নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রক্স রাব্বি
  • সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
  • আদনান বিন সাবিত

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

নারীর নামে এইসব দিবস টিবস এখন হাস্যকর!



শুরুর পর থেকে প্রায় দুইশ বছর পার হয়ে গেছে। মজুরি বৈষম্য, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নারীর জন্য বিশেষ যে দিবসের সুচনা হয়েছিল, বর্তমান সময়ে তা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই না! এই দিবসে, প্রচন্ড পুরুষতান্ত্রিক পুরুষটিও কোনো নারীকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয় তাকে সম্মান জানায়, ঠিক পরের দিনই 'খেলা হবে' বলে পেশিশক্তির পৌরুষ নিয়ে হাজির হয়, তখন নারী দিবসের চেয়ে হাস্যকর বলে আর কিছু থাকে না।

দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও মোল্লাদের ভয়ে নারীনীতি বাস্তবায়ন করতে পারেন না, কিন্তু এই দিবসে অনেক গাল ভরা কথা বলেন তখনও নারী দিবস হাস্যকর হয়ে ওঠে। যে দেশের মন্ত্রীসভায় পুরুষের চাহিদার কারনে দামড়া দামড়া রাজনীতিবিদদের সমর্থনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ তে নামিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা চলে, যেদেশে ৯০ শতাংশ বিবাহিত মেয়ে স্বামীর হাতে মার খায়, প্রতিবছর হাজার দশেকেরও বেশি নারী ধর্ষিত হয়, প্রতিদিন খবরের কাগজে ছাপা হয়েও বাতাসে মিলিয়ে যায় অসংখ্য লাঞ্চিত, নিগৃহিত, ধর্ষিত, আক্রান্ত, নিহত নারী কন্যার কাহিনি, সে দেশে নারীর নামে বিশেষ বিবস পালন হাস্যকর নয়কি!

মজুরি বৈষম্য কিংবা কাজের অমানবিক পরিবেশের অবস্থাও তো এখনো পরিবর্তন হয়নি, যার জন্য দু শ বছর আগে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিল সুতা শ্রমিকরা। দুশো বছরে আকাশ সমান পরিবর্তন এসেছে পৃথিবীতে, শুধু নারীর মার খাওয়ার পরিবর্তন হয়নি।

এখনো মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীর ঘর করতে যায়। শশুরবাড়ি। তাহলে সেই বাড়ির মালিক শ্বশুর, তার অবর্তমানে স্বামী। মেয়ের নিজের কোনো ঘরও নেই, কামরাও নেই।

এখনো কন্যা সন্তানকে জন্ম দিতে চাননা কোনো কোনো মানুষ, পরিবার, সমাজ। মেয়ে হবে জানলে ভ্রুন হত্যা করছেন। আর যারা অতটা নিষ্ঠুর নন, তারা কন্যা সন্তান জন্মে বাধা দেননা বটে কিন্তু অনেকেই কন্যা সন্তান জন্মে ঝিমিয়ে পড়েন। যারা কন্যাজন্মকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেন এবং আহ্লাদিত হন তারাও কন্যাকে পুত্রের তুলনায় কম সুযোগ, কম পুষ্টি, কম শিক্ষা দিয়ে পালন করেন। যারা ছেলের মত সমান সুযোগ দিয়ে মেয়েকে বড় করেন তারাও সহজে মেয়েকে ইঞ্জিনিয়ারিং বা এগ্রিকালচার পড়াতে পাঠান না, মাউন্টেনিয়ারিং শিখতে পাঠান না, নাটক করলে ভয় পান, রাজনীতি করলে শিউরে ওঠেন, পরিবাদ করলে ধমক দেন। যারা এসবও মেনে, মেয়ে যা করতে চায় করতে দেন, তারা মেয়ের কেরিয়ার ও বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টিকে গুরুত্ব দেন।

একই রকম পড়াশোনা করে, একই রকম চাকরি করে বর বউ যখন দু জায়গায় পোষ্টেড হয়, একজনকে চাকরি ছাড়তে হলে ছাড়বে কে? অবশ্যই মেয়েটি। ধরুন চাকরি ছাড়লো না কেউই, দুজনে দু জায়গায় থাকলো, সপ্তাহে, মাসে একবার দেখা হলো, দুজনেরই মনে কষ্ট, সন্তান হলে একজনকে মিস করবে, সেক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধব, সমাজ, বাবা মা শশুর শাশুড়ি এই পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ি করবে? মেয়েটিকে। কার মনে অপরাধবোধ জাগবে? মেয়েটির।

দুজনে একি জায়গায় চাকরি পেল, চাকরি শেষে সগসার কে সামলাবে? মেয়েটি। না সামলাতে পারলে দোষ কার? মেয়েটির।

চাকরি ক্ষেত্রে কোনো পুরুষ যদি মেয়ের সাথে ফষ্টি নষ্টি করতে চায়, কেউ যদি যৌনহেনস্থার অভিযোগ করে, তাহলে পুরো অফিস কার বিরুদ্ধে যাবে? কাকে চরিত্রহীন বলবে? মেয়েটিকে।

বিয়ে ভাংলে দোষ কার? মেয়েটির। আবার বিয়ে করাই যায় কিন্তু পুনর্বিবাহের সম্ভাবনা কার বেশি? পুরুষের।

জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য ওষুধ না অপারেশন? প্রয়োগ স্ত্রীর শরীরে না স্বামী? সিদ্ধান্ত নেবেন স্বামী, মেনে নেবেন স্ত্রী। গর্ভপাত বা বন্ধ্যাকরন করা হবে কিনা সিদ্ধান্ত স্বামীর, শরির স্ত্রীর। গর্ভধার এবং সন্তান লালন পালনে যাবতীয় ঝক্কি সহ্য করবেন মা, কিন্তু সন্তানের অবিভাকত্ত্ব কার? বাবার।

আজকে টিভিতে প্রধানমন্ত্রীকে দেখাবে, নারী দিবসের ভাষন দেবেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরবেন, আমি সোফায় বসে নারী নীতি বইয়ের শেষ পাতাটা খুলে থাকবো যেখানে লেখা আছে ‘কোরান ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো নীতি বাস্তবায়ত হবে না।‘ নারীর ক্ষমতায়নের কথা শুনে আমি বিদ্রুপ করবো, আরো বহু নারী বিদ্রুপ করবে।

এইসব নারী দিবসে কিসসু আর হবে না। ক্ষমতাহীনদের বর্ষপুর্তিতে বিশেষ কি আর থাকতে পারে। লিংগ সমতা প্রতিষ্ঠায় আমাদের সমাজের মতো ঘুনে ধরা আস্তরনে ঝটকা মারতে হবে।

সর্বশেষ ঝটকাটা এসেছিল সেই সত্তর দশকে। কেট মিলেটের সেক্সুয়াল পলিটিক্স ও তার কিছু আগে বেটি ফ্রাইডেনের ফেমিনাইন মিস্টিক প্রকাশের পর নারী আন্দোলনে নতুন জোয়ার আসে। তারপর কেমন চুপসে গেছে। পুরুষতন্ত্র যেন ব্যাকটেরিয়ার মতো মানিয়ে নিয়েছে না্রীর প্রতিবাদের সাথে।

কোথায় কোথায় প্রয়োজন পুননির্মান? কোথায় নয়?
সাহিত্যের পাতায় পাতায় চোখে পড়ে লিংগ বৈষম্য। ধর্মের বইয়ের পরতে পরতে নারী বিদ্বেষ।বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে ভাইফটা, জামাইষষ্ঠী হয়, বোন বা বউয়ের জন্য কোনো আলাদা পার্বন হয় না। মেয়েরা স্বামী পুত্রের কল্যানে শিবঠাকুরের পুজো করে। যেন পুরুষের কল্যান হলেই যথেষ্ট!

পিতৃতন্ত্রের এক মোক্ষম প্রতীক সিঁদুর। কৌম আদিম সমাজে পুরুষ যখন কোনো নারীর দখল নিতো, ওই নারী তার সম্পত্তি এ কথা জানান দেয়ার জন্য শকুনের ডানার পালক দিয়ে সিঁথি চিরে মেয়েটিকে রক্তচিহ্নিত করে রাখতো। উপজাতি অনুসারে নখ বা অস্ত্র দিয়েও সিঁথি চেরা হত। এটা সম্পুর্নভাবে মালিকানার চিহ্ন, যেভাবে গরুর গলায় পুতি বা ঘন্টা বেধে দেয়া হয়। কালক্রমে এই প্রথাই বাংগালি হিন্দু সংস্কৃতিতে স্থান করে নিয়েছে এবং একুশ শতকের নারীকেও পুরুষের মালিকানাধীন করে রেখেছে।

ধর্মের নামে বহু বিয়ে চালু আছে, নারীর সতিত্ব নিয়েও টানাহেচড়া বন্ধ হয়নি।
আদমের জম আগে, হাওয়ার পরে
পুরুষের শরীর থেকে নারীর জন্ম
পুরুষের প্রয়োজনে নারীর সৃষ্টি
ঈশ্বরের মহিমার প্রতীক পুরুষ, পুরুষের মহিমার প্রতীক নারী
ঈভ ছলনাময়ী ও পতিত
গির্জা যেমন যিষুর প্রতি দায়বদ্ধ, নারিরা তেমনি পুরুষের প্রতি
ধর্মের এইসব নারীবিরোধী বক্তব্য এখনো মনে প্রানে লালন করে সমাজ।............

আমার এখানে রাত তিনটে বাজে। রাগী রাগী কথা, আক্ষেপ, হতাশা, প্রতিবাদের কথা আর কত লিখব, শেষ হবে না। আসলেই সময় এসেছে একটা ঝটকা দেবার! বড়সড়!

Comments

ডার্ক ম্যান এর ছবি
 

এত আক্ষেপ আর ক্ষোভ। বড়সড় ঝটকা আপনি দিয়ে দেন

=================
আমি নিস্কলুষ কোন মানব নয়,
তুমি তোমার মত করে শুদ্ধ করে নিও আমায়।

===============

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

শামীমা মিতু
শামীমা মিতু এর ছবি
Offline
Last seen: 6 months 5 দিন ago
Joined: শনিবার, ফেব্রুয়ারী 2, 2013 - 2:01পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর