নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

অ্যাডল্ফ বিচ্ছু এর ব্লগ

আমার নবজন্ম সাধ


আমার নবজন্ম সাধ, তোমার দুটো নখর আঙুল ঘষে
প্রাচীনকালের শাশ্বত গুহামানবের বেশে
তুমি আমার বুকে আগুন জ্বালাবে।
কিন্তু তুমি আগুনের চাষাবাদ করলে তোমার প্রেমিকের অনুর্বর বুকে।
মরুভূমিতেও সবুজ ঝোপঝাড় জন্মায়। জানি। আরও জানি,
উট কাঁটা খেতে ভালোবাসে।

তোমার চুলের প্যাঁচ প্রতি দুই ওয়াক্তে আমার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
মৃত্যুর আগে অর্ধপূর্ণ ফুসফুস নিয়ে আমার পূর্ণ শ্বাসকষ্ট হয়।
তোমার প্রেমিক অ্যাশট্রে পোড়ায় বেনসনের ধ্বংসাবশেষে।
একটা দামী ইনহেলার তুমি তার কাছ থেকেও নিতে পারতে।

শোকউৎসব


আমি মরে গেলে জানি
সকলেই আমার জন্য প্রার্থনা করবে।
যেহেতু প্রার্থনা মনে শান্তি আনে
যেহেতু আমাকে হারাবার শোকে ওরা কমপক্ষে তিনদিন শোকে বিহ্বল থাকবে
মদের গ্লাসে ভুল করে তুলে দিবে খেঁজুরের জুস
তাদের এই ভ্রম কাটবার জন্য
তারা অবশ্যই আমার জন্য প্রার্থনা করবে।
তাদের চোখের চারকোণের পাশাপাশি আমার স্থান হবে
ফেসবুকে ওদের চারকোণা প্রোফাইল পিকচারের বিশেষায়িত ফ্রেমে।
হয়তো বা কোন সুদৃশ্য ব্যানারে আমার জায়গা হবে।
ওতে বড় করে লেখা থাকবে
‘তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত’।
শোকটা এতোটাই গভীর যে তিনদিন পার হতে হতে

তোমার সৌন্দর্য


তুমি ইদানীং শীতকালগুলোর মতই নির্লিপ্ত, শান্ত, সাদা চাদর পড়া
কখনও কখনও তাই থুড়থুড়ে বুড়ি বলে বিভ্রম হয়।
গ্রাম্য কিশোরীর বাল্যবিবাহে ঝরে পড়া কান্নার মত
নিষ্পৃহ, নিঃস্পন্দ, অনেকটাই নিহত যেন
বুকের ভেতর কোন হৃদপিন্ড নেই।
কখনও ছিল না। একেবারে কিছুই ছিল না।
নো, নেভার, নাথিং!
তোমার ফাটা ঠোঁটে জোড়াতালি দেবার জন্যে পৃথিবীতে কোন সাম্যবাদী আর্দ্রতা রাজি নয় আর!
সরকারি ডাকপিয়ন কুয়াশার ভেতর পথ ভুলে যায় আবার!
যে চিঠি তোমাকে পাঠানো হয়েছিল
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রারম্ভে যে শান্তিচুক্তি গুলির বদলে ওড়াত কবুতর

হলুদ সন্ধ্যা


যদি সমগ্র আকাশটা হয়ে যেত খন্ড খন্ড তুলো
আমি জেনারেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলতাম,
আমার এখানে ক্ষত, ওখানে ক্ষত।
তুমি আকাশ দিয়ে ড্রেসিং করে দাও!
দুটো রাজহাঁস দিঘীর জলে সাঁতার কাটার সময়
জলের আয়নায় চেহারা দ্যাখে।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আয়না তোমার চোখ।
আমি তো রাজহাঁস না তুমি জানতে!
তারপরও কীভাবে আমাকে ফেলে শরতের মেঘের মত চলে গিয়ে
হেমন্ত আনালে?

কবি এবং প্রেমিকারা


স্বর্গের পানশালায় এক কবির সাথে দ্যাখা হল।
তিনি ইতোমধ্যে তিন প্যাক শেষ করে চতুর্থটি ধরেছেন।
তার হাতের গ্লাসটি রূপোর মত চকচক করছিল।
আমি বললাম, আপনি পৃথিবীতে কি কি ভাল কাজ করেছেন?
কবি প্রথমে মুচকি হাসলেন।
তারপর শব্দ করে হাসলেন খানিকক্ষণ।
ঠিক তখন
একটা পাপিয়া মাথার ওপর দিয়ে উড়ে চলে গেল।
তার পায়ে নখ ছিল না কারণ
স্বর্গে শিকারের প্রয়োজন হয় না।
কবি ঢেকুর তুলে বললেন, পৃথিবীটাকে আমি আস্ত কবিতা বানিয়ে ফেলেছিলাম।
ঈশ্বর আমার কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন।
আমি বললাম, পৃথিবীতে কি কেবল একজনই কবি ছিল?

পৃথিবীতে কেবল একটাই ক্ষুধার্ত কবর আছে


আমি ভুলে যাব; কে ছিল- আমি।
কি ছিল- আমার নাম।
আমি ভুলে যাব যে শহরে আমি থাকতাম
সে শহরের মাননীয় মেয়র একবার
দেয়াল ভাঙ্গার নামে ভেঙে দিয়েছিল শহরের শেষ মৃত পাখিটির উড়ন্ত এপিটাফ!
আমি ভুলে যাব সারি সারি বৈদ্যুতিক তার।
যে তারে তোলা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশনের জীবন্ত ফটোগ্রাফ।
একটি পদক ঝুলেছিল একযুগ রাষ্ট্রীয় গোডাউনে
যেভাবে ঝুলেছিল তার।
আমি ভুলে যাব একটা পাহাড়
আমার সামনে নেতিয়ে পড়েছিল কারণ আমি পাহাড়টাকে বলেছিলাম,
একটা তারা যদি মুখ থুবড়ে পড়ে একাকী
নিঃসঙ্গ

যে রাত জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়


কথা ছিল তুমি আমার প্রেমিকা হবে।
অনেকগুলো রাতঘুম তখন পূর্ণতা পাবে।
যৌবন ফিরে পাবে প্রবীণ মিছিল।
রোদবালিশে ঘুমিয়ে থাকা পাতারাও জেগে উঠবে।
জেগে উঠবে ঘাসের শিশিরের মতন ঘাসফড়িং।
ঝিঁ ঝিঁ পোকার কণ্ঠ চাঁদের আলোয় রূপালি হবে।
শ্যামা-শালিক-দোয়েলেরা গোলটেবিল বৈঠকে বাবুর পাখির চশমা চোখে বাঁধবে।
একটি প্রজাপতি সূর্যমুখীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে মাতাল হবে।
অ্যালকোহলিক দূষণের পর ট্রাফিক পুলিশ যেভাবে মাতাল হয়েছিল।
একটি পদ্মফুলে স্বপ্ন দেখবে কুনোব্যাঙ।

কবিতা


পাপ

আমি পাপ করলে ঈশ্বর খুশী হোন।
তখন তিনি পূর্ণউদ্যমে থোকায় থোকায় আগুন দিয়ে
পুনরায় নরক সাজাবার সুযোগ পান।
আমি আর কতকাল ঈশ্বরকে খুশী করব প্রিয়তমা?
এই প্রশ্ন করতে গিয়ে আমি পুনরায় পাপী হই।
ইদানীং
পাপ করে মজাও পাই ভীষণ।

এক মরুভূমি বালুস্নান করে আমি পাপী হই।
এক গ্রাসল্যান্ড বায়োম শিশিরস্নান করে আমি পাপী হই।
কাঠঠোকরার ঠোঁটে মৃত উদ্ভিতকোষ আর তোমার ঠোঁটে মৃত জীবন্ত কোষ!
আমি পুনরায় পাপী হই।
এক সমুদ্রজল কচুপাতার ওপর ফেলে দিয়ে আমি আবার পাপী হই।

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
অ্যাডল্ফ বিচ্ছু এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 1 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - 8:07অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর