নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 0 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

অনন্য আজাদ এর ব্লগ

সত্য প্রকাশ করলে নাস্তিক, রম্যরচনা করলে আস্তিক


ভারতে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর আক্রমণ করে তখন সবাই বলে হিন্দু মৌলবাদীরা মানুষ মারছে। হিন্দুদের সব দোষ।

বার্মাতে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর আক্রমণ করে তখন সবাই করে বৌদ্ধ মৌলবাদীরা মানুষ মারছে। বৌদ্ধদের সব দোষ।

ইজরাইল যখন ফিলিস্তিনীদের উপর আক্রমণ করে তখন সবাই বলে ইহুদি মৌলবাদীরা মারছে। ইহুদি আজীবনই খারাপ, সব চক্রান্ত ইহুদিদের।

কিন্তু

মুসলমান হয়ে কি মুসলমান হত্যা করা বৈধ?


পৃথিবীর সবচেয়ে হিপোক্রেট জাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বাঙালি মুসলিম অন্যতম। ফিলিস্তিনিদের কষ্টে এরা ব্যথিত হয়, চোখের পানি ফেলতে ফেলতে সমুদ্রে ঝড় তোলে। কিন্তু নিজ দেশে সংঘটিত মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায় না। সিরিয়া আক্রমণে তারা উন্মাদ হয়ে উঠে কিন্তু বাঙলাদেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হলেও খুব সাধারণ বোধ করে। ইসরায়েলকে ধ্বংস করার স্বপ্নে একেকজন জীবন দিতে প্রস্তুত অথচ বাঙলাদেশকে রক্ষা করার জন্য তাদের ভূমিকা নেই।

বাঙলার বাবা মায়েরা


আমরা যে সমাজে বেড়ে উঠেছি ওখানে বাবা'দের খুব কঠোর এবং মা'য়েদের খুব নরম হতে দেখেছি। সন্তানের অজস্র ভুল-অপরাধ মা'য়েরা সহ্য করে নেয় কিন্তু বাবা'রা লৌহমানব। তাদের মন সহজে গলে না।এই ভূখণ্ডে মা'য়েদের জন্ম হয়েছিল কষ্ট সহ্য করার জন্যে; অশ্রু বিসর্জনের জন্যে; অস্থিরতার জন্যে; রান্নাঘরের জন্যে।

স্মৃতিচারণ হুমায়ুন আজাদ


সবার মত আমারও বাবা ছিল। আমিও সবার মত বাবা’র সাথে ঘুরে বেড়াতাম। পরীক্ষা শেষে আমরা বাসায় একসাথে ক্রিকেট খেলতাম। বাবা’কে আমি আব্বু বলে ডাকতাম আর আব্বু আমাকে অনন বলে ডাকতো। বাবা অনেক রাগী ছিল। বাবা’কে অনেক ভয় পেতাম। বাবা’কে তুমি সম্বোধন করতাম আর বাবা আমাকে তুই করে ডাকতো। বাসায় বাবার বৈশিষ্ট্য ছিল, পেছন থেকে হঠাৎ করে কাঁধে জোরে চর মেরে জানান দেওয়া যে বাবা এসেছে। বাবা অনেক আদর করত। বাবা অনেক শক্ত মানুষ ছিল। যত কিছুই হয়ে যাক না কেনো বাবা কোন ভাবেই ভেঙে পড়ত না। বাবা অনেক শাসন করত। বাবা শাসন করত বলেই বার্ষিক পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট করে চমক দেখাতাম। বাবা অনেক রসিক ছিল। বাবা বলত, মাস্টারকে কী ঘুষ দিয়েছি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে চুপ থাকেন


কিছুদিন আগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তচিন্তা কী তা নিয়ে বিজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। প্রায় ৪ দশক ধরে রাজনীতি করেও যিনি গণতন্ত্র কী সেটাই জানতে পারেন নি; বুঝতে পারেন নি, শিখতে পারেন নি- তিনি কোন মুখে মুক্তচিন্তার সংজ্ঞা দেবার দুঃসাহস পান বোঝা বড্ড মুশকিল।

যদিও বাঙলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ যে বিষয়ে অনভিজ্ঞ সে বিষয়ে বিশাল বড় লেকচার দিয়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাজনীতি যারা করেন, তারা নিজেদের বিশ্বের উচ্চমার্গীয় চিন্তাশীল জ্ঞানীগুণী বোধ করে থাকেন। তাদের বাপের নাম জিজ্ঞেস করা হলে মায়ের নাম বলতে থাকেন। মায়ের নাম জিজ্ঞেস করা হলে যুদ্ধের কথা বলতে থাকেন।

ধর্ষকেরা বয়স দেখে না, শরীর খুঁজে


একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম আমার মায়ের ছবি দেখে- আমার মা'কে ব্রা পরিধান করা অবস্থায় দেখার ইচ্ছেপোষণ করেন। একবার নয়, একাধিক পোস্টে তিনি আমার মা'কে ব্রা'তে দেখার ইচ্ছেপোষণ করেন। আমার মা ৬৯ বছর বয়সী বয়স্ক একজন মানুষ।

শুধু আমার মা নয়; পৃথিবীর সকল নারীই ব্রা পরেন; পৃথিবীর সকল মা'ই ব্রা পরেন। কোন নারীকে ব্রা'তে দেখার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। যিনি ইচ্ছেপোষণ করেছেন; তার মাও ব্রা পরেন। তার বোনও ব্রা পরেন। তার স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাও ব্রা পরেন। যৌন বিকারগ্রস্থ, অসুস্থ চিন্তাধারার মানুষেরা শাড়ির ফাঁকফোকর খুঁজে, ব্লাউজের গলা খুঁজে, ব্রায়ের ফিতা খুঁজে, জিন্সে যৌনাঙ্গের গন্ধ পায়।

মানুষ হত্যা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ধর্মীয় মৌলবাদীগোষ্ঠী


কয়েক মাস আগে ভারতে এক মুসলমান পরিবারকে গরুর মাংস কেনার অপরাধে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা গেছে, সেই পরিবারটি গরুর মাংস কিনে নি। অপপ্রচার চালিয়ে উন্মাদনায় হত্যা করা হয়েছে। ঠিক সেইভাবে বাঙলাদেশেও অপপ্রচার চালিয়ে দশকের পর দশক হিন্দু পরিবারদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা, জমিদখল, দেশত্যাগে বাধ্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধর্মের আগুনে জালিয়ে মারে নিরাপরাদ মানুষদের।

হিজাব কিংবা বোরকা; ধর্ষণ থেকে নারীদের রেহাই নেই


হিজাব পরুক আর বোরকা; নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই যেখানে নারীরা নিরাপদ নয়, সেখানে পথেপ্রান্তে অনিরাপদবোধ করা অস্বাভাবিক নয়। ধর্ষক পোশাক দেখে ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় না। ধর্ষণে সমাজ ধর্ষিতার শালীনতার সংজ্ঞা খোঁজে অথচ ধর্ষকের অশালীনতা চোখে পড়ে না। সমাজের বড় একটি অংশ মূলত ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রকাশ্যে বললে যতসব সমস্যা তাই ইনিয়ে বিনিয়ে পরোক্ষভাবে ধর্ষকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।

ধর্মগ্রন্থ কি চটি বই সমর্থন করে!


আজ পর্যন্ত কেনো মোল্লারা কোন চটি বই নিষিদ্ধ করার জন্য আন্দোলন করেন নি? কারণ যে বই পড়লে শিশ্ন খাঁড়া হয়ে যায় তা শরীরসম্মত; যে বই পড়লে উজবুক মোল্লাদের শিশ্ন ভোতা হয়ে যায় তা দণ্ডনীয়।

গ্রন্থ নিষিদ্ধ কোন সমাধান নয়। মানুষ নিষিদ্ধ করাও কোন সমাধান নয়। যে গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়, সে গ্রন্থ শক্তিশালী। একটি গ্রন্থ কতটা শক্তিশালী হলে ধর্মান্ধরা মানুষ হত্যার চিন্তা করতে পারে! মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সকলের শ্রদ্ধা করতে হবে। যে গ্রন্থ পড়ে তৃপ্তি পাওয়া যায় না, সে গ্রন্থ না পড়লেই হয়। ছোট্ট সমাধান থাকতে কঠিনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দুর্বলেরা গ্রন্থ নিষিদ্ধের দাবি জানায়।

এই সমাজে নারীদের জীবনচক্র


নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নাম্বারে পাশ করতে হবে অন্যথায় বর্জন। ছোট্টকাল থেকেই একটি নারীকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হতে হবে নয়তো বর্জন। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে মেধা তালিকায় থাকতে হবে। পরিবারের সব মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে হবে। নিজের আনন্দ ত্যাগ করতে হবে। সবার খুশির জন্য নিজের সুখ বিলীন করে দিতে হবে। প্রেমিকা হতে হলে সুন্দরী হতে হবে। পোশাকে সচেতন হতে হবে। পোশাক পরিধানেও সচেতন হতে হবে। প্রেমিকের নষ্ট হৃদয় আনন্দের বন্যা ভাসায় দিতে হবে। তথাকথিত প্রেমিকের রক্ষিতা হয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাকে বারেবারে প্রমাণ দিতে হবে অন্য সব মেয়ে থেকেই তিনিই উৎকৃষ্ট।

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

অনন্য আজাদ
অনন্য আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 4, 2015 - 10:56অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর