নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • আবু মমিন
  • মাহিন রহমান সাকিফ
  • রবিঊল
  • পৃথু স্যন্যাল
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • রবিঊল
  • কৌতুহলি
  • সামীর এস
  • আতিক ইভ
  • সোহাগ
  • রাতুল শাহ
  • অর্ধ
  • বেলায়েত হোসাইন
  • অজন্তা দেব রায়
  • তানভীর রহমান

আপনি এখানে

কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস ১৯৬২; একটি সাম্রাজ্যবাদ নীতির পতন


১৯৬২ সালের ২৭ অক্টোবর, কোল্ড ওয়ার।
টানটান উত্তেজনা চারদিকে। আরেকটি নিউক্লিয়ার/ থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব। অনেক বাকবিতণ্ডার পর জন এফ কেনেডি মন্ত্রিসভা এবং নিকিতা ক্রুশ্চেভের সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে একটা সন্ধি হয়ে গেল। সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে তাদের সবরকম নিউক্লিয়ার ওয়েপন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাবে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইটালি আর তুরস্ক থেকে তাদের সব নিউক্লিয়ার ওয়েপন সরিয়ে ফেলে।

ইতিহাসে এ ঘটনাটি "কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস" নামে আমরা জানি। যেটি ১৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। তবে প্রেক্ষাপট প্রায় ৩ বছর আগে থেকে শুরু হয়েছিল। কোল্ড ওয়ারের প্রথম পর্যায়ে। ক্যাপিটালিজম আর কমিউনিজমের লড়াই তখন চরমে। পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে দুটি দেশের দিকে। বড় কোন সংঘাত লাগতে পারে যেকোন মুহূর্তে। ইতোমধ্যে আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ICBM/MRBM অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। এবং মহাকাশে সগৌরবে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক ১ ও ২ ভাসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এবং প্রধান শত্রু হল কমউনিজম। ১৯৫৭/৫৮ সালে কিউবাতে বিপ্লবতে সাম্রাজ্যবাদী এবং একনায়ক বাতিস্তা সরকারকে চে গুয়েভারা'র সাহায্য নিয়ে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

১৯৬১ সালে কিউবা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সামরিক চুক্তি হল। একই সালে আমেরিকার সিআই এর একটি ব্রিগেড (Brigade 2506) কিউবার 'বে অফ পিগ' এ আক্রমণ করল (বে অফ পিগ ইনভ্যানশন)। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কিউবার (Cuban Revolutionary Armed Forces) সেটা দমন করে বে অফ পিগ পুনর্দখল করে মাত্র তিন দিনের মধ্যে। এতে আমেরিকার ১৯১ জন নিহত হয় অন্যদিকে কিউবার ১৭৬ জন নিহত হয়। ভবিষ্যতে আমেরিকা এমন ঘটনা আরো ঘটাতে পারে বলে মনে করলো ফিদেল ক্যাস্ট্রো। কিউবা, সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে সাহায্য চাইলো নিরাপত্তার জন্য। একেই তো সময়টা স্নায়ু যুদ্ধের(কোল্ড ওয়ার), তারপর আমেরিকার এত কাছে থাকতে পারবে ভেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে রাজি হয়ে গেল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিকিতা ক্রুশ্চেভ কিউবাতে মধ্যমপাল্লার নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড পাঠালো নিউক্লিয়ার ওয়েপন সহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাক করে রাখলো। কিউবা থেকে মাত্র ৯০ কি. মি. দূরে। ব্যাপারটা গোপন থাকলো শুধু সোভিয়েত ইউনিয়ন আর কিউবার মধ্যে। বিশ্ব তখনো জানে না তারা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটা যুদ্ধের সম্মুখে। বিশ্বের দুই বৃহৎ পরাশক্তি একে অপরের দিকে নিউক্লিয়ার ওয়েপন তাক করে আছে।

হঠাৎ একদিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর গোয়েন্দা বিভাগ সতর্ক করলো কেনেডি'কে। সি আই এ তখনো কিছু জানে না। কেনেডি কিউবার উপর U-2 গোয়েন্দা বিমান পাঠানোর নির্দেশ দিলেন। এবং তারা কিউবাতে কিছু অস্ত্র স্থাপনার ছবি এনে দিল। কেনেডি সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী'র সাথে বৈঠক করলেন। বৈঠকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মন্ত্রি কেনেডিকে আশ্বস্ত করলেন যে, সেটা শুধু করা হয়েছে কিউবার নিরাপত্তার জন্য এবং এটার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। দুদিন পর কেনেডির নির্দেশে আরো কিছু ছবি তুলে আনা হল এবং গোয়েন্দা বিভাগ আশ্বস্ত করলো যে কিউবা নিউক্লিয়ার ওয়েপন সাজানো হয়েছে এবং সেখানে উচ্চ মধ্যম পাল্লার অস্ত্রও আছে। দিশেহারা হয়ে পড়লেন কেনেডি। ততক্ষণাৎ কমিটি গঠন করে মিটিং ডাকলেন।

২২ অক্টোবর Executive Committee of the National Security Council (EXCOMM) নাক মে সেই কমিটি দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নিল সোভিয়েত ইউনিয়নের এই আগ্রাসনের উপর।
১. সোভিয়েত ইউনিয়নকে মিসাইল সরানোর জন্য আন্তর্জাতিক এবং জাতীয়ভাবে কূটনীতিক চাপ প্রয়োগ করবে
২. যুক্তরাষ্ট্র ক্যাস্ট্রোকে যেকোন এক পক্ষ বেছে নেয়ার জন্য সুযোগ দিবে এবং তারা রাশিয়ার সাথে গেলে আমেরিকা কিউবাকে ধ্বংস করবে।
৩. সর্বশক্তি দিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত করবে
৪. আমেরিকা তাদের এয়ার ফোর্সকে কাজে লাগিয়ে কিউবায় চিহ্নিত মিসাইল স্থাপনা গুলোয় আগ্রমণ করবে।
৫. অথবা ইউএস নেভিকে ব্যবহার করে কিউবাকে চারদিক থেকে ব্লক করে দিবে যেন কিউবাতে আর কোন অস্ত্র আসতে না পারে।

এতো মধ্যে গোয়ান্দাগিরি করতে গিয়ে আমেরিকান U-2 বিমানের একজনকে সোভিয়েত জঙ্গি বিমান ধাওয়া করে মাটিতে ভূপাতিত করে। বিমানটি সোভিয়েত সীমায় চলে গিয়েছিল। এরপর আমেরিকা দেখলো যে শুধু এয়ারফোর্স ব্যবহার করে তারা কিউবাতে সব মিসাইল ধ্বংস করতে পারবে না। এজন্য তারা শেষ অপশনটি হাতে নিল এবং চারদিক থেকে কিউবাকে ব্লক করে দিল এবং কিউবার সাথে সব রকম কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল। কিন্তু ব্লক করার পরও কেনেডি সাহেব খেয়াল করলেন কিউবাতে সোভিয়েত অস্ত্র পাঠানো থামানো যাচ্ছে না। কিভাবে ব্যালেন্স অফ পাওয়ার আনা যায় এটা নিয়ে EXCOMM নিয়মিত বৈঠক করে গেল। কেনেডি কিউবাতে ক্যাস্ট্রো সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে অভ্যূত্থান ঘটালে রাশিয়া কখনো সেটা থামাতে আসবে না। তাই কেনেডি ব্যালেন্স অফ পাওয়ারের জন্য নিউক্লিয়ার ওয়েপকেই বেছে নিলেন।

এতদিন পর্যন্ত এসব কিছু গোপনেই ঘটে গেল। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো আমেরিকা যখন কিউবাতে সোভিয়েত নিউক্লিয়ার অস্ত্রের সব প্রমাণ ছবিসহ জাতিসংঘ এবং বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করলো। পুরো আমেরিকাজুড়ে শুরু হল বিক্ষোভ। সবাই সতর্ক করলেন কেনেডিকে। টানটান উত্তেজনা চারদিকে। একটি অবশ্যম্ভাবী নিউক্লিয়ার যুদ্ধের সম্মুখে বিশ্ব। কেনেডি তুরস্ক এবং ইটালিতে বসানো সোভিয়েত ইউনিয়ন এর দিকে তাক করা নিউক্লিয়ার ওপেনকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিলেন। যখন কেনেডি দেখলেন আর কিছুই করার নেই তখন তিনি পারমানবিক যুদ্ধেরই মনস্থির করলেন এবং 'ফার্স্ট অ্যাটাক' পন্থা অবলম্বনে গেলেন।

ঠিক সে মুহূর্তে একটু সরে দাঁড়ালেন ক্রুশ্চেভ। তিনি বললেন তিনি কিউবা থেকে সব অস্ত্র সরাবেন। তবে ১. আমেরিকাকে কথা দিতে হবে তারা কিউবাতে আর কোন আগ্রাসন আক্রমণ চালাবে না ২. আমেরিকা তুরস্ক আর ইটালি থেকে সব অস্ত্র সরিয়ে নিবে। এবার কেনেডিও সায় দিলেন। দু'পক্ষই নিজ নিজ অস্ত্র সরিয়ে নিল। বিশ্ব বেঁচে গেল একটি ধ্বংসাত্মক নিউক্লিয়ার ওয়ার থেকে। যেটি হতে চলেছিল মানব ইতিহাসের সববচেয়ে বড় যুদ্ধ। ধ্বংস থেকে বেঁচে গেল মানব জাতি।

সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আমেরিকার মাঝে নিউক্লিয়ার চুক্তি হল এবং তাদের মাঝে একটি হটলাইন স্থাপন করা হল্ম যেটিকে আমরা বলি, 'Nuclear Hotline'। এবং কিউবাতে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ হল। যদিও আমেরিকা কিউবার উপরে তাদের অবরোধ বহাল রাখলো। এবং যতদিন ফিদেল ক্যাস্ট্রো ক্ষমতায় ছিলেন ততদিন আমেরিকা এই চুক্তি পালন করে গেল।

ঘটনাটি ঘটল ১৬ থেকে ২৮ অক্টোবর এর মধ্যে। ২০ নভেম্বর আমেরিকা কিউবা থেকে তাদের ব্লক করে রাখা জাহাজ সরালো। এখানে দু পক্ষেরই জয় এবং পরাজয় ঘটেছিল একসাথে। রাজনীতি এবং কূটনীতিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং কিউবার কাছে আমেরিকার পরাজয়। আর জন এফ কেনেডির দৃঢ়তার কাছে ক্রুশ্চেভের পরাজয়। শেষ পর্যন্ত তাকেও পিছু হটতে হয়েছে।

আজ বারাক ওবামা কিউবা ভ্রমণে গেছেন। গত ৯০ বছরে এটা প্রথম কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কিউবা যাত্রা। আমরা জানি যে গতবছর আমেরিকা এবং রাউল ক্যাস্ট্রোর মাঝে সন্ধি স্থাপিত হয়েছে। একটি ফিদেল ক্যাস্ট্রো'র পতন এবং একটি সাম্রাজ্যবাদের উত্থাপন।

মন্তব্যসমূহ

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জলের গান
জলের গান এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 31, 2013 - 10:15অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর