নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

মিশু মিলন এর ব্লগ

উদ্বাস্তু


জ্বলন্ত উনুনের তপ্ত কড়াইয়ের ধোঁয়া ওঠা তেলে দুটো কইমাছ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপসীর কানে আসে উচ্চকিত ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান; কানে আসা মাত্র হাত ফসকে পড়ে যায় কইমাছের বাটিটা, বাটির অবশিষ্ট দুটো কইয়ের একটা উনুনের মুখ দিয়ে পড়ে আগুনের ভেতর, আরেকটা মেঝেতে। কিন্তু কইমাছ দেখার সময় কোথায় তাপসীর? ঝড়ের গতিতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনের পিঁপড়ার সারি মাড়িয়ে, ব্যাঙের গায়ে লাথি মেরে এক দৌড়ে থাকার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে জাপটে ধরেন চারুশিলাকে!

দ্যাশআলি ভাই এবং সাধনকুমারদের গণতন্ত্র


তখন আমার গলার স্বর হঠাৎ ভাঙতে শুরু করেছে, ঠোঁটের ওপরের লোমগুলো কালচে হতে শুরু করেছে, উঠতি যুবক কিংবা তরুণদের আড্ডা বা গোপন গল্পে আড়ি পাততে শুরু করেছি আর তারাও আমাকে একটু একটু লাই দিতে শুরু করেছে, আমি ভাবতে শুরু করেছি যে কিশোরীর মুখ কি ঈষৎ স্ফীত বুকের দিকে তাকিয়ে থাকা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার!

উত্তর প্রজন্মের কাঠগড়া


যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা,
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা।

আলোকলতার গল্প


আমার বিবাহিত জীবন চার বছরের, আর আমার স্বামীর বিবাহিত জীবন দশে পড়েছে। আমরা দু’জনই আগে একবার অন্যত্র বিয়ে করেছিলাম, ডিভোর্সও। দু’জনেই মাঝখানে কিছুদিনের জন্য সিঙ্গেল ছিলাম। আমার স্বামীর আগের পক্ষের সাত বছরের একটা ছেলে আছে, আমার কোনো সন্তান নেই। অবশ্য আমার স্বামীর যে একটা ছেলে আছে সেটা বিয়ের আগে আমাকে এবং আমার পরিবারকে সে বলে নি, এমনকি আমাদের বিয়ের পরও গোপন রেখেছিল। আমি জানতে পারি বিয়ের তিন মাসের মাথায় এক ছুটির দিনের দুপুরে, যখন আমার স্বামী মোবাইল বাসায় ফেলে রেখে সেলুনে গিয়েছিল চুল কাটাতে। তার মোবাইলে একটা ফোন এসেছিল, ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে বাচ্চা ছেলের কণ্ঠ, ‘বাবা, আমাকে

সমাধিমন্দির


একটা রাতচরা পাখি ডানা ঝাপটে কদম গাছ থেকে উড়ে সমাধিমন্দিরের চূড়ার উপর দিয়ে দক্ষিণদিকে চলে গেল। কোথায় গেল কে জানে! হয়তো নতুন আবাসনের খোঁজে!

নগরনটী (উপন্যাস: শেষ পর্ব)


চম্পা-নগরী এখন উৎসবমুখর, নিভু নিভু হয়ে জ্বলতে থাকা মানুষের আশার প্রদীপটি হঠাৎ দপ করে জ্বলে উঠে ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে শুরু করেছে গণিকারা মুনিকুমার ঋষ্যশৃঙ্গকে হরণ করে নিয়ে আসায়; একে তো মুনিকুমার ঋষ্যশৃঙ্গের সঙ্গে মহারাজ লোমপাদের একমাত্র কন্যার বিবাহ, তার ওপর বহুদিন বাদে অঙ্গরাজ্যে বৃষ্টিপাত হতে চলেছে, বহু অপেক্ষার পর পূরণ হতে চলেছে অঙ্গরাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা; ঘুচতে চলেছে অঙ্গরাজ্যের তৃষিত ভূমি, বৃক্ষ, লতা-পাতার তৃষ্ণা!

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-চৌদ্দ)


জন্মনের হাটের ঘাটে রঘু নৌকা নোঙর করলো অপরাহ্ণে। হাটে ভরপুর মানুষ; কেউ যাচ্ছে, কেউ আসছে। গিরিকা প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করার জন্য সুলোচনা, রঘু, বলাই আর ললিতকে সঙ্গে নিয়ে হাটে গেলেন। আজও দেবল আর সুকেতু রইলো নৌকার পাহাড়ায়। ঋষ্যশৃঙ্গ এখন অবুঝ বালকের ন্যায় ঘুমোচ্ছে। সেই মধ্যা‎হ্ন থেকে হাটে যাবার আগ পর্যন্ত গিরিকা এই কক্ষের মেঝেতে পশ্চাৎদেশ ঠেকিয়ে বকবক করছিলেন, তার বকবক শুনতে শুনতেই একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে সে। শবরী ঋষ্যশৃঙ্গের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছে অপলক চোখে। বালকের ন্যায় কী সুন্দর নিষ্পাপ মুখশ্রী!

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-তেরো)


এখন দিবসের প্রথম প্রহর। ঋষ্যশৃঙ্গ তুলসীতলা থেকে অনেকটা দূরত্বে নিমীলিত চোখে ধ্যান করছে, সম্মুখে প্রজ্বলিত অগ্নি। ঘৃতস্নাত চন্দন কাষ্ঠ জ্বলছে বাতাসে সুবাস ছড়িয়ে। বিভাণ্ডক আশ্রমে নেই, তিনি গেছেন অরণ্যে ফল সংগ্রহ করতে। সকাল থেকেই বানর শাবকটির দেখা নেই আজ, দক্ষিণ দিকের পথের পাশে একে অন্যের গা ঘেঁষে বসে আছে দুটি মায়ামৃগ। চিত্তের অস্থিরতা কাটানোর জন্য পিতার পরামর্শে ঋষ্যশৃঙ্গ পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ সময়ব্যাপী ধ্যান করছে কয়েকদিন যাবৎ। তবু চিত্তের স্থিরতা পুরোপুরি আসে নি। ধ্যানের মাঝে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে ওঠে দেবপুত্রের ন্যায় সেই তাপসের মুখ, ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে অনুভব করে তার গাত্রের সুগন্ধ, তার সান্নিধ্য পাবার

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-বারো)


কৌশিকী পারের এক জন্মনের ঘাটে একনাগাড়ে তিনদিন অতিবাহিত করে গতকাল সন্ধ্যায় নৌকা নোঙর করেছে ত্রিযোজন পর্বতের সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থানে। জন্মনের অস্থায়ী হাট থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয় করা হয়েছে। গিরিকার বেশ ভাল লেগেছিল জন্মন্টি, অপরাহ্ণে কন্যাদের নিয়ে নদীর পার ধরে জন্মনের পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গৃহী মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। নদীর পারের একটা পরিবারের সাথে তো বেশ ভাব জমে গিয়েছিল তার। তার ইচ্ছে ছিল গত রাত আর আজকের দিনটাও জন্মনের ঘাটে কাটিয়ে আসার। কিন্তু কন্যাদের পীড়াপীড়িতে গতকালই আসতে হয়েছে এই জন্য যে তারা ত্রিযোজন পর্বতে আরোহণ করার বায়না ধরেছে। প্রথমে তারা বায়না ধরেছিল

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

মিশু মিলন
মিশু মিলন এর ছবি
Offline
Last seen: 19 ঘন্টা 53 min ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর