নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বাংলা মায়ের অ্যাংলো ছেলে | শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়


ওই যে দেখছেন ল্যাংটো শিশুটা, বাসি রুটির টুকরো হাতে কেঁদেই চলেছে, কেঁদেকেঁদে ধেবড়ে দিয়েছে চোখের কাজল, ও হল ফুটপাথের যীশু৷‌ আর ওই যে দেখলেন পারিষদ পরিবৃত, ধোপধুরস্ত, কাচ্চি ঘানি মার্কা, বি এম ডব্ল্যু থেকে নেমে কোনওদিকে না তাকিয়ে যিনি সোজ্জা ঢুকে গেলেন ঠান্ডা ঘরে ওঁর নাম মিস্টার যীশু৷‌ ঔর ইয়ে আসমান-জমিন কে বিচ মে, যে জন আছে মাঝখানের মতো আম্মো একটা যীশু আছি৷‌ ইয়েস প্রভূ, ঠিক ধরেছেন আমি হলাম সোশ্যালি, ভাইরাস প্রুফড‍্ মিডল‍্ ক্লাস যীশু৷‌ ফচ্চুনেটলি আমারও জন্মদিন ২৫শে ডিসেম্বর৷‌ আমার মতো যীশু বাংলা বাজারে কিন্তু পোচ্চুর পাবেন৷‌ কিন্তু ওরা সব লাটের মাল৷‌ একমাত্র আমিই হলমার্ক যুক্ত, হাট‍্কে৷‌ ওদের সঙ্গে আমার কোনও তুলনাই চলে না৷‌ মার্জনা করবেন প্রভূ, মাঝেমধ্যে মুখ ফস‍্কে দু-চাট্টে ইংলিশ লিক করে যায়৷‌ বোঝেনই তো, যে সিজনে যেটা খায়৷‌ এখন তো আপনারই সিজন৷‌ এই তো এখনই দেখুন না, চামড়ায় টান ধোচ্চে৷‌ সন্ধে দ্রুত ঘনাচ্চে৷‌ মাঝরাতে পারদ নামচে৷‌ শাল-সোয়েটার ছাদে রোদ পোয়াচ্চে৷‌ নলেন গুড়ের কলসি দোকানের কোণ থেকে আয়-আয় কোচ্চে৷‌ তেল-সাবান-ক্রিমের কোম্পানিগুলো দিনরাত্তির ঢ্যাঁড়া পেটাচ্চে৷‌ বাজারে ফুলকোপি, বাঁদাকোপি, প্যাঁজকোলি, সিম, মটস‍্সুটি, টমেটোর ম্যালা বসে গ্যাচে৷‌ সার্কাসের তাঁবু মাথা তুলচে৷‌ চিড়িয়াখানার সেল বাচ্চে৷‌ চড়ুইভাতির জন্য আমোদগেঁড়ের দল সক্কাল হলেই চায়ের কাপ হাতে প্ল্যান ভাঁজতে বোসে পোচ্চে৷‌ কাশ্মীরি শালওলারা পাড়ায় পাড়ায় সাইকেল নিয়ে টহল মাচ্চে৷‌ ধুনুরিদের গলার হনু ঘুমের তেইশটা বাজিয়ে ছাচ্চে৷‌ জয়নগরের মোয়ার নামে ঢব্বাজি শুরু হোয়ে গ্যাচে৷‌ তবু কিন্তু এই সময়টাতে মনে মনে কাঁপতে হবে৷‌ দাঁতে দাঁতে ঠকঠকাতে হবে৷‌ গায়ে ডজনখানেক চাপিয়ে প্যান্টের পকোটে হাত ঢুকিয়ে হাঁটুতে হাঁটু ঠুকে একটা, একটা হি-হি-হি-হি ভাব জাগিয়ে তুলতে হবে৷‌ ক্যানোনা, খিস্টোমাস এসে গ্যাচে, হ্যাপ্পি নিউ ইয়ার এল বোলে৷‌ চাব‍্কে ভালো থাকতে হবে৷‌ তাই দুনিয়া ভাড় মে যাক৷‌ আপাতত আমরা বাংলা মায়ের অ্যাংলো ছেলে৷‌ সাহেব-মেম৷‌ আপাতত আমাদের শাড়ি শালোয়ার, ধুতি-পাঞ্জাবি আউট, হ্যাট-কোট, টপ-স্কার্ট ইন৷‌ আমরা কেক কাটব পরমানন্দে, কুলকুচি করব রেড ওয়াইনে৷‌ রেশনের পচা চাল-গমের কিউয়ে না ভাটিয়ে মন দেব বার্বি কিউয়ে৷‌ আমরা এই কদিন বাংলা ভাষা থেকে একশ হাত দূরে থাকার চেষ্টা করব৷‌ পয়লা বৈশাখ থেকে ফের ফাটিয়ে ঝড় তুলব আ মরি বাংলা চচ্চায়৷‌ আপাতত আমরা হুম‍্-না হুম‍্-না করতে করতে নাহুমে গিয়ে লাইন লাগাব৷‌ আর চব্বিশের রাতে বারোটার কাঁটা পেরলেই বলব–

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু বিরহদহন লাগে,
তা বলে কি কেক খাব না জীবন শুধুই ত্যাগেঞ্জ

সো বড়দিন বানাও, খুশিয়াঁ মানাও৷‌ খুশির আগে তাঁকে প্রণাম জানাও আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবদের স্টাইলে বলো, ঠুমি আমাডের পিঠা ঠুমায় পিঠা বোলে জেনো জানি, ঠুমায় নোটো হোয়ে জেনো মানি, ঠুমি কোরোনা কোরোনা রোষ্ট৷‌ ওয়া! কেয়া বাট, কেয়া বাট! রোস্ট!! ঠুম কাঁহা হো ডোস্ট, গিভ মী ওয়ান পেগ মোর অন দ্য র‘৷‌ আমরা সেদিন ব্যান্ডেল থেকে ভায়া সেন্ট ক্যাথেড্রাল হয়ে, নিউ মার্কেট থেকে পার্ক স্ট্রিট জুড়ে কলকলিয়ে ঘুরে বেড়াব৷‌ এটা-ওটা-সেটা গিলে মাজ্রাতে টলটলিয়ে বাড়ি ফিরব৷‌ বন্ধুর স্ত্রীর কোমজ্জড়িয়ে নির্দ্ধিধায় বলব, ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা৷‌ হেই ডার্লিং নাইট ইজ টু ইয়ং৷‌ ওয়ান্না ডান্স৷‌

জানেন প্রভূ, প্রতিবছর এই দিনে আমার জন্মদিনও সেলিব্রেট হয়৷‌ ফ্রেন্ডস-রিলেটিভরা সবাই হ্যাপ্পি বাড্ডে বলে৷‌ আমি গুটখা মুখে ঠোঁটজোড়া ঊর্ধে তুলে বলি ঠ্যাঙ্ক ইউ৷‌ পাছে মুখ নিঃসৃত রক্তরস ফচ‍্ করে বেরিয়ে যায় তাই সদা সতর্ক থাকি৷‌ এদিন মোমবাতি জ্বালানো হয়৷‌ কেক ব্রেক হয়৷‌ ব্রেক ডান্স হয়৷‌ গান-ফান হয়৷‌ ফান-মস্তি হয়৷‌ মস্তি-পার্টি হয়৷‌ পার্টি-ডার্টি হয়৷‌ ডার্টি-পলিটি‘ হয়৷‌ রাত গভীর হয়৷‌ আমরা-ওরা দুভাগে ভাগ হয়ে টলতে টলতে টুলু বাবু হয়ে যে যার বাড়ি চলে যায়৷‌ বিশ্বাস করুন প্রভূ, এছাড়া যে আমাদের বেঁচে থাকার কোনও মেড ইজি জানা নেই৷‌ আমাদের বড়দিন, আচ্ছে দিন আর দুর্দিনের মধ্যে যে কোনও দাঁড়ি-কমা-ফুলস্টপও নেই! আমাদের ৩৬৫ দিনই টোট্টাল একটা প্যাকেজ৷‌ ছেঁড়া জালে যা ওঠে সেটাই আমাদের ফায়দা ওরফে পয়দা৷‌

মাইরি বলছি প্রভূ, জানেন, আমার মধ্যেও মাঝেমাঝেই একটা যীশু যীশু ভাব জেগে ওঠে৷‌ মানে যাকে বলে যীশুগিরি৷‌ একগালে কেউ থাপ্পড় মারলে আর এক গাল বাড়িয়ে দিই৷‌ সাত চড়ে রা কাড়ি না৷‌ আমার ভাতের পাতে যদি কেউ হাত মারে তো আমি মুখ বুজে উপবাসে থাকি৷‌ বস্ত্রদান থেকে অস্ত্রদান, অভাবী শুনলেই তার চৌকাঠে ছুটে যাই৷‌ চোখের জল ফেলি৷‌ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই৷‌ বই-খাতা-পেন-পেন্সিল থেকে, পুজোয় জামাকাপড় থেকে শীতে কম্বল-চাদর থেকে আই মীন, মানুষের পাশে, মিডিয়ার সাথে থাকতে আমার হেব্বি লাগে৷‌ এক ডেটে জন্ম হলে কী হবে, তবুও কিন্তু আমি এ জীবনে টোয়েন্টি পারসেন্টও, লাইক আপনার মতো হতে পারলাম না৷‌ সবাই বলে ওপরে আপনার সঙ্গে আমার হেব্বি মিল৷‌ সবাই এও বলে, ভেতরে পুরো পাল্টিবাবা৷‌ মন আর মুখ ডাবল ভার্সন ফিল্মের মতো৷‌ লাইক তরমুজ৷‌ ভেতরে লাল বাইরে সবুজ৷‌ কিন্তু আপনার কথা যখনই ভাবি আজও আমার রাতের ঘুম হ্যাং করে যায়৷‌ আপনি তো মশাই আজব পাব্লিক! সম্রাটের পোষা গুন্ডারা যখন আপনার মাথায় কাঁটার মুকুট পরিয়ে দিচ্ছে, আয়ূরেখার ওপর পেরেক পুঁতে সিল করে দিচ্ছে, বডি পারমানেন্টলি শাট ডাউন করে দিচ্ছে, সারা শরিলে চাবুকের দাগে রক্তারক্তি কেস তখনও আপনি টলি-হিরো পোসেনজিতের মতো দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে ছিলেন৷‌ কোনও পোতিবাদই কল্লেন না! তখনও মশাই মানুষকে আপনি কী করে এত ভালবাসতে পারলেন আমার গবেট হার্ড ডিস্কে আজও সেটা কিছুতেই ঢুকল না! হেব্বি পেশেন্স তো আপনার! এই জন্যেই আপনি সন অফ গড আর আমি থার্ড ওয়ার্ল্ডের থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার৷‌ আমি কিন্তু আপনার মতো অতটা পারব না৷‌ শুনুন, এখন ঘোর কলি৷‌ প্রেম-সততা ইকুয়ালটু ডায়নোসর৷‌ দুটোই বিলুপ্ত৷‌ তাই কেউ যদি আমার লেজে পা দেয়, আমিও তাকে কাঁসার থালায় ছাই দেব৷‌ বুঝিয়ে দেব আমি কে৷‌ ভেতরের শয়তানটাকে জাগিয়ে তুলতে আমার ঠিক সাড়ে তিরিশ সেকেন্ড লাগে৷‌ রক্ত ঝরিয়ে বাওয়াল করব, জনজীবন অচল করব, চাক্কা জ্যাম করব, অবরোধ করব, হরতাল করব, অনশন করব৷‌ ফুল ব্যাটেলিয়ন নামিয়ে রোড শো করে বুঝিয়ে দেব কে কত মায়ের দুধ খেয়েছে৷‌ তবু যারা বিশ্বাস করে না আমি আছি, তাদের মার্জনা করো প্রভূ আ-আ-আ, ও-ও-ও৷‌

[লেখাটি ইতিমধ্যে কলকাতার দৈনিক আজকাল-এ প্রকাশিত]

Comments

ইকারাস এর ছবি
 

অসাদারণ!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মাটির ছেলে
মাটির ছেলে এর ছবি
Offline
Last seen: 3 years 3 months ago
Joined: শনিবার, মে 3, 2014 - 11:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর