নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কিন্তু
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

অ্যাডল্ফ বিচ্ছু এর ব্লগ

ক্যান্সার


যেসব চুমুগুলো আমাদের খাবার কথা ছিল
সেসব পচে গিয়ে দখল করে নিয়েছে নাগরিক ডাস্টবিন
এবং
সেসব ডাস্টবিনেও পচন ধরেছে!
বস্তুত
কুকুররাও সেসব ছুঁয়ে দেখে না; ক্যান্সারের ভয়ে।

কুকুরদেরও কি ক্যান্সার হয় তোমার হৃদয়ের মত?

দেবী


মেয়েটির বস্তুত কোন সমস্যা ছিল না।
আর পাঁচটা বাঙালি মেয়ের মতই লাল শাড়ীতে তাকে বেশ মানাত।
সিঁথি করত ডানদিকে বেশিরভাগ সময়।
নির্লিপ্ত ঠোঁটে যেন মধু লেগে থাকত
উপরে-নীচে দিবায়-প্রত্যুষে প্রত্যহ।

মেয়েটির আহামরি কোন সমস্যা ছিল না।
তার কণ্ঠ সংবাদ উপস্থাপিকার মত বলিষ্ঠ না হলেও
আমার হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
তার গালে ছিল সাদা মেঘের প্রলেপ আর হাতে ছিল
ঘন মাখনের মতন পিচ্ছিল আস্তরণ।
বিভিন্ন উৎসবে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ছাল-ছুতোয়
হাত ধরলেই কেমন নরম নরম লাগত!

ব্যর্থ আমি


আমি সম্ভবত আর কোনদিনও সফল হতে পারব না।
ব্যর্থতায় ভরে উঠেছে আমার সমস্ত দেহ।
ছড়িয়ে পড়া শুরু করেছে তারা গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে
আলোর সাথে মিশে গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সিতে।
ছড়িয়ে পড়ছে গুচ্ছে গুচ্ছে
মহাজাগতিক শূন্য স্পেস তারা ভরে দিচ্ছে পরম আবেগে।

আমি সম্ভবত আর কোনদিনও সফল হতে পারব না।
রাস্তায় হাঁটতে গেলে ছুটন্ত বাস আমার দিকে ধেয়ে আসে
আর ফুটপাতে ধেয়ে আসে নগরীর সমস্ত সফল মানুষ।
এক এক করে তারা আমার পাশ কাটে।
সভ্য ছুরির বদলে বুকে ঢুকিয়ে দেয় অসভ্য রক্তাক্ত সফলতার হাসি।

জগতের সমস্ত সাফল্য সিগারেটখোরদের অধিকারে যাবে


জীবনে তো একটাও সিগারেট খাইলি না। কি করলি এই জীবনে?
বন্ধুর এই বাচ্যে আমি রীতিমত আৎকে উঠলাম। অবশ্য মুখে কিছু বললাম না। কপালে তৎক্ষণাৎ চিন্তার ভাঁজ পড়ল। আচ্ছা, আমি কি সত্যি জীবনে কিছু করিনি? আমার জীবনটা কি এই সিগারেট না খাওয়ার জন্যই ব্যর্থ হয়ে গেল? হায় হায়! এ তো বড় চিন্তার বিষয়!

আমার নবজন্ম সাধ


আমার নবজন্ম সাধ, তোমার দুটো নখর আঙুল ঘষে
প্রাচীনকালের শাশ্বত গুহামানবের বেশে
তুমি আমার বুকে আগুন জ্বালাবে।
কিন্তু তুমি আগুনের চাষাবাদ করলে তোমার প্রেমিকের অনুর্বর বুকে।
মরুভূমিতেও সবুজ ঝোপঝাড় জন্মায়। জানি। আরও জানি,
উট কাঁটা খেতে ভালোবাসে।

তোমার চুলের প্যাঁচ প্রতি দুই ওয়াক্তে আমার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
মৃত্যুর আগে অর্ধপূর্ণ ফুসফুস নিয়ে আমার পূর্ণ শ্বাসকষ্ট হয়।
তোমার প্রেমিক অ্যাশট্রে পোড়ায় বেনসনের ধ্বংসাবশেষে।
একটা দামী ইনহেলার তুমি তার কাছ থেকেও নিতে পারতে।

শোকউৎসব


আমি মরে গেলে জানি
সকলেই আমার জন্য প্রার্থনা করবে।
যেহেতু প্রার্থনা মনে শান্তি আনে
যেহেতু আমাকে হারাবার শোকে ওরা কমপক্ষে তিনদিন শোকে বিহ্বল থাকবে
মদের গ্লাসে ভুল করে তুলে দিবে খেঁজুরের জুস
তাদের এই ভ্রম কাটবার জন্য
তারা অবশ্যই আমার জন্য প্রার্থনা করবে।
তাদের চোখের চারকোণের পাশাপাশি আমার স্থান হবে
ফেসবুকে ওদের চারকোণা প্রোফাইল পিকচারের বিশেষায়িত ফ্রেমে।
হয়তো বা কোন সুদৃশ্য ব্যানারে আমার জায়গা হবে।
ওতে বড় করে লেখা থাকবে
‘তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত’।
শোকটা এতোটাই গভীর যে তিনদিন পার হতে হতে

তোমার সৌন্দর্য


তুমি ইদানীং শীতকালগুলোর মতই নির্লিপ্ত, শান্ত, সাদা চাদর পড়া
কখনও কখনও তাই থুড়থুড়ে বুড়ি বলে বিভ্রম হয়।
গ্রাম্য কিশোরীর বাল্যবিবাহে ঝরে পড়া কান্নার মত
নিষ্পৃহ, নিঃস্পন্দ, অনেকটাই নিহত যেন
বুকের ভেতর কোন হৃদপিন্ড নেই।
কখনও ছিল না। একেবারে কিছুই ছিল না।
নো, নেভার, নাথিং!
তোমার ফাটা ঠোঁটে জোড়াতালি দেবার জন্যে পৃথিবীতে কোন সাম্যবাদী আর্দ্রতা রাজি নয় আর!
সরকারি ডাকপিয়ন কুয়াশার ভেতর পথ ভুলে যায় আবার!
যে চিঠি তোমাকে পাঠানো হয়েছিল
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রারম্ভে যে শান্তিচুক্তি গুলির বদলে ওড়াত কবুতর

হলুদ সন্ধ্যা


যদি সমগ্র আকাশটা হয়ে যেত খন্ড খন্ড তুলো
আমি জেনারেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলতাম,
আমার এখানে ক্ষত, ওখানে ক্ষত।
তুমি আকাশ দিয়ে ড্রেসিং করে দাও!
দুটো রাজহাঁস দিঘীর জলে সাঁতার কাটার সময়
জলের আয়নায় চেহারা দ্যাখে।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আয়না তোমার চোখ।
আমি তো রাজহাঁস না তুমি জানতে!
তারপরও কীভাবে আমাকে ফেলে শরতের মেঘের মত চলে গিয়ে
হেমন্ত আনালে?

কবি এবং প্রেমিকারা


স্বর্গের পানশালায় এক কবির সাথে দ্যাখা হল।
তিনি ইতোমধ্যে তিন প্যাক শেষ করে চতুর্থটি ধরেছেন।
তার হাতের গ্লাসটি রূপোর মত চকচক করছিল।
আমি বললাম, আপনি পৃথিবীতে কি কি ভাল কাজ করেছেন?
কবি প্রথমে মুচকি হাসলেন।
তারপর শব্দ করে হাসলেন খানিকক্ষণ।
ঠিক তখন
একটা পাপিয়া মাথার ওপর দিয়ে উড়ে চলে গেল।
তার পায়ে নখ ছিল না কারণ
স্বর্গে শিকারের প্রয়োজন হয় না।
কবি ঢেকুর তুলে বললেন, পৃথিবীটাকে আমি আস্ত কবিতা বানিয়ে ফেলেছিলাম।
ঈশ্বর আমার কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন।
আমি বললাম, পৃথিবীতে কি কেবল একজনই কবি ছিল?

পৃথিবীতে কেবল একটাই ক্ষুধার্ত কবর আছে


আমি ভুলে যাব; কে ছিল- আমি।
কি ছিল- আমার নাম।
আমি ভুলে যাব যে শহরে আমি থাকতাম
সে শহরের মাননীয় মেয়র একবার
দেয়াল ভাঙ্গার নামে ভেঙে দিয়েছিল শহরের শেষ মৃত পাখিটির উড়ন্ত এপিটাফ!
আমি ভুলে যাব সারি সারি বৈদ্যুতিক তার।
যে তারে তোলা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশনের জীবন্ত ফটোগ্রাফ।
একটি পদক ঝুলেছিল একযুগ রাষ্ট্রীয় গোডাউনে
যেভাবে ঝুলেছিল তার।
আমি ভুলে যাব একটা পাহাড়
আমার সামনে নেতিয়ে পড়েছিল কারণ আমি পাহাড়টাকে বলেছিলাম,
একটা তারা যদি মুখ থুবড়ে পড়ে একাকী
নিঃসঙ্গ

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
অ্যাডল্ফ বিচ্ছু এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 22 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - 8:07অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর