নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • লিটমাইসোলজিক
  • কিন্তু

নতুন যাত্রী

  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী
  • রুম্মান তার্শফিক
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল

আপনি এখানে

মিশু মিলন এর ব্লগ

সমাধিমন্দির


একটা রাতচরা পাখি ডানা ঝাপটে কদম গাছ থেকে উড়ে সমাধিমন্দিরের চূড়ার উপর দিয়ে দক্ষিণদিকে চলে গেল। কোথায় গেল কে জানে! হয়তো নতুন আবাসনের খোঁজে!

নগরনটী (উপন্যাস: শেষ পর্ব)


চম্পা-নগরী এখন উৎসবমুখর, নিভু নিভু হয়ে জ্বলতে থাকা মানুষের আশার প্রদীপটি হঠাৎ দপ করে জ্বলে উঠে ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে শুরু করেছে গণিকারা মুনিকুমার ঋষ্যশৃঙ্গকে হরণ করে নিয়ে আসায়; একে তো মুনিকুমার ঋষ্যশৃঙ্গের সঙ্গে মহারাজ লোমপাদের একমাত্র কন্যার বিবাহ, তার ওপর বহুদিন বাদে অঙ্গরাজ্যে বৃষ্টিপাত হতে চলেছে, বহু অপেক্ষার পর পূরণ হতে চলেছে অঙ্গরাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা; ঘুচতে চলেছে অঙ্গরাজ্যের তৃষিত ভূমি, বৃক্ষ, লতা-পাতার তৃষ্ণা!

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-চৌদ্দ)


জন্মনের হাটের ঘাটে রঘু নৌকা নোঙর করলো অপরাহ্ণে। হাটে ভরপুর মানুষ; কেউ যাচ্ছে, কেউ আসছে। গিরিকা প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করার জন্য সুলোচনা, রঘু, বলাই আর ললিতকে সঙ্গে নিয়ে হাটে গেলেন। আজও দেবল আর সুকেতু রইলো নৌকার পাহাড়ায়। ঋষ্যশৃঙ্গ এখন অবুঝ বালকের ন্যায় ঘুমোচ্ছে। সেই মধ্যা‎হ্ন থেকে হাটে যাবার আগ পর্যন্ত গিরিকা এই কক্ষের মেঝেতে পশ্চাৎদেশ ঠেকিয়ে বকবক করছিলেন, তার বকবক শুনতে শুনতেই একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে সে। শবরী ঋষ্যশৃঙ্গের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছে অপলক চোখে। বালকের ন্যায় কী সুন্দর নিষ্পাপ মুখশ্রী!

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-তেরো)


এখন দিবসের প্রথম প্রহর। ঋষ্যশৃঙ্গ তুলসীতলা থেকে অনেকটা দূরত্বে নিমীলিত চোখে ধ্যান করছে, সম্মুখে প্রজ্বলিত অগ্নি। ঘৃতস্নাত চন্দন কাষ্ঠ জ্বলছে বাতাসে সুবাস ছড়িয়ে। বিভাণ্ডক আশ্রমে নেই, তিনি গেছেন অরণ্যে ফল সংগ্রহ করতে। সকাল থেকেই বানর শাবকটির দেখা নেই আজ, দক্ষিণ দিকের পথের পাশে একে অন্যের গা ঘেঁষে বসে আছে দুটি মায়ামৃগ। চিত্তের অস্থিরতা কাটানোর জন্য পিতার পরামর্শে ঋষ্যশৃঙ্গ পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ সময়ব্যাপী ধ্যান করছে কয়েকদিন যাবৎ। তবু চিত্তের স্থিরতা পুরোপুরি আসে নি। ধ্যানের মাঝে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে ওঠে দেবপুত্রের ন্যায় সেই তাপসের মুখ, ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে অনুভব করে তার গাত্রের সুগন্ধ, তার সান্নিধ্য পাবার

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-বারো)


কৌশিকী পারের এক জন্মনের ঘাটে একনাগাড়ে তিনদিন অতিবাহিত করে গতকাল সন্ধ্যায় নৌকা নোঙর করেছে ত্রিযোজন পর্বতের সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থানে। জন্মনের অস্থায়ী হাট থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয় করা হয়েছে। গিরিকার বেশ ভাল লেগেছিল জন্মন্টি, অপরাহ্ণে কন্যাদের নিয়ে নদীর পার ধরে জন্মনের পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গৃহী মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। নদীর পারের একটা পরিবারের সাথে তো বেশ ভাব জমে গিয়েছিল তার। তার ইচ্ছে ছিল গত রাত আর আজকের দিনটাও জন্মনের ঘাটে কাটিয়ে আসার। কিন্তু কন্যাদের পীড়াপীড়িতে গতকালই আসতে হয়েছে এই জন্য যে তারা ত্রিযোজন পর্বতে আরোহণ করার বায়না ধরেছে। প্রথমে তারা বায়না ধরেছিল

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-এগারো)


চাঁচের বেড়া আর ছনে ছাওয়া কুটীরখানা খুব বেশি বড় নয়, দুটি কক্ষ; উত্তরেরটিতে বিভাণ্ডক তপস্যা করেন আর দক্ষিণেরটি তাঁর শয্যাকক্ষ। উর্বশীকে শয্যাকক্ষে রেখে তিনি তপস্যা কক্ষে প্রবেশ করলেন। কণ্ঠ এবং বাহুর রুদ্রাক্ষমাল্য খুলে রাখলেন একটি মৃৎপাত্রে। তারপর ইষ্টদেবতার উদ্দেশে প্রণাম করলেন।

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-দশ)


মহর্ষি বিভাণ্ডক একা একা দিকভ্রান্তের ন্যায় অরণ্যে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, গত দু-দিনও তিনি এমনিভাবে হেঁটে অরণ্য চষে বেড়িয়েছেন সেই নারীর খোঁজে যে তাঁর একমাত্র পুত্রকে পথভ্রষ্ট করতে আশ্রমে এসেছিল। সেই প্রভাতে আশ্রম থেকে বেরিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছেন অরণ্য, আর একবারে ফলমুল সংগ্রহ করে আশ্রমে ফিরেছেন মধ্যা‎হ্নে। কিন্তু কোথাও তিনি কোনো নারী তো দূরের কথা কোনো মানুষের দর্শনও পান নি। তাহলে কে তাঁর পুত্রের দেহ অপবিত্র এবং চিত্ত বিভ্রান্ত করে দিয়ে গেল? এই প্রশ্ন তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে, দুশ্চিন্তায় তিনি রাতে ঘুমুতে পারছেন না। কেবলই মনে হচ্ছে তিনি পুত্রকে হারিয়ে ফেলবেন না তো?

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-নয়)


শবরী আর দেবলকে নামিয়ে দিয়ে দাঁড়িরা নৌকা ঘুরিয়ে পুনরায় পূর্বের স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো। শবরী আশ্রমের পথ ধরে হেঁটে এগিয়ে গেলে দেবলও তার পিছু পিছু কিছুটা এগোনোর পর পথ ছেড়ে ডান দিকের অরণ্যে প্রবেশ করলো। আশ্রমের পথ থেকে অন্তত পঞ্চাশ কদম দূরে একটা বড় চন্দন বৃক্ষের আড়ালে লতা-গুল্মের ঘন ঝোপঝাড়ের ভেতর ছায়াচ্ছন্ন এমন এক জায়গায় লুকিয়ে বসলো যাতে আশ্রমের পথে প্রবেশ করা মাত্র সে মহর্ষি বিভাণ্ডককে দেখতে পেলেও তিনি যেন কোনোভাবেই তাকে দেখতে না পান। ভাল মতো দৃষ্টি রাখার জন্য মুখের সামনের লতা-গুল্মের পুরু দেয়াল টেনে ছিঁড়ে সামান্য ফাঁকা করলো সে। তারপর মৃদু শব্দে কয়েকবার কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে গুপ্তচর

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-আট)


নৌকা এখন গঙ্গা আর কৌশিকী নদীর মোহনায়; উত্তরদিক থেকে কৌশিকী এসে মিশেছে গঙ্গায়, আর গঙ্গা এখান থেকে এঁকে-বেঁকে পূর্বদিকের ভাটির রাজ্য বঙ্গের মধ্য দিয়ে গিয়ে লীন হয়েছে সমুদ্রে। রঘু নৌকা ঘোরালো কৌশিকীর দিকে। গিরিকা ও তিনকন্যা বাইরে দাঁড়িয়ে নদীর সৌন্ধর্য দেখছে, আর গিরিকা কন্যাদের কৌতুহলী নানান প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। কৌশিকী নদীতে নৌকা প্রবেশ করার পর গিরিকা করজোর কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন। উমা জানতে চাইলো, ‘মাসিমা, এই নদীর নাম কী?’
‘কৌশিকী নদী। এতো শুধু নদী নয় রে, পূণ্যবতী সতী নারী!’
‘কেন?’

নগরনটী (উপন্যাস: পর্ব-সাত)


দেবল নিষাদপুত্র, চম্পানগরী থেকে দুই ক্রোশ পূর্বে গঙ্গাপারের এক নিষাদপল্লীতে তার নিবাস, অন্যদেরও তাই। এখানে আসবার পথে তারা দূর থেকে নিজেদের জন্মন্ দেখে চোখের শান্তি পেলেও ক্ষণকালের জন্য মনোপীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। চাইলেই তারা ইচ্ছে মতো নিজগৃহে যেতে পারে না, অনেক দিন পর পর গৃহে যাবার ছুটি পায়। অনেককাল আগে লোকমুখে গঙ্গায় মৎসের প্রাচুর্যের কথা শুনে বিন্ধ্য-পর্বতের পাদদেশের নিষাদ অধ্যুসিত অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছোট্ট একটি নিষাদ দলের সঙ্গে তার কোনো এক পূর্বপুরুষ ভাগ্যান্বেষণে অঙ্গরাজ্যের গঙ্গাপারে বসতি স্থাপন করেছিল। জন্মগতভাবে নিষাদরা শংকরজন্মা; চতুর্বর্ণের পরের বর্ণ, অর্থাৎ পঞ্চম বর্ণ।

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

মিশু মিলন
মিশু মিলন এর ছবি
Offline
Last seen: 14 ঘন্টা 19 min ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর