নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

অরণ্যের দিনরাত্রি # ৪র্থ পর্ব # যমুনা ইকো পার্ক @ সিরাজগঞ্জ


বাংলাদেশে বনাঞ্চলের পরিমান এমনিতেই কম। তার মাঝে উত্তরাঞ্চলে তো বন খুঁজে পাওয়াই কঠিন। যমুনা ইকো পার্ককে বলা যায় উত্তরবঙ্গের সব থেকে বড় কৃত্রিম বন। বিশেষজ্ঞরা উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে এই আশংকা করে থাকেন যে অদূর ভবিষ্যতে হয়তবা এইখানে মরুভুমিকরন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু আপনি যদি একবারের জন্য হলেও ঘুরে আসতে পারেন যমুনা ইকো পার্ক থেকে, তাহলে সেই আশংকা আপনার মনে দানা বেঁধে উঠতে পারবে না। চলুন, যান্ত্রিক এই নগর থেকে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিয়ে সবুজের আলিঙ্গনে বাঁধা পড়ি।

আমার যা ঘোরাঘুরি হয় তার বেশিরভাগই হয় অফিসিয়াল কাজে। এইরকম এক অফিসিয়াল ট্যুরে গত বছরের এপ্রিল মাসে গিয়েছিলাম রাজশাহীতে। ৭ দিনের ট্যুরে রাজশাহী থেকে পাবনা এবং সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা ফিরেছিলাম। সিরাজগঞ্জ ছিলাম দুইদিন দিনরাত। এর মাঝে একদিন বিকেলে সময় পেয়ে এরিয়া ম্যানেজারের বাইকে চড়ে বসলাম যমুনা পার্কে যাব বলে। সেদিন বিকেলে প্রচণ্ড বাতাস ছিল। যমুনার পাড়ে সবসময়ই বাতাস থাকে। তাঁর উপর আগের রাতেই একপশলা বৃষ্টি হয়েছিল। তাই এপ্রিল মাস হওয়া সত্ত্বেও প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। এমন হিমশীতল আবহাওয়ায় কাঁপতে কাঁপতেই পৌঁছে গেলাম ইকো পার্কের প্রবেশপথে।

সন্ধ্যায় ইকো পার্ক বন্ধ করে দেয়। আমরা যখন গিয়েছি তখন দর্শনার্থীরা বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিছুটা অনুরোধ আর ১০০ টাকার একটা নোটের কল্যাণে গেটকিপারকে ম্যানেজ করে আধা ঘণ্টার জন্য পার্কের ভিতরে প্রবেশ করলাম। বাইক থাকায় পুরো পার্ক ঘুরে দেখার জন্য আধা ঘন্টাই যথেষ্ট ছিল। গেট দিয়ে ঢুঁকেই দুটি রাস্তা। একটা রাস্তা বামে চলে গেছে; আরেকটা সোজা চলে গেছে যমুনা নদী পর্যন্ত। আমরা সোজা রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম।

নদীতীরে এসে দেখি মোটা তারের জাল। এই জাল দিয়ে পুরো পার্কটাকে ঘিরে রাখা হয়েছে যেন পার্কের অধিবাসীদের (বানর, হরিণ ইত্যাদি) কোন সমস্যা না হয়। তাঁরের জালের ভেতর দিয়ে যমুনা নদী এবং ত্র উপর এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু বঙ্গবন্ধু সেতু দেখা যায়।

ডানদিকে যাবার রাস্তা বন্ধ। অতএব বাম দিকের রাস্তা ধরে বাইক ছুটে চলল।

মনে মনে তপুর সেই গানটার প্যারোডি করে ফেললাম।

একপাশে অরণ্য, আর একপাশে নদী।
আমার ১২০ সিসির বাইক, যাবে কি?

(তপুপ্রেমীরা দয়া করে মাইন্ড খাইবেন না প্লীজ)।

চলার পথেই চোখে পড়ে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য কিছু ছোট কুঁড়েঘর কিংবা যাত্রী ছাউনি।

বাইকের রাস্তায় ইটের খোয়া বিছানো ছিল। বা পাশের জঙ্গল আমাদের কাছে টানছিল। কতক্ষণ আর সে আকর্ষণ উপেক্ষা করা যায়। তাই জঙ্গলে ঢোকার পথ চোখে পড়তেই বাইক চালিয়ে জঙ্গলের ভিতর ঢুকে পড়লাম।

চারদিক ছিল অসম্ভব নির্জন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। তাই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না।

চলার পথে হঠাত করেই চোখে পড়ছিল বানর যারা কিচকিচ শব্দ তুলে এ দাল থেকে ও ডালে লাফাচ্ছিল আর আমাদের দেখে ভেঙচি কাটছিল।

পার্কের ভিতর আরও আছে হরিণ, সজারু, ময়ূর এবং খরগোশ।

মজার ব্যাপার হচ্ছে পার্কের চারপাশের রাস্তাটা হচ্ছে উপবৃত্তাকার। তাই হঠাত করেই আমরা দেখলাম যে আমরা পার্কের প্রবেশ্মুখে চলে এসেছি। যাত্রা শুরু করেছিলাম সোজা রাস্তা ধরে। ঘুরতে ঘুরতে ফিরে এসেছি বামপাশের রাস্তা ধরে। শখ মিতে নি পুরোপুরি। তাই আর একবার চক্কর দিয়ে ইকো পার্ক ভ্রমণ শেষ করলাম।

যমুনা ইকো পার্কের কিছু তথ্য জেনে নিন। ১২৪ একর আয়তনের এই পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ৯ তারিখ। উদ্বোধন করেন সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব খান মোহাম্মদ ইব্রাহীম। উদ্বোধনের সময় পার্কে ৮ টি হরিণ ছাড়া হয়। পরবর্তী কিছুদিনের মাঝেই পার্কে ১০ টি খরগোশ, ২১ টি হরিণ, ৫ টি সজারু, ২ টি বানর এবং ২ টি ময়ূর ছাড়া হয়। এরপর পযায়ক্রমে আরো বিভিন্ন সময় এসব প্রাণী ছাড়া হয় পার্কে। কিন্তু দুঃখের বিষয় শেয়াল আর কুকুরের আক্রমণে অনেকগুলই মারা যায় তাই বেশ কিছু প্রাণীকে খাচাবন্দী করে রাখা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০০ পর্যটক এই পার্ক দেখতে আসেন। পিকনিক পার্টিও মাঝে মাঝেই আসে। যার ফলে বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ প্রতিনিয়তই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এক দিনের প্যাকেজ ট্যুরের জন্য যমুনা ইকো পার্ক চমৎকার জায়গা। হাতে সময় থাকলে বেরিয়ে পড়ুন। খুব ভোরে রওনা দিলে পার্ক ঘুরে রাতেই ঢাকা ফেরা যাবে। শেষ করার আগে চলুন দেখে নেই উপগ্রহ থেকে যমুনা ইকো পার্ককে কি চমৎকার লাগে দেখতে।

বিঃদ্রঃ অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশের অরণ্যগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পোস্ট দিব। উদ্দেশ্য খুব সহজ, আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পাঠকের সামনে তুলে ধরা এবং সবাইকে ভ্রমণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে দেশপ্রেমের সলতেটাকে আরেকটু জ্বালিয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই নাগরিকব্লগে প্রথম "অরণ্যের আগন্তুক" নামে সিরিজ শুরু করি। ইষ্টিশনের যাত্রী তালিকায় নাম উঠানোর পর মনে হল এখানকার যাত্রীদের বঞ্চিত করা আমার ঠিক হবে না। তাই এখানে "অরণ্যের দিনরাত্রি" নামে সিরিজটি পুনরায় চালু করলাম। একবার ভেবেছিলাম আগে প্রকাশিত ভ্রমণ কাহিনী এখানে শেয়ার করব না। কিন্তু তাহলে ইষ্টিশনের অনেক যাত্রীই অনেক জায়গার বর্ণনা মিস করবেন। সেটা চাই না তাই আপনাদেরকে কিছুটা বিরক্ত করবই। ইষ্টিশনের যাত্রীদের এইটুকু বিরক্ত করবার অধিকার মনে হয় আমি রাখি। কি বলেন সবাই? :ভালুবাশি:

১ম পর্ব # বর্ষীজোড়া ইকো পার্ক, মৌলভীবাজার

২য় পর্ব # দুলাহাজরা সাফারি পার্ক, কক্সবাজার

৩য় পর্ব # রাতারগুল জলাভূমির বন, সিলেট

Comments

সাগর সাগর এর ছবি
 

চমৎকার যায়গা। ছবি দেখে ধারণা করলাম। এখনও যাইনি। কত্তো যায়গায় যে এখনও যাইনি? :মাথাঠুকি:

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

কি আর করবেন? কান্নাকাটি করেন। :শয়তান:

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
সুমিত চৌধুরী এর ছবি
 

আগেও পড়েছিলাম। আবারও পড়ে ভালোই লাগল।

○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○
জয় বাংলা... জয় বঙ্গবন্ধু...
নিজেই কানা পথ চিনে না,পরকে ডাকে বারংবার।
জামাত-শিবির রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়।

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

বইসা আছেন ক্যান? যান গা, ঘুইরা আসেন। :পার্টি:

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
সুমিত চৌধুরী এর ছবি
 

ট্যাকা কই? :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○●○
জয় বাংলা... জয় বঙ্গবন্ধু...
নিজেই কানা পথ চিনে না,পরকে ডাকে বারংবার।
জামাত-শিবির রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়।

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

:খাইছে: আপনের ট্যাকা-পয়সার অভাব আছে নি? :মাথানষ্ট:

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
মোশফেক আহমেদ এর ছবি
 

ভাই নিয়া যাইবেন? :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

নিয়া যাইতে আপত্তি নাই তবে স্পনসর কিন্তু আপনাকেই হতে হবে :শিস:

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
ছন্নছাড়া রাইয়ান এর ছবি
 

Porei jaygatay chole gelam..Ak kthay oshdadharon

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

বাস্তবে ছবির থেকেও অনেক সুন্দর।

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
নন্দিনী এর ছবি
 

প্রতিবার বাড়ি ফেরা বা ঢাকায় আসার সময় বাস থেকে দেখি আর আফসোস করি...... :কানতেছি:

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

কাইন্দেন না। স্পেশাল মানুষটারে সাথে নিয়া ঘুইড়া আসেন। :চোখমারা:

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 
নাভিদ কায়সার রায়ান এর ছবি
 

যাক, অবশেষে আপনাকে ধরতে পেরেছি। এখানে গিয়েছিলাম। চমৎকার জায়গা। আমরা আবার কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে একটা জায়গা থেকে নৌকা ভাড়া করেছিলাম। সেটাতে করে যমুনার একটা চরেও নেমেছিলাম। ছবিগুলো আছে কিনা দেখি। শেয়ার করবো!
আপনার লেখা খুবই ভালো।
:ফুল:

 
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
 

ধন্যবাদ :ফেরেশতা:

******************************
যে আমি বিতর্ক করি
সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে....

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

শঙ্খচিলের ডানা
শঙ্খচিলের ডানা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: রবিবার, ফেব্রুয়ারী 3, 2013 - 11:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর