নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • দ্বিতীয়নাম
  • নীল কষ্ট
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • অনন্ত দেব দত্ত
  • কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
  • বিডিবি

নতুন যাত্রী

  • মাষ্টার মশাই
  • লিটন
  • অনন্ত দেব দত্ত
  • ইকরামুল হক
  • আবিদা সুলতানা
  • ইবনে মুর্তাজা
  • কুমার শাহিন মন্ডল
  • ঝিলাম নদী
  • কিশোর ফয়সাল
  • উসাইন অং

আপনি এখানে

মিশু মিলন এর ব্লগ

অবতংস


অন্ধকারের বিদায় রাগিণী বাজছে গোলকের মা’র মোরগ আর দুখিরামের মায়ের কণ্ঠে; মোরগের কণ্ঠটা কর্কশ হলেও খুব একটা বিরক্তিকর নয়, মানিয়ে যায় ভোররাতের সাথে; আর দুখিরামের মায়ের কণ্ঠে সুর, সাথে করতালের সঙ্গত। কার্তিক মাসে ল‏ক্ষ্মীপূজা পেরোলেই টহল দিতে আসে দুখিরামের মা; কার্তিক থেকে ফাল্গুন টহলের মরশুম, এ সময় মাসে অন্তত একবার দেখা যায় তাকে। তারপর ফাল্গুনের পর সে-ই যে ডুব দেয়, এরপর আবার উদয় হয় লক্ষ্মীপূজার পরে; এ মরশুমে আজই প্রথম।

কথাঅনৃত


অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল তালুকদারের সময় এখন শুয়ে-বসেই কাটে; বই-খবরের কাগজ পড়ে, টিভি দেখে। স্ত্রী গত হবার পর সারাদিন বলতে গেলে একাই থাকেন বাসায়। দুই ছেলে আর ছোট ছেলের বউ চাকরি করে, তারা সকালে বেরিয়ে যায় আর সন্ধ্যায় কি রাত্রে ঘরে ফেরে। বড় ছেলের বউ বাচ্চাদের নিয়ে সারাদিন স্কুল আর কোচিং সেন্টারে ছুটোছুটি করে।

রোগ


আমাদের পাড়ায় ঢুকে বাঁ দিকের তৃতীয় বাড়িটা অর্থাৎ যে বাড়িটার একটা মোটা সজনেগাছ স্যাঁতা পড়া দেয়ালের ওপর দিয়ে কুয়োর জলে নিজের ছায়া দেখতে থাকা কোনো বেভুলো মানুষের মতো রাস্তার ওপর ঝুঁকে আছে, যে বাড়িটায় বেশ বড় একটা বর্গাকার পুকুর আর পুকুরের পাড়ে একটা পুরনো স্যাঁতা পড়া সমাধিমঠ আছে, ওই বাড়িটাই মিত্তিরবাড়ি। পদবী মিত্র হলেও লোকমুখে তা মিত্তিরবাড়ি নামেই পরিচিত ছিল, আর মিত্তিরবাড়ির মানুষ অমুক মিত্তির-তমুক মিত্তির।

প্রভু


প্রভু যখন বেলা দশটা-এগারোটার দিকে পুবমুখো হয়ে ছাদের তারে ভেজা দীর্ঘ ধুতিগুলো মেলে দিতো, তখন ওর শ্যামবর্ণ কপাল আর মুণ্ডিত মাথার সামনের অংশ চকচক করতো রোদ্দুরে; ক্ষণে ক্ষণে বাতাসে দোদুল্যমান ভেজা ধুতির ছায়া পড়তো মুখে-মাথায়, পুনরায় পড়তো রোদ্দুর। ন্যাড়া মাথায় যেদিন তেল দিতো, সেদিন আরো বেশি চকচক করতো। মাথার তেল চুইয়ে মুখমণ্ডলও তেলতেলে হয়ে থাকতো। কোনো সুগন্ধি তেল নয়, খাঁটি অথবা ভেজাল সরিষার তেল হয়তো মাখতো। অল্প অথবা জোর বাতাসে ওর মুণ্ডিত মাথার পিছনের পাঁচ-ছয় ইঞ্চি মতো লম্বা টিকির চুলগুলো ঘাড়ের কাছে মৃদুমন্দ উড়তো অথবা আছাড়ি-পিছাড়ি করতো। আবার কখনও কখনও গিঁট দিয়ে টিকিটা শাসনেও রাখতো। বিশেষত ও যখন বাই

পাড়ি


আমাগের গিরামের নাম নিশ্চিন্তপুর। কিডা কোন কালে এই নাম রাখছিল, তাই বা কিডা জানে! বাবার কাছে জিজ্ঞেস করছিলাম, বাবা কবার পারে নাই; দাদুও কবার পারে নাই। কেউ-ই জানতো না এই নামকরণের ইতিহাস।
নিশ্চিন্তপুর! আহা, কী প্রশান্তির নাম! নামডা শুনলি-ই কেমন যেন নির্ভার লাগে। ছুঁত লাগা লজ্জাবতী লতার মতো চক্ষু মুদে আসে। শীতের রোদ পোয়ানো বিলাইয়ের মতো শরীলে ঝিম ধরে। কিন্তু আমি জন্মে ইস্তক এই গিরামের মানুষরে কোনোদিন নিশ্চিন্তে থাকতি দ্যাকলাম না! নদী পারের গিরাম, বারো মাস চোর-ডাহাতির মচ্ছব লাগেই থাকতো! নৌকা নিয়ে আসতো তারা। আজ এ বাড়ি চোরে সিঁদ কাটতো তো, কাল ও বাড়ি ডাহাত পড়তো। মানষির খাটে খাওয়া শরীল, অথচ রাত্তিরি এট্টু নিশ্চিন্তে ঘুমাবি তার জো নাই। রাত-দুপুরে গিরামে হইহই পড়ে যাতো। মশাল, লাঠি-সরকি নিয়ে বিটা মানষির দৌড়ঝাঁপ শুরু হতো। ছোটরা ভয়ে মা-খুড়ি, জেঠি-পিসিগের গলা জড়ায়ে ধরে বান্দরের বাচ্চার মতোন ঘাপটি মারে থাকতো; এ এক নিত্যিদিনের ব্যাপার ছিল!

কথাশ্রমিক


‘শুভসন্ধ্যা, আমি দীপ বলছি, স্যার বলুন, কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?’
‘হ্যালো...... হ্যালো......’
‘হ্যাঁ স্যার বলুন, আমি শুনতে পাচ্ছি। কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?’
‘ঐ তোগো কী বালের নেটওয়ার্ক রে, কতা কাইট্টা কাইট্টা আহে?’
‘আপনার অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত স্যার। বলুন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’
‘তোরা কী বালের ইন্টারনেট ছাড়ছোস রে? লাইন আহে তো আহে না।’
‘আপনার অসুবিধার জন্য আমরা সত্যিই আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে স্যার, আমাদের নেটওয়ার্ক ডেভলপমেন্টের কাজ চলছে, খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

আবহমান


আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়মিত এই রাস্তায় যাতায়াত করি পায়ে হেঁটে, রিক্সায় কিংবা গাড়িতে; তাদের কাছে এই তিন রাস্তার মোড়টি বিস্ময়ের, বিরক্তির, স্মৃতিকাতরতার, আবার শঙ্কারও। এই তিন রাস্তার মোড়টি বহুবার তার রূপ বদল করেছে, মানে তার রূপ বদল করা হয়েছে। আর আমরা সাধারণ নারী, পুরুষ, বৃহন্নলা, রূপান্তকামী; অর্থাৎ অফিসের বড় কর্তা, কেরানি, পিওন, অধ্যাপক, ছাত্র, বেকার, ভবঘুরে, ভ্রাম্যমান কামশিল্পী, ডাক্তার, মুচি, ঠেলাওয়ালা, বাদামওয়ালা, বড় ব্যবসায়ী; মানে সমাজের তাবৎ শ্রেণির মানুষ যারা প্রতিদিন এই রাস্তায় চলাফেরা করি, তারা এই মোড়টির রূপ বদল দেখি আর নিজেদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা করি, কেউ কেউ মুখ বুজে থেকে কেব

নটোবরের সাড়ে তিন পাখি ফসলি জমি এবং ইলিশের ঘোর


মাথা ছাড়িয়ে যাওয়া পাটক্ষেতে খিঁচি পাট কেটে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে পাটের ফাঁকে ফাঁকে আঁটিগুলো দাঁড় করিয়ে রাখছে নটোবর। তার গামছা বাঁধা মাথার অল্প পাক লাগা চুলের গোড়া চুইয়ে ঘাড় আর গলা বেয়ে ঘাম নেমে যাচ্ছে শরীরের নিচের দিকে। কিছু ঘাম শুষে নিয়েছে জামা, কিন্তু কতো আর তৃষ্ণা মিটাবে সুতির পুরনো পাতলা জামা! ভিজে চপচপ করছে জামাটা, অবশিষ্ট নিন্মগামী ঘাম গড়িয়ে থামছে কোমরের লুঙ্গির বাঁধে; হাঁটুর উপরে কাঁছা মারা লুঙ্গি।

বোর্ডিং কার্ড

মিশু মিলন
মিশু মিলন এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 6 min ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর