে আশির্বাদ হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের বহির্বিশ্বের রাজনীতি এবং সবরকম যুদ্ধ থেকে বিরত রেখেছিল সেই সাথে আমেরিকা মহাদেশে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। মনরো নীতির আরেকটা কথা ছিল যে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ইউরোপীয় শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের উপর নাক গলাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ইউরোপীয় রাজনীতিতে থাকবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ
The entry of the USA in WWI
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন উড্রো উইলসন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পর্দার ওপাশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব পর্যবেক্ষণ করছিল। কিন্তু তারা যুদ্ধের দিকে আগায়নি। যদিও ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সাথে তখন তাদের ভাল সম্পর্ক। তারা দূরেই থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু সমস্যাটা তৈরি করল জার্মানি। এবং একরকম ইচ্ছে করেই তারা সাপের গর্তে হাত ঢুকালো।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি সাবমেরিন প্রযুক্তির দিকে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। তারা একটা নতুন পরিকল্পনা করল। আমরা জানি ব্রিটেনের মূল ভূমি ইউরোপের মূলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন। এবং ব্রিটেনে কোন খাদ্য উৎপন্ন হয় না। সব মধ্য ইউরোপ থেকে যায়। এবং ব্রিটেনের মূল শক্তি হচ্ছে নৌবাহিনী। তাই জার্মানী ঠিক করে যদি তারা ব্রিটেনের নৌ শক্তিকে ধ্বংস করতে পারে এবং ব্রিটেনে খাবার পৌছানো বন্ধ করতে পারে তাহলে এ যুদ্ধে অক্ষশক্তির বিজয় সময়ের ব্যাপার। জার্মানী এটাও জানত যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবে যুদ্ধে যোগ দেয় তাহলে যুদ্ধের পরিস্থিতি পালটে যেতে পারে। জার্মানী প্রথমে ব্রিটেনে খাদ্য সরবরাহ বাধা দেয়ায় পরিকল্পনা হাতে নেয়। এই সময়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১৯১৫ সালে জার্মানির টর্পেডোর আঘাতে ব্রিটিশ জাহাজ "Lusitania" ধ্বংস হয় যেখানে প্রচুর পরিমানে খাদ্য, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র ছিল। শুধু তাই নয় এই জাহাজে অবস্থানরত প্রায় ২০০০ জন মানুষ মারা যায় যাদের মধ্যে ১২৮ জন ছিল মার্কিন। এবার নড়েচড়ে বসেন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন। তিনি ঠিক করেন যুক্তরাষ্ট্রকে এক পক্ষ বেছে নিতে হবে নয়ত তাদের বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে।
.
এরপর ৩১ মে ১৮১৬ সালের 'জাটল্যাণ্ড যুদ্ধ (The battle of Jutland)
সেসময় জার্মান অ্যাডমিরাল ছিলে ফন শের (Von Scheer)। সেসময় জার্মানি আর ব্রিটেনের নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ হচ্ছিলো। ফন শের চেয়েছিলেন তারা যদি ব্রিটেন জাহাজগুলোকে তাদের বেস থেকে দূরে রাখতে পারে তবে জার্মানি সহজে ব্রিটেন দখল করতে পারবে। কিন্তু যুদ্ধে জার্মানি তাদের জয় ঘোষনা করলেও তারা ব্রিটেনের নৌবাহিনী সম্পূর্ন ধ্বংস করতে পারেনি। যুদ্ধে জার্মানীর ১১ টা শিপের জায়গায় ব্রিটেনের ১৪ টা ধ্বংস হয়।
জাটল্যাণ্ড যুদ্ধের পর জার্মানি নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেটায় তারা কোন বাধা এবং বাছ বিচার ছাড়াই নিয়মিত ব্রিটেনের বাণিজ্যিক জাহাজ ধ্বংসের পরিকল্পনা হাতে নেয়। জার্মানি যদিও জানত এটা করা মানে যুক্তরাষ্ট্রকে হাত ধরে যুদ্ধে ডেকে আনা। ১৯১৭ সালের জানুয়ারিতে জার্মানি ব্রিটেনের ৪৩০ টা জাহাজ ধ্বংস করে যার ফলে ব্রিটেনে প্রায় ৬ সপ্তাহ ভূট্টার সংকট ছিল। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রি ডেভিদ লয়েডের পরিকল্পনার ফলে বেচে যায় ব্রিটেন। তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ গুলোর সাথে নিরাপত্তার জন্য বাড়তি সশস্ত্র জাহাজের ব্যবস্থা করেন। ফলে পরবর্তিতে খাদ্য সংকট দূর হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে না প্রবেশের ব্যাপারে জার্মানির ভরসা ছিল মেক্সিকো। জার্মানি মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করে এবং প্রতিজ্ঞা করে মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারানো তাদের টেক্সাস, অ্যারিজোনা এবং নিউ মেক্সিকো রাজ্য পুনরুদ্ধার করে দিবে। এছাড়া যেহতু সেসময় রাশিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন একনায়ক সম্রাট জার (Tsar) সেহেতু একদিকে জার্মানি বিশ্বাস করত মেক্সিকো আমেরিকারকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনই রাশিয়ার সাথে মিলিত হয়ে যুদ্ধ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রেরও কখনোই ইচ্ছে ছিল না রাশিয়ার সাথে একপক্ষ হয়ে যুদ্ধ করার। কিন্তু পরিস্থিতি পালটে যায় যখন রাশিয়ায় বিপ্লব সংগঠিত হয় এবং সম্রাট জারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়।
.
এবং এভাবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষে যোগ দেয়। তাদের সাহায্যটা সামরিক দিক দিয়ে যদিও কম ছিল কিন্তু তারা ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকে প্রচুন পরিমানে খাদ্য, বাণিজ্যিক জাহাজ, অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। মূলত জার্মানির সাবমেরিন নিয়ে আটলান্টিক এ ব্রিটেনের বাণিজ্যিক জাহাজ ধ্বংসই যুক্তরাষ্ট্রকে এ যুদ্ধে যোগ দানে বাধ্য করে। এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত পরাজয় ঘটে জার্মানি এবং অক্ষশক্তির।
.
পরিশিষ্ট ১: মনরো নীতি বা Monroe Doctrine
কি ছিল এটাতে তা পুর্বেই আলোচনা করেছি। যদিও এটা পুরোটা কূটনৈতিক ভাষায় লেখা তবু এর মূল কথাগুলো ছিল:
"... The occasion has been judged proper for asserting, as a principle in which the rights and interests of the United States are involved, that the American continents, by the free and independent condition which they have assumed and maintain, are henceforth not to be considered as subjects for future colonization by any European powers.
... We owe it, therefore, to candor and to the amicable relations existing between the United States and those powers to declare that we should consider any attempt on their part to extend their system to any portion of this hemisphere as dangerous to our peace and safety. With the existing colonies or dependencies of any European power we have not interfered and shall not interfere. But with the Governments who have declared their independence and maintained it, and whose independence we have, on great consideration and on just principles, acknowledged, we could not view any interposition for the purpose of oppressing them, or controlling in any other manner their destiny, by any European power in any other light than as the manifestation of an unfriendly disposition toward the United States."
সমাপ্ত
.
রেফারেন্স:
১. International Relations Between the two world war by E.H. Carr
২. World Order by Henry Kisseinger
৩. Modern World History by Norman Lowe
৪. History of IR by Abdul Matin
এবং উইকিপিডিয়া, অনলাইন নিউজ

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলের গান
জলের গান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 1, 2013 - 4:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর