নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

জঙ্গিবাদ বিকাশের দায় : রাষ্ট্র, রাজনীতি, সুশীল ও বুদ্ধিজীবি সমাজের


যেখানেই বড় আকারের নাশকতা ও জঙ্গি হামলা ঘটছে সেখানেই আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে গতকালের হামলার পর সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও করিমগঞ্জের গুণধর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হান্নান ভূইয়া বাবুলের বাড়িতে, র‍্যাব ও পুলিশ তাকে আটক করেছে। গুলশান ট্রাজেডিতে উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে আসা অভিযানে নিহত জঙ্গীদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড রাষ্ট্রের সাথে কোন না কোনভাবে সংশ্লিষ্টতা আমরা দেখতে পাই। এর আগের জঙ্গি হামলাগুলোতেও আমরা আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছি। ব্লগার নিলয় নীল ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার সাথে উপমন্ত্রীর ভাতিজার সংশ্লিষ্টতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল। কঠোর নিরাপত্তা টোপের মধ্যে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা রাষ্ট্রের প্রসাশনিক সহযোগীতা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব না। বইমেলায় অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ড নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বিশ্লেষন আমাদের এই রকম তথ্যই সামনে নিয়ে আসছে।

ধর্মীয় মৌলবাদের উপস্থিতি সকল সমাজেই আছে। মৌলবাদের ধর্ম হচ্ছে সুযোগের অপেক্ষায় ঘাপটি মেরে বসে থাকা। রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা পেলেই চাঙা হয়ে উঠে মৌলবাদ। ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী মৌলবাদ অনেকটা ভাইরাসের মত। সমাজে সে নিষ্ক্রিয়ভাবে বেঁচে থাকতে পারে দীর্ঘকাল ধরে। বেঁচে থাকার উপদান পায় রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট রাজনীতি থেকে। রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সে অবস্থান করার চেষ্টা করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়। রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া পৃথিবীর কোন ধরনের মৌলবাদ জঙ্গিবাদ হয়ে উঠতে পারেনা।

আওয়ামী ক্ষমতার পুর্বে বিএনপি-জামায়াতের হাত ধরে ধর্মীয় মৌলবাদ আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মানুষের তীব্র প্রতিবাদ, বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রতিরোধ, বাম রাজনৈতিক দলগুলোর গণমুখী জঙ্গিবিরোধী কর্মসূচী ও সর্বোপরি বুদ্ধিজীবি সমাজের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই সময়ের জঙ্গিবাদকে বিএনপি দমন করতে বাধ্য হয়েছিল। কথিত মিডিয়ার সৃষ্টি বাংলা ভাই ও তার নেটওয়ার্ককে বিএনপি সমূলে উৎপাটন করার উদ্যোগ নিয়েছিল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুব দ্রুত সাফল্য লাভ করেছিল এই কাজে রাষ্ট্রের আগ্রহের কারনে। রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন রাজনীতির আশ্রয় পায়নি বলেই খুব কম সময়ে জঙ্গিবাদের গাছটির গোড়া কেটে ফেলা হয়েছিল তখন। কিন্তু শিঁকড় ঠিকই থেকে গিয়েছিল। সেই শিঁকড় আওয়ামী ব্যবস্থাপনায় পানি পেয়ে আবার বেড়ে উঠেছে। রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের নিবিঢ় সান্নিধ্যে খুব অল্প সময়ে পুর্বের চেয়ে আরো সুসংগঠিতভাবে জঙ্গিবাদ ও এর কার্যক্রম বিস্তৃতি পেয়েছে।

শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও বুদ্ধিজীবি শ্রেনীর নির্লিপ্ততার কারণে এবং আওয়ামী রাজনীতির সুযোগ নিয়ে দেশে জঙ্গিবাদ আজ যে কোন সময়ের চেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এখন আর জঙ্গিবাদ বিএনপি-জামায়াতের উপর ভর করে বিষ ছড়াচ্ছে না। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি'র সেই শক্তিও তেমনটা নেই। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে জঙ্গিবাদ কার্যক্রমে নিরব সমর্থন অবশ্যই আছে বিএনপি'র, পাশাপাশি জামায়াত তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে প্রতিহিংসা চরিতার্থতায় কাজে লাগাচ্ছে। জঙ্গিবাদে তাদের প্রত্যক্ষ্য ইন্ধন আছে, বিনিয়োগ আছে। এক সময়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি দেশ ও মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র দৃশ্যমান কমিটমেন্ট দেখাতে পারেনি, জঙ্গিবাদের নীল বিষে ক্ষত-বিক্ষত দেশের এমন পরিস্থিতিতে তাদের শক্তিশালী কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী নাই। বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায় অতীতে জঙ্গিবাদের সাথে এত বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে, বর্তমানে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবী, চাপ থাকা সত্বেও দলকে জামায়াত ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থেকে বের করে এনে দেশ ও দেশের মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্খা বাস্তবায়নে, জঙ্গিবাদের বিপক্ষে রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছে না। অতীতের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলটির বিরোধী শক্তি হিসাবে যতটুকু ভুমিকা রাখা উচিত ও সুযোগ ছিল তার ধারে কাছেও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বাম দলগুলো আওয়ামী তোষন করতে করতে এতটাই সাইনবোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে যে- জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ভুমিকা রাখাকে আওয়ামী বিরোধীতা মনে করছে। বাম জোটের অতীতের মত জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদ বিরোধীতার মত শক্তিশালী কোন কর্মসুচীতে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা হালুয়া-রুটির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। আজকের পরিস্থিতিতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় থাকত, আর আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকত; জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সরকার ও রাষ্ট্র কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়ত। বর্তমানে আওয়ামী তাবেদারীতে আক্রান্ত দেশের বুদ্ধিজীবি সমাজ জঙ্গিবাদের বিপক্ষে এখনকার মত থিতিয়ে থাকত না। অতীতে আমরা এমনটাই দেখেছি। বিরোধী রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের ফারাক আকাশ-পাতাল। ক্ষমতার লোভ সেক্যুলার আওয়ামীলীগকে প্রতিক্রিয়াশীল আওয়ামীলীগে পরিণত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাক্সে বন্দী করে ধর্মীয় চেতনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত এই দলটি। সেক্যুলার শেখ হাসিনা মুফতি শেখ হাসিনায় রূপান্তরিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সৌদিনীতি অনুসরণ করছে। জামায়াত-হেফাজতের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছেন তিনি। সেক্যুলার আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক মেনিফেস্টোকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে জামায়াত-হেফাজতের রাজনৈতিক মেনিফেস্টো অনুযায়ী দেশ চালাচ্ছেন তিনি। জনগণকে মদিনা সনদের স্বপ্ন দেখিয়ে এদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের শাসন ক্ষমতায় না আসতে পারার অভাব পুরণ করছেন শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামীলীগ। তিনি মনে করছেন, বোকা জনগণ এ-তে বেজায় খুশি! ধর্মকে দিল্লিকা লাড্ডু বানানোর মত বোকামী করে শেখ হাসিনা দেশের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন। যে ভোটের রাজনীতির কথা চিন্তা করে অসাম্প্রদায়িক ও সেক্যুলার নীতি থেকে শেখ হাসিনা পিছিয়ে এসে ধর্মের আশ্রয় নিয়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে কলংকিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে বাঁকা পথে হাটার চিন্তা করেছেন, সেই ভোট আওয়ামীলীগ বা শেখ হাসিনা কখনই আশা করতে পারেন না।

একটা দেশের বড় আকারের রাজনৈতিক, সামাজিক সংকটে রাজনৈতিক দলগুলো যখন উপর্যুপরি ব্যর্থ হয়, সেই সঙ্কট থেকে উত্তরণে বুদ্ধিজীবি সমাজের ভুমিকা অপরিহার্য্য হয়ে উঠে। কোন দেশের সক্রিয় ও শক্তিশালী বুদ্ধিজীবি সমাজ না থাকলে সেই দেশ ক্রমশঃ বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পতিত হবেই। শক্তিশালী বুদ্ধিজীবি সমাজ রাজনীতির অপচর্চা থেকে নিবৃত্ত করে। রাজনৈতিক দল যতটুকু তার বিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবেলা করতে ভয় পায় তারচেয়ে অধিক ভয় পায় দলনিরপেক্ষ ও বুদ্ধিদীপ্ত সূশীল ও বুদ্ধিজীবি সমাজের সমালোচনার মুখোমুখি হতে। দূর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবি সমাজ লাল, সাদা, নীল রঙের আবরনে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে ব্যস্ত থাকে। দেশের চরম সংকটময় মুহুর্তেও অন্ধের মত স্বীয় সমর্থিত রাজনৈতিক কর্মসুচী বাস্তবায়ন করা তাদের একমাত্র কাজ হয়ে পড়ে। নেতার আঙ্গুলের ঈশারা ছাড়া তাদের বুদ্ধির দরজা খুলে না। এদের বুদ্ধিজীবি না বলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলাটাই সঠিক মনে করি।

যে কোন অঞ্চলে জঙ্গিবাদ বিকাশে বড় অন্তরায় হচ্ছে দেশের সুশীল, বুদ্ধিজীবি, মুক্তবুদ্ধিচর্চাকারী, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও শিক্ষক সমাজসহ সৃজনশীল কর্মকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবি সমাজ। অন্যদিকে গণবিরোধী রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নেও প্রধান অন্তরায় হয়ে থাকে দলনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবি সমাজ। আর জঙ্গিবাদ বিকাশের বড় মাধ্যম হচ্ছে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল, সরকার ও রাষ্ট্র। এদের পৃষ্টপোষকতা না পেলে জঙ্গিবাদ কখনোই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। মৌলবাদী হয়ে ভাইরাসের মত বেঁচে থাকে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়তায় ভাইরাসগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। একমাত্র রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতা পেলেই এরা সক্রিয় হয়ে উঠে, ধর্মীয় বা উগ্রজাতীয়তাবাদের বিষে বিষাক্ত করে তোলে সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবি সমাজের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির সুযোগ নিয়ে বিএনপি’র আমলে ব্যর্থ ধর্মীয় মৌলবাদ আওয়ামীলীগের উপর ভর করে বর্তমানে সক্রিয় হয়েছে। আওয়ামীলীগের অদুরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক ভাবনার উপর সওয়ার হয়ে ধর্মীয় মৌলবাদী চক্র জঙ্গিবাদের বিষ রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ছড়িয়ে দিচ্ছে সকল ক্ষেত্রে। এর দায় রাষ্ট্রের এবং রাজনৈতিক লেজুবৃত্তিতে লিপ্ত থাকা বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজের। মৌলবাদীগোষ্টি এটা ভালভাবেই উপলব্দি করেছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় খেলাফত বাস্তবায়নে আদর্শহীন রাজনৈতিক দল ও নিকট বন্ধু বিএনপি’র চেয়ে তথাকথিত সেক্যুলার ও চেতনার পাহাড় বহনকারী আওয়ামীলীগ অনেক বেশি উপযুক্ত; আওয়ামীলীগের শাসনাধীন রাষ্ট্রক্ষমতার সুযোগ ব্যবহার করে ধর্মীয় মৌলবাদীরা তাদের ধর্মীয় সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে খুব সহজে। যেটা বিএনপি’র সময় আদৌতে সম্ভব হয় নাই আওয়ামীলীগের শক্তিশালী অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং বুদ্ধিজীবি শ্রেনীর কঠিন প্রতিরোধের মুখে। যার কারণে এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোন কর্মসূচী ও বক্তব্য নেই। আজকের ওলামালীগ প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সেই পরিকল্পনার একটি অংশ।

এটি দিবালোকের মত পরিষ্কার, সরকার ও আওয়ামীলীগ নেতৃত্বের একটা বড় অংশের বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্মীয় জিহাদে অংশ নেওয়া মৌলবাদী গোষ্ঠীর সাথে পরোক্ষভাবে একটা সম্পর্ক বিদ্যমান। এই অংশের নীরব সহযোগীতার কারনে ওলামালীগের মত প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর বিতর্কিত ভুমিকার পরও আওয়ামী নেতৃত্ব নির্বাক। একের পর এক ব্লগার, লেখক, এক্টিভিস্ট, প্রকাশককে নির্মমভাবে হত্যা করার পরও সরকারের ভুমিকা স্পষ্টতই জঙ্গিদের স্বপক্ষে ছিল। আওয়ামীলীগের জঙ্গি সমর্থিত অংশ জঙ্গিদের দ্বারা হত্যা করা ব্লগার, লেখক, এক্টিভিস্টদের অনলাইনে আওয়ামী বিরোধী এক্টিভিস্ট হিসাবে আওয়ামীলীগের মুল নেতৃত্বকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে। যার কারণে ফ্যানাটিকদের মাধ্যমে ঘটা এসব হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে মৌন সমর্থন দিয়ে আসছে সরকার। অনলাইন এক্টিভিস্টদের হত্যা ছিল জঙ্গিদের পরিকল্পনার প্রথম অংশ। একেরপর এক ব্লগার, লেখক, এক্টিভিস্ট হত্যার কারণে জঙ্গিদের তালিকাভুক্ত বেঁচে থাকারা নিরাপদে সরে যাওয়ার কারণে তাদের না পেয়ে জঙ্গিরা তাদের দ্বিতীয় অধ্যায় বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিতদের আক্রমনের লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করে। রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মৌলবাদ গেড়ে বসায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। রাষ্ট্রের বিরামহীন সহযোগীতা জঙ্গিদের কার্যক্রম পরিচালনায় সাহসী করে তোলে। বর্তমানে বড় বড় নাশকতা চালানোর মত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে নিয়েছে সরকার ও রাষ্ট্রের সহযোগীতায়। যার কারণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রতিটা নাশকতার সাথে আওয়ামীলীগের তৃণমুল পর্যায়ের নেতৃত্ব জড়িত। ঠিক যেমনটি আমরা দেখেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে। সেই সময় প্রতিটা জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের সাথে রাষ্ট্র ও বিএনপি’র নেতৃত্ব জড়িত ছিল। যেগুলোর বিচার কার্যক্রম এখনো চলছে।

পরিশেষে আবারো বলছি, জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির উপর ভর করে সক্রিয় হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ বিকশিত হয়েছে রাষ্ট্র ও সরকারের সহযোগীতা নিয়ে। আমাদের রাজনীতি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। অর্থ ও ক্ষমতার কাছে মানুষের জন্য রাজনীতি অসহায়। দলদাস সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবিগণ নিজেদের সত্ত্বাকে যেভাবে স্বার্থবাজ ও অপরাজনীতির কাছে বিকিয়ে দিয়েছেন, দিনশেষে জঙ্গিবাদের আগুনে তাদেরও জ্বলতে হবে। একাত্তরে বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করা হয়েছিল ঠিক যে কারণে, বর্তমানের জঙ্গিবাদের কাছে সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবিদের জীবন বিলিয়ে দিতে হবে স্বার্থবাজ রাজনীতির দালালী করার পরও। ধর্মভিত্তিক সাম্রাজ্য বিস্তারে ধর্ম ও ধর্মীয় মৌলবাদের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও এর সাথে জড়িতরাই প্রধান অন্তরায়। আপোষহীন নব প্রজন্মের বুদ্ধিজীবি অনলাইন এক্টিভিস্ট, ব্লগার লেখকদের হত্যা এবং মৃত্যুভীতিতে ফেলে দেশ ছাড়া করলেও দলদাস বুদ্ধিজীবিরা রেহাই পাবেন না জঙ্গিবাদের গ্রাস থেকে। জঙ্গিদের সেই পর্ব শুরুর আগেই আমাদের সুশীল ও বুদ্ধিজীবি সমাজের উচিত এখনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আদর্শহীন রাজনীতির কাছে বিবেক বিকিয়ে তাৎক্ষণিক সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায়, কিন্তু দিনশেষে মৌলবাদের কালো থাবায় হারিয়ে যেতে হবে মুক্তচিন্তার সাথে জড়িত সকলকে। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ শুধু বর্তমানের দলদাস বুদ্ধিবেশ্যাকে মূল্যায়ন করবে না, অতীতের স্বাধীনচেতা কর্মকান্ডের হিসাব নেবে কড়ায়-গন্ডায়। নষ্ট রাজনীতির গন্ধময় এই সময়ে বুদ্ধিজীবি সমাজের উদ্যোগ ও জঙ্গিবাদ উৎখাতে স্বার্থহীন কর্মসূচীই পারে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিকে জঙ্গিবাদ তোষন থেকে ফিরিয়ে আনতে।

Comments

শামিম এর ছবি
 

ভারতের দালাল রা নিশ্চিহ্ন হলেই দেশ জঙ্গিবাদ থেকে মুক্তি পাবে

আমাকে গালিদেয়ার অধিকার তোমাকে দেয়া হল,কিন্তু নবীকে নয়,আমার ভুল আছে,কিন্তু ইসলামে নেই।

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

ভারতের দালালদের নিশ্চিহ্ন করে পাকিস্তানী দালালদের পুর্ণবাসন করতে হবে। তাই না ভাই? দেশটাতে দুই ধরনের দালাল আছে আছে। পাকিস্তান ও ভারতের দালাল। এদের সবাইকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। তবে জঙ্গিবাদের মুল ক্রিয়ানক পাকিস্তান। মদিনাতে বোমাবাজির কারনে আটক করা হয়েছে আপনার পেয়ারে পাকিস্তানী ভাইদের। বাংলাদেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী কাজের পেছেন পাকিস্তানের হাত আছে। এটা এখন ধ্রুব সত্য। পাকিস্তান-ভারতের দালালমুক্ত বাংলাদেশ দরকার।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

বাহ, চমৎকার লেটা দাদা! গ্রেট !

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নুর নবী দুলাল
নুর নবী দুলাল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 41 min ago
Joined: শনিবার, জানুয়ারী 19, 2013 - 3:35অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর