নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ
  • সজীব সাখাওয়াত

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

অতিরিক্ত যৌন চাহিদা থাকার অধিকার নারীদের নেই !



নিম্ফোমেনিয়াক নামে মেডিক্যাল ডিকশেনারিতে একটি টার্ম আছে। যার অর্থ, যে নারীর শারীরিক সম্পর্কের অতিরিক্ত চাহিদা আছে। অর্থাৎ যে নারীর মধ্যে সঙ্গম করার ইচ্ছে অতিরিক্ত। সবচেয়ে হাস্যকর হচ্ছে এমন কোনো টার্ম পুরুষদের জন্য নেই। অর্থাৎ নিম্ফোমেনিয়াক শুধুমাত্র নারীদের জন্য প্রযোজ্য। এখন প্রশ্ন জাগে এমন একটি টার্ম কেন শুধু নারীদের জন্যই ব্যবহার হয়? যেখানে আমরা দেখতে পাই নারীদের যৌন চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত তো অনেক দুরের কথা স্বাভাবিক যৌন চাহিদাও ঠিক মতো প্রকাশ হয় না, হলেও সেটি পূরণ হয় না। খুব স্বাভাবিক ভাবেই নারী তাঁর স্বামীর কাছ থেকেই যৌন চাহিদা পূরণ করবে এমনটাই কাম্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায় স্বামীরা স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণের ব্যাপারে আগ্রহী নয় বা অনেক পুরুষ তো জানেই না নারীদের তৃপ্তি কিসে আসে। এবং যেহেতু মেয়েরা শারীরিক চাহিদার ব্যাপারে অতিরিক্ত লাজুক প্রকৃতির সেহেতু তারা তাদের সঙ্গীকে বলতেও লজ্জা পায় তাদের চাহিদা কতটুকু , কিসে তাদের তৃপ্তি আসে বা কেমন সম্পর্ক তারা চায়। অনেক নারী জীবনে কখনও তৃপ্তিও পায় নি। অনেকে জানেই না তৃপ্তি বলে কিছু আছে।

অপর দিকে পুরুষরা তাদের চাহিদা মতো যেমন ইচ্ছে সম্পর্ক করে , তাদের স্ত্রীর সাথে তাদের চাহিদা মাফিক যৌন সম্পর্ক করে, এবং চাহিদা বাড়লে বিভিন্ন নারীদের সাথেও সম্পর্ক করে। এমন অহরহ পুরুষ আশেপাশেই আছে যাদের একের অধিক প্রেমিকা থাকে, ঘরে স্ত্রী রেখে বাইরে শারীরিক সম্পর্ক করে বেড়ায়। পতিতালয় বলে যে জায়গা সমাজে আছে সেখানে উচ্চস্তর থেকে নিম্মস্তর সব শ্রেণীর পুরুষের আগমন ঘটে। সোজা বাঙলায় বলা যায় পুরুষদের চাহিদা অধিকাংশ সময় মাত্রাতিরিক্তই হয়। বা তারা বহুগামী হয়। কিন্তু বিস্ময়কর হল পুরুষদের জন্য নিম্ফোমেনিয়াক জাতীয় কোনো টার্ম নেই। এখন এ থেকে খুব সহজ একটি ধারনায় আসা যায় যে পুরুষদের জন্য এমন টার্ম এই জন্যই নেই কারণ সহজাত ভাবে পুরুষরা বহুগামী হবে , তাদের যৌন চাহিদা সবসময় অতিরিক্তই হবে, তারা ঘরে বাইরে বহু প্রেমিকার সাথে যৌন সম্পর্ক করবে ; এটাই স্বাভাবিক এবং কোনভাবেই কোনো মেনিয়া নয়।
যেহেতু এই টার্ম শুধুমাত্র নারীদের জন্যই বরাদ্দ সে থেকে এও খুব সহজ ভাবে বুঝা যায় যে সমাজ চায় নারীর যৌন চাহিদা সবসময় সীমারেখার মধ্যে থাকবে। অর্থাৎ নারীকে হতে হবে এমন যে নারীর যৌন চাহিদা শুধুমাত্র ততটুকুই থাকবে যতটুকু সে তাঁর স্বামী থেকে পাবে। এখন স্বামী তাঁকে তৃপ্তি দিচ্ছে কি দিচ্ছে না, আদৌ স্বামী তাঁর চাহিদা পূরণ করছে কিনা সেটি মুখ্য নয়। মুখ্য হল তাঁকে স্বামীর ইচ্ছে মতই শারীরিক সম্পর্ক করে যেতে হবে। তবেই সে সতী এবং “ভাল” মেয়ে। সর্বোপরি কোনো মেনিয়াতে আক্রান্ত নয়। যদি কোনো নারী এই নিয়মের বাইরে যায় তবে সমাজ তাঁর জন্য একটি আলাদা সিম্বল তৈরি করে রেখেছে , যা দিয়ে তাঁকে অসুস্থ বলে অভিহিত করা যায়।

এমন নারীর সংখ্যা অবশ্যই কম যারা তাদের যৌন চাহিদার কথা মুখ ফুটে বলতে পারে। যারা বুঝতে পারে কীভাবে তারা তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। লজ্জা কাটিয়ে নিজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেওয়া নারীদের কপালে জুটে নানারকম কুৎসা রটনা অভিযোগ বদনাম “খারাপ” মেয়ের ট্যাগ।
টার্মের মতে অতিরিক্ত যৌন চাহিদা থাকলে তাঁকে নিম্ফোমেনিয়াক বলা হয়, এখন কতটুকু চাহিদা প্রকাশ করলে তাঁকে নিম্ফোমেনিয়াক বলা যাবে? নারী যদি বলে সে তাঁর সঙ্গী দ্বারা সন্তুষ্ট না তবে কি তাঁকে নিম্ফোমেনিয়াক বলা যাবে? সন্তুষ্ট না হয়ে নারী যদি অন্য সঙ্গী বাছাই করে তবে কি তাঁকে নিম্ফোমেনিয়াক বলা যাবে? অথবা পুরুষরা যেমন অহরহ বাইরে সম্পর্ক করে বেড়ায় তেমন যদি নারীরাও করতে চায় তখন কি তাঁকে নিম্ফোমেনিয়াক বলা যাবে?

হয়তো এই সব প্রশ্নের উত্তর “হ্যাঁ” হবে। কারণ যে কাজ পুরুষ করলে তাঁকে কোনো মেনিয়াতে আক্রান্ত বলা হয় না, বিপরীতে নারী করলে তাঁকে আলাদা করে মেনিয়াতে আক্রান্ত বলে আখ্যায়িত করা হয় তখন এই সত্য অত্যন্ত প্রবল ভাবে দীপ্ত হয়ে উঠে যে পুরুষের জন্য শারীরিক সম্পর্কের অর্থাৎ যৌন চাহিদার কোনো সীমা নেই। পক্ষান্তরে নারীর জন্য তারা খুব চমৎকার একটি সীমা টেনে দিয়েছে যে নারীকে তাঁর সঙ্গীর দ্বারাই যৌন চাহিদা পূরণ করতে হবে। তাতে তাঁর চাহিদা অপূরণ থেকে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। যদি সীমা অতিক্রম করে তবে সে আক্রান্ত, মেনিয়াক।

এমন টার্মের উৎপত্তি এবং যৌন চাহিদার সীমারেখা অঙ্কনের পিছনে খুব সুক্ষ ভাবে নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল কাজ করে। “অতিরিক্ত যৌন চাহিদা” এই শব্দ গুলোর সাথে “সতী” শব্দের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সমাজের ডিকশনারিতে সতী সেই নারী যে নারী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে নিজের চাহিদা পূরণ করবে, পূরণ না হলেও আজীবন তাঁর সঙ্গীর প্রতি সৎ থাকবে। যার “অতিরিক্ত যৌন চাহিদা” থাকে সে তাঁর সঙ্গীর প্রতি সৎ থাকে না, আকারে ইঙ্গিতে নিম্ফোমেনিয়াক এই ধারনারই প্রচারণা চালায়। অন্যদিকে নারীরা লজ্জা আর সতী থাকার লোভে বা বাধ্য হয়ে নিজের চাহিদার কথা গোপন রেখে স্বাভাবিক যৌন চাহিদাই পূরণ করতে পারে না, আর পূরণ করলেও সে সংখ্যা সন্তুষ্ট জনক নয় মোটেও। যুগ যুগ ধরে সতী নারীর যে চিত্র আমাদের সমাজে বহাল তাঁর অন্যথা যেন না ঘটে তার জন্য এই নিম্ফোমেনিয়াক টার্মের উদ্ভব।

হাতিয়ারের অভাব নেই নারীদের শরীর মন তাঁর চাহিদা চাওয়া পাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার, তাঁকে বদ্ধ রাখার। পুরুষ যেন নারীর অধীশ্বর। নারী যদি তার চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরুষদের মত তৃপ্ত হওয়া শুরু করে তবে পুরুষ কর্তৃত্ব ফলাবে কার উপর?কার শরীরকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করবে? কাকে শেখাবে “নারী তোমার সকল চাহিদা শুধু তোমার সঙ্গীই পূরণ করবে, যৌন চাহিদার জন্য তুমি শুধুমাত্র তোমার সঙ্গীর উপরই নির্ভর”? মেনিয়াতে আক্রান্ত বলে যদি একবার ঘোষণা দেওয়া যায় তথাকথিত সীমার বাইরে যাওয়া নারীদের তবে তো পথ আরও সোজা হয়ে যায় পুরুষদের। সতী বানাতে না পেড়ে রোগীই বানিয়ে দিল!
নারীকে বলি, পুরুষ তোমাকে তাদের নির্ধারিত “ভাল” “খারাপ” সংজ্ঞায় বর্ণনা করার জন্য হাজারো নিয়ম বানাবে, সতী থাকার লোভ দেখাবে, মেনিয়াকে আক্রান্ত বলে ভয় দেখাবে। কিন্তু এসবের বোঝায় একটি সত্য ভুলে যেও না, যে তোমার শরীর তোমার একান্ত ব্যক্তিগত। এই শরীর কী চায় কী চায় না তা নির্ধারণ করার অধিকার শুধু তোমার। তোমার সঙ্গী তোমাকে খুশি করতে না পারলে, তোমার চাহিদা যদি অন্য কারো প্রতি জাগে তবে কেন নিজেকে বঞ্চিত করবে? সমাজের চোখে সতী হওয়ার লোভে নাকি খারাপ বলবে এই ভয়ে? যে সমাজ পুরুষদের জন্য বহুগামীতায় কোনো সীমা নির্ধারণ করে না, তার জন্য কোনো “টার্মের” জন্ম দেয় না , তাঁকে সৎ থাকতে বাধ্য করে না সেই সমাজের ভয়ে নিজেকে ভেতরে ভেতরে দগ্ধ করা কেন? বৈষম্য সৃষ্টি করে সততার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা যায় না। তোমার বিবেকই তোমাকে সতী বানাবে। জন্ম হয়েছে নারী তোমার অন্যকে খুশি করে চলার জন্য না। কারো ভাল খারাপ বলার তোয়াক্কা না করে নিজের জন্য বাঁচো। নিজের চাহিদাকে মূল্য দিতে শেখো। দিক তোমাকে সমাজ নিম্ফোমেনিয়াক বলে গালি!

Comments

 

পুরুষদের অতিরিক্ত যৌন চাহিদাকে Satyriasis বা Gynaecomania বলা হয় মেডিক্যালের ভাষায়। সেটি কি আপনার জানা নাই!

 
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

নর-নারী ঊভয়কে দায়িত্বশীল আচরণপ্রকাশ করতে হবে। যৌনজীবনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন।
লেখাটা ভালো। কিন্তু ছবিটা আরেকটু ভালো হতে পারতো।
আপনাকে ধন্যবাদ।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
এম আর খান এর ছবি
 

অতিরিক্ত যৌন চাহিদা থাকলে কি হয়?

>>>>আগে নিজে বদলাই, দেশটা এমনিতে বদলাবে

 
নীল অরিন্দম এর ছবি
 

চমৎকার লিখেছেন

 
শফিক বাঙালী এর ছবি
 

মেয়েদের অতিরিক্ত যৌন চাহিদা থাকতে পারে । কিন্তু সে চাহিদা যেমন পুরুষতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তেমন ধর্ম দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত । পুরুষ আর ধর্ম দুটোই নারীর সব চাহিদাকে মাটি চাপা দিয়ে দেয় ।

শফিক বাঙালী

 
চোত্রা পাতা এর ছবি
 

চমৎকার

সামাজিক, রাজনৈতিক অন্যায় ও
অবিচার , ধর্মীয় কু-সংস্কৃতির
বিরুদ্ধে আমার আজন্ম যুদ্ধ।এই যুদ্ধের
কখনও আমি সেনাপতি কখনও
সৈনিক। অস্র বলতে আছে বর্শার মত
ধারালো কলম। কলম দিয়েই আমি
শত্রুকে হামলা করি, বন্ধুকে
ভালবাসায় ভরিয়ে দেই কবিতায়,
গানে, প্রবন্ধে,উপন্যা

 
সাদ্দাম হোসেন  এর ছবি
 

আপনার এই আর্টিকেল থেকে অনেককিছু বুঝতে পারলাম তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

নীল ফারজানা আমার একটা প্রশ্ন আপনার কাছে প্রশ্নটা হচ্ছে যে- দুজন সামী স্ত্রী ধরুন তারা সমবয়সী বা তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হলে এক থেকে দুই বছরের। এই দুজন সামী স্ত্রীর উভয়েরই মধ্যে যদি যৌন চাহিদা জেগে ওঠে। আর তখন যৌন মিলনের জন্য সামী যদি তার স্ত্রীকে লজ্জার কারণে কোনওরকম ইঙ্গিতে বা মুখফুটে বেশ কিছু দিন বলতে না পারে তবে কি তার স্ত্রী আগে হয়ে সামীর কাছে যৌন মিলন করতে চাইবে ?

আমার এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইলো! উত্তরটা পেলে আমি খুব উপকৃত হব।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নীল ফারজানা
নীল ফারজানা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 year 1 month ago
Joined: মঙ্গলবার, এপ্রিল 16, 2013 - 3:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর