নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • হাইয়ুম সরকার
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • পৃথু স্যন্যাল

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

মিশু মিলন এর ব্লগ

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-তিন)


পুরোনো দ্বিতল গৃহ; দেয়ালে স্যাঁতা পড়েছে, স্থানে স্থানে চুন-সুরকি খসে পড়েছে। দেয়াল ধরে বেয়ে উঠেছে কয়েকটি লতা। ছাদের দড়িতে দোল খাচ্ছে পরিধেয় বস্ত্র-উত্তরীয়। ছাদের কাঠগড়ায় নেতিয়ে পড়ে আছে ছোট ছোট কয়েক খ- মলিন-কোঁকড়ানো কাপড়। আঙিনার সামনের জামরুলগাছের ছায়ায় জলচৌকিতে বসে আছে উমা ও সুলোচনা। সদ্যস্নান করায় উমার কেশের ডগা দিয়ে জল ঝরছে, জলে ভিজে যাচ্ছে কাঁচুলির পিঠের অংশ এবং অনাবৃত পিঠ, এখনো কাঁকুই পড়ে নি কেশে; আর সুলোচনার মুুখে সাজিমাটির প্রলেপ, মাথায় সুগন্ধি তেল মেখে কেশ বিন্যাস করছে, এখনো স্নান হয় নি তার। সদ্য স্নান সেরে হলুদ আর খয়েরি রঙের শুষ্কবস্ত্র পরে দোতলার অলিন্দে দাঁড়িয়ে কাঁকুই হাতে কেশবিন্

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-দুই)


এদিকে উত্তেজনায় আর আনন্দের আতিশয্যে রাতে ভাল ঘুম হলো না রাজজ্যোতিষীর। সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান-আ‎হ্নিক সেরে রাজসভায় উপস্থিত হয়ে জানালেন যে তিনি গণনা করে রাজ্যের দুর্দশার কারণ এবং রাজপুরোহিত শাস্ত্র ঘেঁটে এই দুর্দশা থেকে উত্তরণের উপায় নির্ণয় করতে পেরেছেন। দূতমুখে এই কথা শুনে রাজা লোমপাদ তড়িঘড়ি করে রোজকার চেয়ে আগেই উপস্থিত হলেন রাজসভায়। অমাত্যগণ, রাজকর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ আগে থেকেই রাজসভায় উপস্থিত। চোখে-মুখে গর্বিত এবং তৃপ্তির ভাব বিকশিত করে এলেন রাজপুরোহিত। সকলের সম্মুখে রাজজ্যোতিষী তার গণনাবিদ্যার প্রতি গর্ব প্রকাশ করে বললেন, ‘মহারাজ, আমার বংশে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চায় আমি দশম পুরুষ, পূর্

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-এক)


‘নগরনটী’ উপন্যাসের আখ্যান মৌলিক নয়; রামায়ণ-মহাভারতের ঋষ্যশৃঙ্গের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত। মৌলিক আখ্যানকে ভিত্তি করে রচিত হলেও আখ্যান বিন্যাসে এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। ‘নগরনটী’র মধ্যে মূল আখ্যানের প্রচলিত ধর্মীয়-অলৌকিক ঘটনা বা বিশ্বাস না খুঁজে এটিকে একটি উপন্যাস হিসেবে পড়াই যুক্তি সঙ্গত, কেননা বর্তমানের এই বিজ্ঞানের যুগে বসে যদি একই আবর্তে থেকে সেকেলে অলৌকিক ঘটনা বা বিশ্বাসে আস্থা রাখি বা অবাস্তবতাকে মেনে নিই, তবে আর এই পুরোনো আখ্যান নতুন করে লেখার কোনো মানে হয় না। বাস্তবের পথে হেঁটে লেখক-স্বাধীনতা নিয়ে আখ্যান বিন্যাস করা হয়েছে অলৌকিকতা বর্জন করে। সঙ্গত কারণেই আখ্যানের পরিণতিও হয়েছে ভিন্নভাবে।

অন্ধকারে খোদাই ঘাম ও শরীরের উপাখ্যান


হাতের বিড়িটা ছাই হতে হতে একেবারে তুলোর দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে, তবু তাতেই ইঁদূরমুখো দুটো টান মেরে অবাধ্য শিশুর মতো ঘাড় গুঁজে ধরে মাটিতে, ছোট্ট উঠোনের এককোনে অন্ধকারে উনুনের পাশে বসে একের পর এক বিড়ি ফুঁকতে থাকে আফসার মিয়া। আর মাঝে মাঝে নিজের পা চাপড়ে মশা তাড়ায়, ‘ধুর শালার বিটার মশা!’

ইছামতির জলে বিষন্ন নক্ষত্র


ইছামতির বুক

কালোর ওপর হলুদ ছোপগুলো যেন তুলি থেকে ছিটকে পড়া রঙ, বেশ স্বাস্থ্যবান একটা জলঢোঁড়া অনায়াসেই ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করলো। বিনা পাসপোর্ট, বিনা ভিসা, বিনা ট্রাভেল ট্যাক্সে! জলঢোঁড়াটির আগমন টের পেতেই তড়িৎ গতিতে ভারতের দিকে ছুটলো এক ঝাঁক রুপালি পুঁটিমাছ। মেঘের শার্সি ভেদ করে সবে জলের আয়নায় তাকিয়েছে সূর্য, জলঢোঁড়ার জলকাটা ঢেউয়ে সূর্যের প্রতিবিম্ব যেন হাত ফসকে পড়া ভাঙা আয়নায় রাগী মানুষের মুখ!

শিবে, পারু আর ঘুণট রোদ্দুর


দুই লেনের চওড়া রাস্তার পশ্চিমপাশে একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। হাসপাতালের গেটের পাশে একটি ব্যস্ত এ,টি,এম বুথ। বুথের কাছে ফুটপাতে ওজন যন্ত্র নিয়ে বসে থাকে একজন মধ্যবয়ষ্ক বোবা লোক। সে বারবার পথচারীদের শরীর আর মুখের দিকে তাকায়। কেউ ওজন হয়, কেউ হয় না। পাশেই একটি চায়ের দোকান। রোগী দেখতে আসা লোকজন, হাসপতালের গেটের সামনে রাস্তায় অপেক্ষমান রিক্সা, সি,এন, জি-ট্যাক্সিক্যাবের চালকেরা ভিড় করে চায়ের দোকানে। তারা চা-সিগারেট খায়, কেউ মন মরা হয়ে থাকে, কেউবা মত্ত থাকে হাসি-তামাশায়। দু-একজন ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকও জুটে যায়, চায়ের দোকানের আগন্তুকদের দিকে হাত-বাড়ায়, রোগীর আত্মীয়দের নরম মনে কায়দা করে ছুড়ে

চাকা এবং আশ্চর্য সোনার মেডেল


শরীরটা জ্বলে যায়, পুড়ে যায়! বড় আমগাছটার বুনট ছায়ায় বসিয়ে টিউবয়েলের ঠাণ্ডা জলে ঘন ঘন গামছা ভিজিয়ে গা মুছিয়ে দিলেও জ্বালা কমে না; ভেজা গামছা গায়ে জড়িয়ে রাখলেও স্বস্তি মেলে না। চামড়ার নিচে রক্ত যেন টগবগ করে ফুটতে থাকে, আর কাতরাতে থাকে বাদল। রোদ যতো চড়ে রক্তের টগবগানি ততো যেন বাড়ে!

মানুষ এবং সাপের গল্প


গল্পটা পূর্ব-পাকিস্থানের নোয়াখালী, ঢাকা, রাজশাহী, ফরিদপুরের অথবা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, উত্তর চব্বিশপরগণা, নদীয়া, বর্ধমানের। স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফ যখন তার নির্দয় কলমটা অথবা কলমের অবয়বে মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ছুরিটা ভারতবর্ষের মানচিত্রের ব্যবচ্ছেদের কাজে ব্যবহার করলেন, যাকে আমরা বলি র‌্যাডক্লিফ লাইন; র‌্যাডক্লিফ লাইনের দাগটা আসলে কালির নয়, ভারতবর্ষের কোটি কোটি মানুষের তাজা রক্তের দাগ ওটা; শিশুর রক্ত, নারীর রক্ত, টগটবগে তরুণ-তরুণীর রক্ত, প্রৌঢ় কিংবা বৃদ্ধ-বৃদ্ধার রক্ত; হিন্দুর রক্ত, মুসলমানের রক্ত, শিখ, জৈন কিংবা বৌদ্ধ’র রক্ত; মাথার রক্ত, বুকের রক্ত, যোনির রক্ত, সারা শরীরে

গর্ভকানড়


কানড়ের শিস এবং বিপন্ন পাখির আর্তনাদ


পড়ন্ত বিকেলে গর্ত থেকে মাথা বাড়ায় সাপটি, জিভ বের করে বার কয়েক শিস দিয়ে চলতে শুরু করে। বিকেলের সোনারোদের প্রভাবে সাপটির গায়ের চামড়ার ঔজ্জ্বল্য আরো বেড়ে যায়। অবিরাম চলতেই থাকে পথের বুকে বুক রেখে। এ রাস্তার মোড়, ও পথের বাঁক পেরিয়ে সাপটির মাথা অনেক দূরে চলে গেলেও লেজ এখনও গর্তের ভেতরে; কী আশ্চর্য সাপ!

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

মিশু মিলন
মিশু মিলন এর ছবি
Online
Last seen: 37 min 33 sec ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর