নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • দ্বিতীয়নাম
  • নীল কষ্ট
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • অনন্ত দেব দত্ত
  • কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
  • বিডিবি

নতুন যাত্রী

  • মাষ্টার মশাই
  • লিটন
  • অনন্ত দেব দত্ত
  • ইকরামুল হক
  • আবিদা সুলতানা
  • ইবনে মুর্তাজা
  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • ঝিলাম নদী
  • কিশোর ফয়সাল
  • উসাইন অং

আপনি এখানে

শাহবাগ গণজাগরণের ভেতর-বাহির এবং ইউটোপীয় কল্পরাজ্যের সালতামামি


শাহবাগ নিয়ে একুনে গোটা দুই লেখা লিখেছি মাত্র। ‘শাহবাগ গণজাগরণের প্রেক্ষিত, বাস্তবতা, অভীষ্ট লক্ষ্য এবং নীতি-কৌশল নিয়ে দু-চার কথা’ শিরোনামে লিখেছিলাম ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সে সময় লেখাটি ছিল কেবলই শাহবাগ নিয়ে। শাহবাগ কি করে গণজারণমঞ্চ হয়ে উঠল, শাহবাগই কি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবী প্রথম তুলল, না তারও আগে দাবীটি উঠেছল তা নিয়ে পরে লিখব লিখব করেও হয়ে ওঠেনি। আরো একটি কারণ ছিল না-লেখার। যখন কোথাও উত্তল তরঙ্গের মত ক্রাউড বা মব সংগঠিত হয় তখন নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায় কে বা কারা সেটির নেতৃত্বে আছেন। যারা সে সময় এই মবকে সংগঠিত করেছিলেন তারা তখন মব-এর শক্তিমত্তায় এতটাই বিভোর ছিলেন যে তাদের কাছে অকাট্য যুক্তিও বাতিলযোগ্য মনে হয়েছে। সেটা এমনই এক সময় যখন কেবলমাত্র ‘শাহ’ শব্দটি বা ‘গণ’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই বক্তার রাজনৈতিক আনুগত্য স্থীর করে নিয়ে তাকে হেনস্তা হতে হয়েছে। এতে অবশ্যি অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ মব-এর চরিত্রই এটা। যা হোক, আজকের শাহবাগ বা গণজাগরণমঞ্চ যে প্রান্তিকসীমায় এসে দাঁড়িয়েছে তাতে করে এখনো পক্ষ-বিপক্ষ লাঠালাঠি, কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে। একপক্ষ বলছেন-শাহবাগ শেষ হয়ে গেছে। অন্য পক্ষ বলছেন শাহবাগের মৃত্যু নেই। সর্বশেষ গণজাগরণমঞ্চ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে যা যা ঘটেছে তার সবিস্তার বর্নণায় না গিয়েও কিছু কথা বলা দরকার। কেননা শাহবাগ একটি সময়কে ধারণ করেছে। একটি সময়কে আরেকটি সময়ের কাছে ঠেলে নিয়েছে, এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।

যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রথম দাবীঃ
----------------------------

যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবীটি ওয়েব জগতে প্রথম ওঠে ২০০৮ সালে। ‘সামহোয়ারইনব্লগ’ এবং ‘আমার ব্লগ’-এর কিছু তরুণ-তরুণী এই দাবীটি সকলের সামনে তুলে আনেন। ব্লগের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বা জনগুরুত্বসম্পন্ন লেখা ‘স্টিকি’ করা হত। আমরা যারা এই বিচারের দাবীটি অনলাইনে তুলতে শুরু করলাম তারা ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে বসে তাদের সহমতও নিয়েছিলাম বলে সেই সব পোস্টও নিয়মিত স্টিকি হতে থাকে। সেই সব ইতিহাস অনেক ব্যাপ্ত বলে এখানে শুধুমাত্র চুম্বক অংশগুলোই তুলে আনছি। প্রথম দিকে ছবিরহাটে আমরা নিয়মিত বৈঠক করতে থাকি। এক একটা বৈঠকের পর পরই তা ব্লগে আপডেট দেয়া হত।

শাহবাগের বৈঠকের পর যে কমিটি করা হয় তার আহবায়ক ও সমন্বয়ক ছিলেন অরণ্য আনাম ও মাহমুদুল হাসান রুবেল। অন্যান্য সদস্যবৃন্দঃ মনজুরুল হক, রনজু ভাই, আইরিন সুলতানা, অমিত দাস, মার্শাল রিচার্ড, সাবরি, একরামুল হক শামীম, টুটুল, মেজবাহ য়াযাদ, হাসান সাগর (যীশূ), জাবির, মিজান, চয়ন, রাসেল রহমান, হেলাল, সাজিদ, বিহঙ্গ, আবদুর রহমান রোমাস। বলা হয়েছিল সদস্য সংখ্যা ক্রমান্বয়ে আরো বৃদ্ধি করা হবে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ইভেন্টটি শুরু হলেও তা গতি পায় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতেই। সে সময় পালা করে আইরিন সুলতানা এবং আমি (মনজুরুল হক) ব্লগে পোস্ট দিতে থাকি। সেই পোস্টগুলো স্টিকি করে রাখা হয়। ২২শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯ প্রেসক্লাবে একটি প্রেস কনফারেন্স করার পর পরই আসলে দাবীটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে এবং আরো গতিপ্রাপ্ত হয়।

সে সময় সিনিয়র ব্লগারেদের মধ্যে আরিফ জেবতিক, অমি পিয়াল, মেজবাহ য়াযাদ, রঞ্জু ভাই, কৌশিক প্রমুখদের নেতৃত্বের মূল ধারায় আসার কথা থাকলেও হয়নি। পিয়াল এর কিছুদিন আগে ‘যৌবনজ্বালা’ সাইট নিয়ে ফাঁপরে পড়েছে। তার সে সময়কার যে ভাবমূর্তি কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবীতে স্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচিতে একীভূত করার বাস্তবতা ছিলনা। তার পরও ২২ ফেব্রুয়ারির প্রেস কনফারেন্সে তাকে রাখা হয়েছিল, কারণ কেউ কেউ মনে করেছিলেন এতে করে পিয়ালের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হতে পারে। আমরা চেয়েছিলাম মূল নেতৃত্ব থাকবে একেবারেই তারুণ্যের হাতে। সেভাবেই কাজ এগুচ্ছিল। সেই সময়টাকে অনুভব করার জন্য নিচের লিংকগুলো সাহায্য করবে।

আইরিন সুলতানার লিংকঃ
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/28900144
http://www.somewhereinblog.net/blog/laboniblog/28917425

মনজুরুল হক-এর লিংকঃ
http://www.somewhereinblog.net/blog/monjuraul/28919244
http://www.somewhereinblog.net/blog/monjuraul/28924476
http://www.somewhereinblog.net/blog/monjuraul/28924815

আমাদের লক্ষ্য ছিল কমপক্ষে ১০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আগামী সরকারের কাছে পেশ করা। আমরা তখনো জানিনা কারা ক্ষমতায় আসছে! ২৫ মার্চ কালো রাতের ঠিক আগে সন্ধ্যেবেলা আমরা রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে আমাদের কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্ব শুরু করি। এরপর মার্চ পার হয়ে এপ্রিল আসে। এপ্রিল পেরিয়ে জুন। মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়। আমরা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে একের পর এক বৈঠক করি। এরই মধ্যে কয়েকজন সিনিয়র ব্লগারের সাথে আমাদের তরুণদের মনমালিণ্য। এবং সেই চিরায়ত সেটব্যাক! সেই বিধিবদ্ধ নিয়ম-হিডেন নামের ব্লগাররা বেশীদিন একসাথে কোনো কিছু করতে পারেন না। যে উৎসাহ-উদ্দীপনায় কয়েকটি মাস তরুণরা অক্লান্ত পরিশ্রম করল, মহান একুশে বইমেলায়, দেশের প্রত্যন্ত জেলা-উপজেলায় ফরম পাঠিয়ে, নিজেরা গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করল তার করুণ পরিসমাপ্তি হল ওই শ্যাওলাধরা গজার মাছের মত পাণ্ডিত্য জাহির করা সিনিয়রিটির কেরিক্যাচারে। অধিক সণ্যাসীতে গাজন নষ্ট’র আরেকটি জ্যান্ত ইতিহাস সৃষ্টি হল। তারপর আর কেউ জানেনা সেই অসমাপ্ত স্বাক্ষরকৃত ফরমগুলো কোথায় গেল? সেই তেজদীপ্ত তারুণ্য কোথায় হারাল? আমি আমার সাধ্যমত বিবাদ মেটাতে চেষ্টা করেছিলাম, কাজ হয়নি। অহমে ঘা-লাগা তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত ব্লগারদের স্বেচ্ছাচারিতায় কার্যক্রমটি স্থবির এবং স্তব্ধ হয়ে গেল।

এর পরের ইতিহাস সবার জানা। ২০১৩ সালে কাদের মোল্লার ফাঁসির বদলে জাবজ্জীবন রায় হলে শাহবাগে কিছু তরুনের উপস্থিতি। ৫ তারিখেই ইমরান এইচ সরকার আমাকে ফোন কল দিয়েছিলেন। কেন দিয়েছিলেন? তার উত্তরে তিনি ২০০৯ সালের আমাদের সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।আমি গিয়েছিলাম। বরাবরের মতই নেপথ্যে। মঞ্চে উঠে বক্তৃতাবাজীকে এইক্ষেত্রে ননএথিক্যাল মনে হয়েছিল।। আর কেবলমাত্র দুএকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার বা ফাঁসি আমার দাবী নয়। কেন নয় সেটা আমি ওই ব্লগেই ২২ পর্বে লিখে রেখেছিলাম, যা পরে বই আকারে প্রকাশ হয়েছিল। শাহবাগে অবস্থান করিনি, কিন্তু শাহবাগ থেকে কি খুব বেশী দূরে ছিলাম? না। শাহবাগকে কেমন দেখতে চাই সেকথাই লিখেছিলাম ২১ ফেব্রুয়ারি এই ফেসবুক-এ। তখন আমার যে অবস্থান ছিল এখনো সেখান থেকে এক চুলও নড়িনি।

শাহবাগের গণজাগরণের প্রেক্ষিতঃ
----------------------------
একটি কারণে এই আন্দোলন অভূতপূর্ব। স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীকারের লড়াই এবং স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম ছিল প্রায় সমগ্র জনগণের। এবং সেই আন্দোলনগুলি কোনো না কোনো ভাবে ছিল বিদেশি শাসক বা দেশি শাসকদের বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াই, কিন্তু এই আন্দোলনটি একেবারেই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্ভব। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে না, অথচ চূড়ান্ত বিচারে রাষ্ট্রেরই বিরুদ্ধে। সরকারের বিরুদ্ধে না, অথচ শেষ পর্যন্ত সরকারের আপোষকামীতার বিরুদ্ধে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে না, অথচ সেই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত স্টাবলিশমেন্টেরই বিরুদ্ধে এই গণজাগরণ। কিন্তু শাসক দলের ‘নেক নজর’ সম্বল করে চেতনে-অবচেতনে তাদের এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের ‘গুরু দায়িত্ব’ নিয়ে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব একে ‘স্টপ ওয়াচ’ আন্দোলনে রূপ দিয়েছে।

সরকারের ভাষ্যমতে সংসদে জামাত নিষিদ্ধ বিল তুলে পাশ করানোর আগে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সমর্থন নিতে হবে। তাপর ৭২ এর সংবিধানের ৪৭ (৩) ধারা প্রয়োগ করে জামাতকে নিষিদ্ধ করা যাবে। এরই মধ্যে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন-ওভাবে করলে সমস্যা আছে (আসলে তারা বলতে চাইছেন বিপদ আছে!) এর পর তারা পরামর্শ দিয়েছেন জামাতকে জনগণের গ্রহণযোগ্যতার যায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন করলে জামাত এমনিতেই শক্তিহীন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে! আরও একদল মত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল করলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! কিন্তু এবংবিধ জটিলতা থাকায় নিষিদ্ধকরণ বিষয়টি নিয়ে সরকার বা সুশীল সমাজ কেউই নির্দিষ্ট করে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না। ‘পারছেন না’ না বলে বরং বলা ভালো ‘দিচ্ছেন না’।

জামাতকে নিষিদ্ধ করার জনপ্রিয় দাবীর পেছনের রাজনীতি কী?
-----------------------------------------------------
একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদদাতা জামাত সন্দেহাতীতভাবে ত্রিশ লক্ষ মানুষের হত্যাকাণ্ড, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর অংশীদার। বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী, হাজার হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, পাকিস্তানি সৈন্যদের সকল পাপের সমান ভাগিদার। সন্দেহাতীতভাবে স্বাধীনতার বিরুদ্ধচারণ। প্রত্যক্ষ ভাবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণকারী। সরাসরি বাংলাদেশকে অস্বীকারকারী এবং ৭২-এর সংবিধারন লঙ্ঘনকারী। মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামাতের এই সকল অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। অথচ এতকিছুর পরও স্বাধীনতার ৩৬ বছর পর্যন্ত এই দলটিকে নিষিদ্ধ করার বদলে তাদেরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। করেছে এদেশের প্রধান প্রধান সব দল। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের আগুনে পোড় খাওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমর্থক ত্বত্ত্বাবধায়ক সরকারও এদের লালন-পালন করেছে। গত ছত্রিশ বছর ধরে এদের সামাজিকভাবে মর্যাদার আসনে বসানো হয়েছে। ঘৃনিত রাজাকারদের মন্ত্রী বানানো হয়েছে। এবং নির্লজ্জের মত এদের সকল পাপ কর্মকে ‘অতীত’ বলে ‘গত হয়ে যাওয়া বিষয়’ বা ‘পেছনের বিষয়’ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। জামাতকে নিয়ে এদেশের প্রধান দুটি দল বা জোট যে ন্যাক্কারজনক রাজনীতি করেছে তার উদাহরণ সারা বিশ্বে বিরল।

কিন্তু কেন? জামাত কি অপ্রতিরোধ্য দল? জামাতের সংস্রব কি অলঙ্ঘনীয় ছিল?
--------------------------------------------------------------------
না। তার পরও রাজনীতির রাজা-উজির, বড়ে-মন্ত্রী খেলায় জামাতকে দুটি প্রধান দল তথা সেই দুটি দলের সমর্থক গোষ্ঠি তুরুপের তাস মনে করে কখনো আঁচলে ঠাঁই দিয়েছে, কখনো দুধ-কলা দিয়ে পুষেছে, কখনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ কি করেছে? ১৯৯৬ নির্বাচনে জয়ী হয়েও জামাতকে নিয়ে একসাথে চলতে কোনো সমস্যা হয়নি আওয়ামী লীগের। '৭৩, '৮৭, '৯৬ এর মতো এবারও ‘আঁতাত’ করেছে জামায়াতের সাথে। কসাই কাদের মোল্লার ঘৃণিত অপরাধসমূহ যার দায়ে তার অন্তত পাঁচ বার ফাঁসি হওয়ার কথা তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল সেই ট্রাইব্যুনালে দুর্বল প্রসিকিউশনের দায় আওয়ামী লীগেরই। এবার তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ,কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের এই দোদুল্যমানতা, বিএনপির নির্লজ্জ জামাতঘনিষ্টতা, বামদের ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের মোহময় নির্লিপ্ততা দেখে এবং বিশেষ করে কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসি না হওয়ায় অকস্মাৎ ফুঁসে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম। গর্জে উঠেছে শাহবাগে লাখো তরুণ। অভূতপূর্ব এই গণজোয়ার সৃষ্টির পর শাসক দল এবং বিরোধী দলসহ অপরাপর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যার যার পক্ষ ঠিক করে নিয়েছে। যত দিন গড়িয়েছে ততই এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এই আন্দোলনের চেহারা যতই ‘কার্নিভাল’ এর মত দেখাক না কেন এটা যে শাসকশেণীর এতদিনকার ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিয়েছে তা বুঝতে পণ্ডিত হতে হয় না। কিন্তু তার পরও কি শাসকশ্রেণীর নেপথ্যক্রিড়া বন্ধ আছে? মোটেই নয়। শাসকশ্রেণীর সব কয়টি ফ্যাকশনই সেই পুরোনো কৌশল প্রয়োগ করে চলেছে। ‘চোরেরে কও চুরি করো-গৃহস্তরে কও ধরো ধরো’ নীতিতেই তাদের দাবা বোর্ডের গুটি নড়াচড়া করছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী জনতার অংশগ্রহণ ছাড়া শুধু মাত্র ছাত্র-যুবারা আর কতদিন আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবে? শেষ পর্যন্ত পারল কি?

---------------------------
দেখা যাচ্ছে এই আন্দোলনে যতনা বাস্তবতার নিরীখে চলেছে তার যেয়ে বেশী চলেছে আবেগে। বাঁধভাঙ্গা আবেগে। আবেগ জিনিসটা পারদের মত ক্ষণে ক্ষণে ওঠা-নামা করে। এক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। সরকারের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা মেনে নেয়, কিন্তু রাত এগারটায় ব্লগার রাজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বেঁধে দেয়া সময়সীমা থেকে সরে আসে আন্দোলনকারীরা। আবার তারা ঘোষণা করে আন্দোলন চলবে লাগাতার, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত। তাহলে দেখা যাচ্ছে সরকারকে এখন আবার নতুন করে ছক কষতে হবে। কি সেই ছক? হয় আন্দোলনকারীদের দাবী মেনে স্বল্পতম সময়ে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে, বিচারধীন যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে অথবা বল প্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিয়ে একটা অনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। দুটি কাজই সরকারের জন্য বিব্রতকর। তারপরও সরকার শেষ পর্যন্ত তা-ই করেছে।

আন্দোলনকারীদের ৬ দফা দাবী আসলে কী? কার কাছে এই দাবী?
---------------------------------------------------------
দেখা যাচ্ছে যে ৬টি দফা দেয়া হয়েছে তার ৩ নম্বর এবং ৫নম্বর দাবীটিই শুধু ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে করা হয়েছে। বাকি চারটি দাবীই আসলে জনগণের কাছে, জনগণের বিবেকের কাছে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে রাখা হয়েছে। বাকি দাবীগুলি মোটামুটি এরকম; ‘সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি’, ‘উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে’, ‘সোচ্চার থেকে আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়া হবে’, ‘বয়কট করার শপথ নেওয়া হচ্ছে’।

জামাতকে নিষিদ্ধ করার ৩ নম্বর দাবীটি নিয়ে উপরেই আলোচনা করা হয়েছে। জামাতকে নিষিদ্ধ করতে সরকারকে হিমালয় পাহাড় ডিঙ্গোতে হবে না। সরকার ঐকান্তিক হলে সংসদে আইন করেই জামাতকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব।
সংবিধানের ৪৭ (৩) ধারায় বলা আছে; “এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা স্বত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সসস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীদে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।“
এ ছাড়াও ১৫১ এবং ১৫৩ ধারা প্রয়োগ করেও জামাতকে নিষিদ্ধ করা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে জামাতকে নিষিদ্ধ করলেই কি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের শাস্তি হয়েছে বলে মনে প্রতীয়মান হবে? সাম্প্রদায়ীকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভাজিত করণ, নারী-পুরুষের সমানাধীকার নিশ্চিত হবে? জামাতকে নিষিদ্ধ করলেই কি তাদের অতীতের সকল অপরাধ মুছে যাবে? তারা রাজনীতি করার জন্য যোগ্যতাপ্রাপ্ত হবে? আন্তর্জাতিক আইনে কি ধর্মভিত্তিক দল কি থাকতে পারে না? এই সকল প্রশ্নের মীমাংসা খুব সহজ সরল নয়।

ব্যাপক জনসাধারণের কাছে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের গ্রহণযোগ্যতার প্যারামিটার কি?

-------------------------------------------------------------------------
অল্প কিছু ব্লগার এবং অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট নিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা তা দ্রুত গণজাগরণে রূপ নেয়ার পর অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব ধাপে ধাপে আন্দোলনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে যে সব পদ্ধতি বা কৌশল প্রয়োগ করেছিল তাতে সরকারকে আশ্বস্ত করা গেলেও কার্যকর দর কষাকষির হাতিয়া হয়ে উঠতে পারেনি গণজাগরণ মঞ্চ। মোমবাতি প্রজ্জলন, গান, স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন, হেড ব্যান্ড, পতাকা, তিন মিনিট নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা, বেলুন ওড়ানোর মত কর্মসূচী এই আন্দোলনকে হয়ত এক ধরণের ‘কার্নিভাল মুডে’ ধরে রাখতে পেরেছিল, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় এর ঝাঝ বা তেজ কোনো ভাবে সরকারকে সেই সময় পর্যন্ত পোড়ায়নি। সর্বস্তরের গণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় আন্দোলনটি সত্যিকারের গণআন্দোলন হয়ে ওঠেনি। যুদ্ধাপরাধের বিচার, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আপামর গণমানুষের দাবী হলেও এখানে সেই দাবীটি উচ্চারিত হচ্ছে কৃষক-শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়াই। এতদিনকার একটি বিস্ফোরিত আন্দোলন কিছু জেলা শহরে সংগঠিত হওয়া ছাড়া প্রতিটি শহরের পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েনি। আন্দোলনের ‘গিয়ার’ বদল করে একে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপে উন্নিত করে চূড়ান্ত লক্ষ্য হাসিলের পথে নিয়ে যাওয়া হয়নি। একই বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে আন্দোলনটি উইন্ড মেপে চলা টিভি চ্যানেলগুলোর বদৌলতে একটি ‘বিশেষায়ীত প্রচার ইভেন্ট’ হয়ে উঠেছিল। শুরু থেকেই 'অরাজনৈতিক' বলে এই আন্দোলনকে এমন এক ঘেরাটোপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছিল যে সরকারকে কিছু বলা যাবে না, ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্ন করা যাবে না। এই আন্দোলন শুধু মাত্র কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়ে! অথচ যে কেউ এটা বুঝবে যে বিক্ষোভটা মূলত রায়ের বিরুদ্ধে এবং সেই রায় দিয়েছে।

শাহবাগ কেন গণঅভ্যত্থানের প্রতিভূ হয়ে উঠলনা?
------------------------------------------
গণজমায়েত, গণজাগরণ বা গণসম্মিলনের একটি কমন চরিত্র থাকে। পূর্বাপর বিচার বিশ্লেষণ না করেও সে উত্তাল তরঙ্গের মত সবকিছু ভাসিয়ে নিতে চায়। এই সম্মিলনও তাই চেয়েছিল। কিন্তু এর নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন; এটি একটি অরাজনৈতিক গণজাগরণ। সরকারকে চাপে রেখে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত করাই এর একমাত্র লক্ষ্য। অনলাইন ব্লগার এ্যাক্টিভিস্ট এবং এইরকম নামের আরো কিছু সংগঠন সে সময় সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। আরো কিছু বাম সংগঠনের ছাত্র-যুব অংশও এর সাথে মিলিত হয়েছিল। তার পরও কেন গণজাগরণটি ব্যাপক জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হল? কারণ যারা যারা এর নেতৃত্বপর্যায়ে ছিলেন তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আমূল পরিবর্তন নয়, বরং সংস্কার বা সংশোধন। সুতরাং এ ধরণের উত্তাল জনসমুদ্র কেবলমাত্র গ্যাদারিং সংগঠিত করতে পারে। নতুন কিছু ভেঙ্গে গড়তে পারেনা। এই বাস্তবতার কারণেই মিশরের তাহরির স্ক্যয়ারের আদলে ব্যাপাক জনসম্পৃক্ততা স্বত্বেও এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো কাঠামোকে স্পর্শ করেনি। মনে রাখা দরকার ১৯৯০ সালে সংগঠিত জনতার মঞ্চও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধাবিত হয়েছিল; স্বৈরাচারের পতন। সেটাও যে গণঅভ্যুত্থান ছিলনা তা তার চরিত্রেও ফুটে উঠেছিল। একটা সামরিক/এলিট রেজিম থেকে আরেকটা বেসামরিক/এলিট রেজিমে রূপান্তর ছিল মাত্র।

কিন্তু শাহবাগে সমবেত বামদের একাংশ মনে করেছিল এই গণজাগরনকেই আরো উত্তাল করে গুণগত এবং পরিমানগত পরিবর্তনের নিয়ামক করা যায়। অথচ সেই লক্ষ্যটিকে সামনে রেখে যে ধরণের কর্মসূচি দিতে হত তারা সেটি দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাদের নিজেদের ভেতরকার পেটিবুর্জোয়া সুবিধাবাদ, ক্ষুদ্র দলীয় চিন্তা ব্যক্তিবাদ আর আমূল পরিবর্তনজনিত ভীতিই তাদেরকে সাহসী হতে দেয়নি।যে কারণে সরকার এবং সরকারের শরিকরাও জোর গলায় শাহবাগ গণজাগরণকে নিজেদের রাজনীতির যৌক্তিকতা বলে চালিয়ে দিতে পেরেছিলেন। জনগণের মানসে যে কেবলমাত্র দুএক জনের ফাঁসি নয়, বরং ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, পশ্চাদপদতা, কূপমণ্ডুকতা বিরোধী গণচেতনার বিকাশ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্যুলারিজমের পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল সেটা বুঝেই আন্দোলনের প্যারামিটারে ‘স্পিডব্রেকার’ বসিয়েছিল সরকার এবং তার অনুসারীরা। সেই স্পিডব্রেকারের স্যুইচটা স্টাবলিশমেন্টের প্রয়োজনে কখনো অন হয়েছে, কখনো অফ হয়েছে। কখনো ধীরে চলতে দিয়েছে, কখনো খানিকটা গতি অনুমোদন করেছে। এবং ক্রমান্বয়ে এটা বুঝে জনসাধারণ ধীরে ধীরে মঞ্চ ছেড়ে সরে গেছে।

এই মুহূর্তে শাহবাগ গণজাগরণমঞ্চ নিয়ে সরকারের ভেতর-বাইরের রাজনীতিটি কি?
-----------------------------------------------------------------------
শাহবাগে ছাত্র-যুবসমাজের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। তাদের প্রত্যেকেরই ভিন্ন ভিন্ন এজেন্ডা ছিল। এবং সবগুলো এজেন্ডা একসাথে ব্লেন্ড করলে যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের অবকাঠামো, রাষ্ট্রের শোষকযন্ত্র, রাষ্ট্রের নিপীড়ক চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে কেবলমাত্র কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবী। এটি এমনই একটি দাবী যা অর্জনের জন্য কোনো ত্যাগের প্রশ্ন ওঠেনা। ওঠেওনি। অযথাই রাজীব হায়দারকে মরে যেতে হল। এই নির্বিবাদী দাবী নিয়ে যে আন্দোলন বা গণবিস্ফোরণ সেটিকে ইনক্যাশ করাও ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভিন্ন ভিন্ন এজেন্ডা। কেউ লাইমলাইটে আসতে চেয়েছেন, কেউ লাইমলাইটে থাকা অবস্থায় আরো বেশী লাইটপ্রাপ্ত হতে চেয়েছেন। কেউ হারানো মিডিয়া সংশ্লিষ্টতা ফিরে পেতে চেয়েছেন, কেউবা তার প্রায় মৃত রাজনীতিকে কোরামিন দিয়ে জ্যান্ত করতে চেয়েছেন। এরই ভেতর কত জনে কত রকমভাবে এই শাহবাগকে ইনক্যাশ করেছেন সে ইতিহাস এতটাই বিস্তৃত যে এখানে স্থান সংকুলান হবেনা। কে কিভাবে শাহবাগকে ব্যবহার করেছেন তার খতিয়ান আপাতত তোলা থাকুক।

কিন্তু ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরও গণজাগরণ কেন?’ প্রশ্নটি সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাথায় যখন ঘুরপাক খাচ্ছে ঠিক তখনই অনেকটা দাম্ভিকতার সাথে ইমরান নিজেকে বিশাশ ক্ষমতাবানের সারিতে বসিয়ে দিয়েছেন। যেটা সরকারের পছন্দ হওয়ার কথা নয়। হয়ওনি।সরকার এবং সরকারের শরিকরা তক্কে তক্কে ছিল কখন শাহবাগের হার্টলাইন বন্ধ করে দেয়া যায়! ঠিক সেই সয় সেই আগের অবস্থান থেকে যখনই ইমরান তার গত এক বছরের ‘অর্জন’কে পুঁজি করে নিজেকে গণজাগরণের একমাত্র প্রতিভূ ভেবে বলে বসলেন ‘শাহবাগ গণজাগরণমঞ্চ রাজনৈতিক’, তখনই নড়চেড়ে বসল সরকার।

গত ৫ ফব্রেুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চরে আন্দোলনরে এক বছর র্পূর্তিতে ইমরান বললেনঃ ‘রাজনীতরি প্রভাব এ আন্দোলনে ছিল এবং এখনো আছে কারণ এটি একটি রাজনতৈকি আন্দোলন। মঞ্চের হয়ে যারা আন্দোলন করছে এরা মূলত রাজনীতইি করছে কারণ আমাদরে সুস্পষ্ট দাবি রয়েছে, আমাদরে আদর্শিক অবস্থান রয়েছে। সুতরাং এটা রাজনীতির বাইরে নয়। তবে হ্যাঁ, আমরা হয়তো কোন দলীয় বা ভোটরে রাজনীতি করিনি’
ছাত্রলীগ কেন গণজাগরণ মঞ্চ ত্যাগ করল? কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ কেন গণজাগরণ মঞ্চ ছেড়েছে তার জবাব তারাই ভালো দিতে পারবে, কারণ, প্রথমত তারা কেন চলে গলে তার কোন ব্যাখ্যা তারা দিয়ে যায়নি। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন ছিল সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে। সরকারের কাছে দাবি জানানো মানে সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলন। হয়তো সরকার পতনের আন্দোলন আমরা করিনি, কিন্তু আমাদের দাবির ফলে সরকারকে নানা সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে, ফলে সরকারবিরোধী এ আন্দোলনে সরকারি দলেরই একটি অঙ্গ-সংগঠনের থাকাটা হয়তো কঠিন হয়ে গিয়েছিল।‘
ইমরানের এই স্বাক্ষাতকারের পর পরই এখনকার শাহবাগকলাপসের শুরু।

আদতে কি শাহবাগের গণসম্মিলনকে গণজাগরণ বলা যাবে? বিশ্লেষকরা কী বলেন?
----------------------------------------------------------------------
অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ লিখেছেনঃ ‘শাহবাগে আজ বাংলাদেশের যে নতুন প্রজন্ম আন্দোলন করছে তারা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। ধর্মের আদি সুর যে মানবতাবাদ, সেটা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, তাদের ধর্মীয় মুখোশ খুলে দিতে হবে। স্পেডকে স্পেড বলতে হবে। খুনিকে খুনি বলতে হবে। নানা বয়স, নানা মত, নানা রাজনৈতিক পথের পথিক, নানা রংয়ের মানুষ এখন নতুন প্রজন্মের ডাকে সাড়া দিয়েছে। তাদের সবার কণ্ঠে একটি মহাসঙ্গীত ধ্বনিত হচ্ছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের ফাঁসি চাই। কেউ বলতে পারে, যে আসামীর ফাঁসি চাইছে শাহবাগ সে কি মানুষ নয়? আমি বলব, শারীরিকভাবে সে মানুষ ঠিকই। কিন্তু মানসিকভাবে যদি মানুষ হতো তাহলে বহু আগে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতো, ক্ষমা চাইত এবং যথাযোগ্য শাস্তি মাথা পেতে নিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করত। তাই বিপ্লবী মানবতাবাদীর দৃষ্টিতে তারা নরঘাতক পশু।‘

খেয়াল করুন। তিনি বলছেন ‘বিপ্লবী মানবতাবাদী!’ শাহবাগ থেকে তিনি বিপ্লবও কামনা করেছেন। তার এই আকাঙ্খার বিচারের আগে দেখে নেয়া যাক আরো যারা শাহবাগ নিয়ে লিখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রীয়াজ লিখছেনঃ
“শাহবাগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে আমরা সে বৃহত্তর চেতনার বিষয়টি দেখতে পাই যখন এটি হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের অপূরিত স্বপ্ন ধারণ করে গড়ে ওঠা তরুণদের একটি আন্দোলন; যখন তা গোটা জাতিকে আবার স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শিক দিকগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সহজ করে বললে, এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নকে দলীয় সীমারেখার বাইরে সম্প্রসারিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আবার জাতীয় আদর্শে পরিণত করে তোলার পথে অগ্রসর হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি কেবল একটি বিচারের বা ট্রাইব্যুনালের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; আন্দোলনের জন্য তৈরি করেছে এক বৃহত্তর প্রেক্ষাপট। এটি কেবল এ আন্দোলনের বক্তব্যেই রয়েছে তা নয়, বরং রয়েছে এর নৈতিক ভিত্তির মধ্যে।“

আমরা কি কোথাও আলী রীয়াজ এর এই আশাবাদের অবস্থান দেখতে পেয়েছি? না। আন্দোলনটি যখনই ধর্মান্ধ হেফাজতে ইসলামের কোপানলে পড়ে সরকারকে বাধ্য করেছে হেফাজতের বস্তাপচা কিম্ভূতকিমাকার দাবীনামা পেশ করে তা নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে, তখনই গণজাগরণের মুখপাত্র ইমরান সরাসরি হেফাজতের সাথে আপোষের পথ বেছে নিয়েছেন। এটা দোষের নয়। তিনি সেই শ্রেণীরই প্রতিনিধিত্ব করেন যে শ্রেণী তার সুবিধে ছাড়া মেহনতি মানুষের কথা ভাবেনা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষক বখতিয়ার আহমেদ লিখেছেন দরকারি কিছু কথা।‘শাহবাগ কি বিপ্লব’ শিরোনামে তিনি লিখেছেনঃ

“আজকের ২০১৩ কি আমাদের হাত ধরে আর কোন নতুন একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে? খুব অন্যরকম কোন সমাজের স্বপ্ন দেখাতে পারে? না, সেই সম্ভাবনা এখনো নাই শাহবাগের মোড়ে… কিন্তু জেগে উঠতে পারে…
এই আন্দোলন এখনো কোন অসম্ভবকে সম্ভব বলে ভাবছে না, চিৎকার করে বলছে না যে রাজনৈতিক বিন্যাস মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জিম্মি করে রেখেছে সেটাকে সমূলে বদলাতে হবে। কেন শাহবাগ বিপ্লব না? বিপ্লব বস্তুটা কী? সমাজ যে কয়টা প্রক্রিয়ায় বদলায় তার একটা হচ্ছে বিপ্লব। বিবর্তন/রূপান্তর/প্রগতি/উন্নয়নসহ সমাজ পরিবর্তনের যে যে প্রক্রিয়া চালু আছে তার সাথে বিপ্লবের মৌলিক পার্থক্য আছে। এভুলুশনের সাথে রেভুলেশনের পার্থক্য কী? পার্থক্য হচ্ছে বিবর্তনে মানুষ বা মানুষের সমাজকে সময়ই বদলে দেয়, উন্নয়নে অধিপতি কিছু মানুষ অধস্থনের জীবন বদলে দেয় বা দিতে চায়; কিন্তু বিপ্লবে মানুষ নিজেই নিজের সমাজ আর রাষ্ট্রকে বদলে দেয়। সে বদলানো মানে কিন্তু সংসদীয় পদ্ধতির বদলে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা টাইপ বদলানো না, সে বদলানো মানে খুব আমূল কিছু বদলে যাওয়া। শাহবাগের সমাবেশে সেই মাত্রার আমূল পরিবর্তনের কল্পনাশক্তি এখনো স্পষ্ট নয়। এখনো এইটা জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে যেতে পারছে না। এই জনসমুদ্রে প্রতিফলিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটি এখনো খণ্ডিত এক চেতনা। আমাদের রাজনীতি আর সমাজের বৈপ্লবিক কোন পরিবর্তন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খণ্ডিত করে আসবে না। সেইটা করে করেই আমরা মুক্তিযুদ্ধকে একটু একটু করে অকার্যকর রাজনৈতিক প্রপঞ্চ করে ফেলেছি।“

বখতিয়ার আহমেদ খুবই ভয়ংকর কথা লিখেছেন! ‘এই জনসমুদ্রে প্রতিফলিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটি এখনো খণ্ডিত এক চেতনা। আমাদের রাজনীতি আর সমাজের বৈপ্লবিক কোন পরিবর্তন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খণ্ডিত করে আসবে না।‘
তার ভাষ্যমতে বিপ্লব হতে হলে তাকে অবশ্যই মুক্তিযদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই হতে হবে! দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো বিদগ্ধ বোদ্ধা যখন এমন কথা বলেন তখন অরাজনৈতিক তকমা গায়ে আপাদমস্তক রাজনীতির খেড়ু ইমরান বা সরাসরি রাজনীতির চোব্য-চোষ্য লেহ্য-পেয় ভোগকারী ছত্র সংগঠনগুলোই বা কেন শাহবাগকে নয়া ‘জাজমেন্ট ইভেন্ট’ ভাববে না!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান শিক্ষক নাসরিন খন্দকার লিখেছেন আরো মজার তত্ত্ব।তিনি লিখছেন-
“শাহবাগের লাখো মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত ঘৃণা আর প্রতিবাদ এ নৈরাশ্যের দেশে এক নতুন প্রাণের অস্তিত্ব জানান দিল। এ যাদুর নাম, এ প্রাণের নাম ’আশা’। এ আশার জননীর নাম জাহানারা ইমাম। তিনি যে আশা দেখিয়েছিলেন, আজ শাহবাগ তার হাত থেকে বেহাত হওয়া আশার পুনর্দখল করেছে। শাহবাগ আজ দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিরোধের রাজনীতি কোনো দল বা মতের একার সম্পত্তি নয়। শুধু শাহবাগের কেন্দ্রীয় মঞ্চ বা কোনো একক নেতা নয়, মানুষের স্রোতের মাঝে বুকে ঝোলানো ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বা একপ্রান্তে আল্পনা এঁকে গোল হয়ে বসা একদল তরুণ কিংবা সন্তানকে কোলে আর হাতে ধরে আনা গৃহবধু, সবাই এ গণজাগরণের মালিক। ’জয় বাংলা’ স্লোগান আজ শুধু আওয়ামী লীগের নয়, শুধু বাঙালিরও নয়, এটি বাংলা অঞ্চলের সব ভাষা-ভাষী, সব সংস্কৃতির মানুষের। আজ এসেছে তারা এর পুনর্দখল নিতে। এ গণজাগরণে আজ ’আমরা সবাই রাজা’ সত্যিকার বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের শর্তে এসে মিলেছি। বহুবর্ণের রক্ত আজ এক সুতায় গাঁথা মালা। শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক ও দু’দলের রাজনীতির খাঁচায় বন্দী গণতন্ত্র আজ মুক্ত হয়ে উঠেছে বহুদল, বহুমত, বহুমন আর বহুচেতনার এক মিলিত আশার ঐক্যস্থলে। এ গণজাগরণ আর প্রত্যয়ী প্রতিবাদ শাসকের গদি নড়িয়ে দিতে পারে, পারে তাদের সাজানো নাটকের প্লট ভেস্তে দিতে, পারে তাদের দুর্নীতি আর অনাচারের খুঁটি নাড়িয়ে দিতে।“

দেখুন কী মারাত্মক আশাবাদী সব মানুষেরা শাহবাগ নিয়ে আশার চারাগাছটিকে সার-জলে ষিক্ত করে ডাঁটো করতে চেয়েছিলেন!
কথা হচ্ছে শাহবাগ নিয়ে, তাই ভিন্ন বিষয়ের পোস্টমর্টেমে কাজ কি? তার পরও কিছু বিষয় তো উঠে আসেই। উঠতেই হয়। রাজনীতির দেউলেপনা বলে কথা আছে না?

নাসরিন খিছেনঃ “এ গণজাগরণে আজ ’আমরা সবাই রাজা’ সত্যিকার বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের শর্তে এসে মিলেছি। বহুবর্ণের রক্ত আজ এক সুতায় গাঁথা মালা। শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক ও দু’দলের রাজনীতির খাঁচায় বন্দী গণতন্ত্র আজ মুক্ত হয়ে উঠেছে বহুদল, বহুমত, বহুমন আর বহুচেতনার এক মিলিত আশার ঐক্যস্থলে। এ গণজাগরণ আর প্রত্যয়ী প্রতিবাদ শাসকের গদি নড়িয়ে দিতে পারে, পারে তাদের সাজানো নাটকের প্লট ভেস্তে দিতে, পারে তাদের দুর্নীতি আর অনাচারের খুঁটি নাড়িয়ে দিতে।“

যে আন্দোলন অথবা গনসমাবেশ একটি বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংগঠিত হল, যার পরতে পরতে পেটি বুর্জোয়া আপোষকামীতা আর সুবিধাবাদ, সেই আন্দোলন থেকেই তিনি (নাসরিন) দুদলের রাজনীতির খাঁচায় বন্দী গণতন্ত্রকে মুক্ত ভেবে বসেছেন! আবার সেই আন্দোলনের প্রত্যয়ী প্রতিবাদেই শাসকের গদি নড়ে যাবে বলে ভবিষ্যদ্বানীও করে বসেছেন!
উপরের এই লেখাগুলো সবই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি বা তার পরে লেখা। তারা এবং আরো অনেকে তাদের লেখায় শাহবাগের গণজাগরণ নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটা যদি বাস্তবায়নই হত তাহলে পক্ককেশ মার্কস-এ্যাঙ্গেলসকে কষ্ট করে কমিউনিস্ট পার্টি ইশতেহার লিখতে হত না। লেনিনকেও শত শত পৃষ্ঠাব্যাপী বুর্জোয়া আন্দোলনের ভাবাদর্শ নিয়ে লিখতে হত না। আর সভাপতি মাওকেও ‘বিপ্লব কোনো ভোজসভা নয়’ বলতে হত না।

সত্যিকার অর্থে ইমরান কিংবা তার সাথে যারা এই আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন তারা নন। এই আন্দোলনকে যদি কেউ বিপথগামী করে তা ওই তাবড় তাবড় সব বিজ্ঞ লেখককুল, বাম নামধারী বিপ্লববিলাসী আবেগাক্রান্ত ফেটিশ, মিডিয়াসিকার মাতবর কিসিমের ভ্যাগাবণ্ড, দুপাতা আরজ আলী মাতুব্বর পাঠে দ্বিগগজ পণ্ডিত বনে যাওয়া এনার্কিস্ট, এবং আলাভোলা বিনোদনহীন আমপাবলিক। এদের বাড়বাড়ন্ত খোয়াব আর বিপ্লববিলাস ক্রমে ক্রমে ইমরানগংকে কখনো চে-গুয়েভারা, কখনো 'শেখ মুজিব', কখনো 'কর্নেল তাহেরে'র ডামি হিসেবে দাঁড় করাতে ইন্ধন জুগিয়েছে। ইমরানরাও অমনতর ‘ডামি’ হওয়াটা উপভোগ করেছিল ষষ্ঠাঙ্গে।

আজ যখন পুরো এক বছরের ‘অর্জন’ হাতে করে ইমরান পত্র-পত্রিকায় বাণী দিয়ে নিজেকে রাজনৈতিক কাণ্ডারী এবং রাজনীতিই তার অভীষ্ট লক্ষ্য বলে জাহির করে বসেছেন ঠিক তখনই তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে নিয়েছে সেই ক্ষমতাসীনরা, যারা তাকে এতদিন পেলে-পুষে ‘বড়’ করেছিলেন। এ কথা একটি শিশুও বুঝবে যে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অনুদান, টাকাঅলা এলিটদের আনুকুল্য, ক্ষমতাবান নির্বাহীদের ক্ষমতাশ্রয়, সরকারের ক্ষমতার টুলসগুলোর প্রটেকশন, অপার প্রচার-প্রপাগাণ্ডা, মিডিয়ার নাপতা বদাণ্যতা, দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতাবাদীদের বেশুমার ইন্ধন, গায়ক-কবি-শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মী-সেলিব্রেটিদের পিকনিক প্রকল্প এবং ক্ষমতার কড়ে-বর্গায় স্থায়ীভাবে টিকে থাকার মানসে ইস্যুকে কাজে লাগানো রাজনীতিবিদদের ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে তাদেরই বিরুদ্ধে দাঁড়ানো চলেনা, যুদ্ধ তো পরের কথা! ইনফ্যাক্ট শাহবাগের গণজমায়েত একটি মব। স্রেফ মব। মানুষের মনে দীর্ঘদিন জমে থাকা নানাবিধ না-পাওয়াজনিত ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশের একজস্ট পাইপ। সেই পাইপ দিয়ে কিছুদিন ক্ষোভ-হতাশার নির্গমন হলেই আমজনতা ঘরে ফিরে গেছে। মব-এ চরিত্র হঠাথই একত্রিত হওয়া, আবার হঠাৎই বিচ্ছিন্ন হয়ে ছড়িয়ে যাওয়া। এটাকে যদি কেউ গণজাগরণ বা গণঅভ্যুত্থান ভেবে থাকেন তাহলে সেটা তার বা তাদের বিচ্যুতি, শাহবাগের নয়।

শাহবাগ যে দাবী নিয়ে সংগঠিত হয়েছিল তার কার্যকারীতা প্রথম তিন দিনেই শেষ হয়েছিল। তার পরও তাকে রাবারের মত টেনে টেনে বড় করার যে রাজনীতি সেই রাজনীতিই আজকের শাহবাগকে তথাকথিত ‘নিজেদের ভেতরকার ভুল বোঝাবুঝি’তে পতিত করেছে। সেই রাজনীতিই শাহবাগকে তার সমস্ত অর্জন জলাঞ্জলি দিয়ে সেই চিরাচরিত বুর্জোয়া প্যাটার্ণ পলিটিক্সে গুবলেট করেছে। এ থেকে শাহবাগ গণজাগরণের আর বেরুবার পথ নেই। এখনো যদি কেউ কেউ মনে করেন শাহবাগ আর গণজাগরণমঞ্চ এক নয়, ভিন্ন ভিন্ন স্বত্ত্বা। তাহলে আবারো মনে করিয়ে দিতে হবে এক কোটি চল্লিশ লক্ষ অধিবাসী অধ্যুসিত রাজধানী ঢাকার কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ তরুণ-তরুণী আর ওপরতলার সুবিধাভোগী মানুষ মানেই গণমানুষ নয়।আর সেই সব মানুষদের সম্মিলন বা জমায়েতও গণজমায়েত নয়। লাখ লাখ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে কাদের মোল্লা, গোলাম আজম আর প্রচলিত রাজনীতির মানুষদের কোনো পার্থক্য নেই। কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে। আরো কয়েকজনেরও ফাঁসি হবে। ইমরানও হয়ত কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে নেতা বনে যাবে। তার সাথে যারা ছিলেন বা এখনো এপক্ষ-ওপক্ষ নিয়ে আছেন তারাও নিজেদের গত এক বছরের মিডিয়াপূন্যে হাসিল করা নেকি দিয়ে নতুন নতুন পীর-মুর্শীদ হয়ে যাবেন। কিন্তু তাতে করে সারা দেশ দূর কি বাত, এই নগরীর ষাঁট লাখ গতরখাটা মানুষের দিনান্তের রক্ত পানি করা বন্ধ হবেনা।

Comments

শেহজাদ আমান এর ছবি
 

অসাধারণ বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখছেন ভাই। ধন্যাবাদ আপনাকে।

============================================
মানবতাহীন, অসামাজিক, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল যুক্তিবাদী নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।
============================

 
দ্য হিটলার রিটার্ন্স এর ছবি
 

গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাকে ব্লগে স্বাগতম।

...............................♠...............................

নরক থেকে এসেছি,
স্বয়ং ঈশ্বরের ইচ্ছাতে!

 
ণ এর ছবি
 

পেছনের গল্পটা কয়জনে জানে. . .

.
.
.
.
.

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনজুরুল হক
মনজুরুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 3 years 2 weeks ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 13, 2014 - 12:08পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর