নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

মহামান্য গুরুভাই এর ব্লগ

ইনসমনিয়া!


আবার যদি আমার একদুপুর নিবিড় ঘুমের ভেতর
ভেজা বাতাস পাখির সুর-ঘ্রাণেঘ্রাণে-সন্ধ্যা নামে,
ডায়ালে ডায়ালে তোমার খেয়ালের প্রতিধ্বনি
যদি প্রতিবার-ই স্মার্টফোনের দেয়ালে এসে থামে!
আমার সাড়া না পেয়ে সাবেক সেই দস্যিজিদের
প্রেরণাতে আজো কি কাঁচের চুড়ি ভেঙ্গে নিজের,
নিজের হাতে-ই রক্তস্নাতে তোমাকে তুমি ক্ষত করে-
স্বেচ্ছা ব্যাথার অভিযোগে হাঁট বসাবে ক্ষত ঘিরে?

কিংবা যদি মধ্যরাতে আচমকা এক দুঃস্বপ্নে ভয়ার্থ
তুমি ডায়ালপ্যাডে ভরসা খোঁজে দিশেহারা-
ইরেজী হরফে সংরক্ষরিত তালিকা ঘেঁটে!
আর ধর আমি আমি বরাবরর-ই তোমায় ভুলে,
তোমায় ফেলে সাময়িক ডোব দিয়েছি ঘুমের কোলে!
তখন তুমি অস্থিরতায় ঘেমে ঘেমে আমায় ভেবে,

মৃত্যুশোকের আলিঙ্গন!


হঠাত দেখে রঙের মেলায় আলোর নাচানাচি
আমি অধরা এক আলোর পিছু পিছু ছুটেছি!
ঝড় কে হাতের মুঠোয় পুরতে নিজেই ঝরেছি
ঘূর্ণিপাকে পেটের ক্ষুধায় তুফান গিলেছি,
চৈতালীর ঐ দাবদাহে খরায় পোড়েছি-
আমি কালের খেয়ায় বৈঠা হাতে অনেক লড়েছি
আগুনজলে পা ভেজাতে আগুন মেখেছি
আমি সাপের ঠোঁটের স্পর্শ নিতে গরল চুমেছি!
আমি কান্নার সাথে পাঞ্জা জিতে হাসতে শিখেছি,
আমি মৃত্যুশোকের আলিঙ্গনে বাঁচতে শিখেছি।

সোজা পথে হাঁটতে গিয়েও হোঁচট খেয়েছি
আমি দুর্গম ঘাটে হেঁটে হেঁটে দৌড়তে জেনেছি!
আমি গুচ্ছ গুচ্ছ উচ্চতা কে তুচ্ছ ভেবেছি
সূক্ষ্ম সুখকে মুখ্য ভেবে দুঃখ পেয়েছি,
আমি ধুলোয় শুয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছি

প্রথম প্রেমের জলোচ্ছ্বাস!


একটিবার ফেরত চাই আমার প্রথম প্রেমের শিহরন,
আরেকটিবার হোক মৃত স্মৃতিদের নতুন করে জাগরণ।
আমি বড় ক্লান্ত আজ লিখতে লিখতে ভালবাসার বিবরণ!
বহিঃক্ষরণ থেমে গেছে বহুদিন আগে, এখন শুধু অবিরত অন্তঃক্ষরণ!

একটিবার ফিরিয়ে দাও সেই কাঁপা ঠোঁটের প্রথম চুম্বন,
আরো একবার শুরু হোক অজানা আশঙ্কাতে জন্ম নেয়া হৃদস্পন্দন!
আজকাল বড্ড অসহ্য লাগে এই একঘেয়ে অবিরত কম্পন,
অদ্ভুত এক বিষাদ আমার চারপাশে ছড়িয়ে থাকে সর্বক্ষণ!

একটিবার ফিরে পেতে চাই প্রথম দূরত্ব সৃষ্টে বেদনার ক্রন্দন,
আরেকটি বার ফিরে আসুক অভিমানে না খেয়ে থাকার সেই দিনগুলোর অনশন!
এ ও জীবন, বদ্ধ ঘরে বন্দী হয়ে থাকা আমার আহত অলস মন;

সামান্তা!


আজ এই রাত যদি কুয়াশার চাদরে ভোর হয়
চুপিচুপি পা টিপে সূর্যটা যদি পূবে উঁকি দিয়ে রয়
বিনানোটিশে তুমি গোধূলির রঙ চোখে মেখোনা,
যদি সকালের বায়নাতে রাত ঘুম থেকে যায়
যদি দুপুরের ভাত ঘুমে একা ঘুঘু ডেকে যায়
তবে বিষন্ন বিকেলের চিরকুট তুমি লেখোনা!
সামান্তা, অবলোর রোদে চড়ে এসোনা
সামান্ত, প্রতিবন্ধী রজনীকে ভাল বেসোনা।

বাতাসের হাত ধরে নাগরিক জানালায়
যদি বসন্তের চিঠি এসে অভিমানে ফিরে যায়
রাষ্ট্রীয় নিয়মে মিছেমিছি ভুলে পিছু ডেকোনা,
গোলাপের ছাইয়ে শুকনো আবেগ মুছে যেতে চায়
যদি ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে বয়সঃসন্ধি চুরি হয়ে যায়
তবে চোখের কোনে তুমি অশ্রুবিন্দু ধরে রেখোনা।
সামান্তা, অবলোর রোদে চড়ে এসোনা

একাকীত্ব!


একা লাগে বড্ড একা লাগে
জন্মলগ্ন থেকেই আমার একা লাগে,
আমি আমার আমার আমি একা-
সৃষ্টিলগ্ন থেকে আমি আজ অবধি একা।

একাকীত্ব আমার আদিম সহচর
প্রাচীন সূর্যের বর্তমান তির্যক স্বর-
তীব্র দৃঢ় একা আমি আমার অবয়ব,
নিঃসঙ্গতা আমার আত্মকলরব।

সর্বভূতে একা একা আমার বিচরণ
লৌকিক একক আমার বিরহদহন-
বিধির বিধানের মত অবিনশ্বর,
একা আমি যেমন একা অলৌকিক ঈশ্বর!

মানচিত্রে রাজধানী এক; একা
বৃত্তকেন্দ্রে বিন্দু স্পষ্ট একক একা
সঙ্গম শেষে প্রলয় ঘটলেও আপন আপন একা,
একক দেহে হৃদপিন্ডে কম্পনগুলো একা।

অর্ধ কিংবা পূর্ণ হোক চাঁদ আকাশে একা
তারা'র গুনতে মিথ্যাকরে দশক-শতক শেখা,
সামরিক ঘুমপ্রহরেও আমার জেগে থাকা-

সব কবিতায় তোমায় ভাবি!


কবি ও কবিতার তরেও যদি থাকতো কাব্যিক কাঠগড়া
তবে কবির অপরাধে কবিতারা-ই তার হাতে পড়াতো হাতকড়া
কবিতাদের সামাজিক আসরে যদি বসতো বিচার-আদালত
জানতে তুমিও তুমি যে আমার গত জনমের গচ্ছিত আমানত।
নগ্ন পায়ে নুপুর-নিক্কনে পাশ কেটে তোমার হেঁটে যাওয়া
আমায় হৃদয়টাকে রুগ্ন করে বইয়ে ছিল ঝড়ো হাওয়া,
বাতাসে আঁচল এলোমেলো চুল অবাধ মিছিলে উড়ে
ফুল কুড়াতে আসতে যখন পাখিজাগা রাত-ভোরে।
তোমার নাকের নোলক আমার জন্ম-মৃত্যু সুখের চাবি
সেই দাবীতেই সবার আগে সব কবিতায় তোমায় ভাবি।

আমি তোমার প্রেমে মাতোয়ারা ছিলাম যেমন আগে
এখনো প্রায় মাঝে মাঝে-ই সেই শিহরণ জাগে,
আনমনা আহ্লাদে কত প্রেম-ইতো মেপে অপাত্রে

জ্ন্ম-মৃত্যু একা!


তোমার বুকে মাথা রেখে ভেবেছিলাম
দিব্যি কেটে যাবে কয়েক জনম প্রেম-নিদ্রায়,
কে জানতো এক জনমেই শতেক বার মরতে হবে!
কে জানতো দিগন্তের শয্যাপাশে সূর্য ডুবে।

হৃদপিন্ডতো সবার-ই থাকে হৃদয় থাকে কি?
তোমার নগ্ন পাঁজরে শুয়ে স্ব-বোধ ডুবিয়ে দিয়েছিলাম
ঐ ত্রিমাত্রিক প্রস্ফুটিত স্তন-যুগলের সমতলে,
হৃদয় ছিল কিনা খতিয়ে দেখতেই খেয়াল ছিলনা!
কত মৃত্যু পেরিয়ে গেলে মৃত্যু করবে আলিঙ্গন?
কত মৃত্যু বাকী আছে- কত জন্মে এক জনম?

কালো কালিতে কবিতারা শব্দে শব্দে উঠে ভেসে
কেউ কেউ জানেও না কত যে রঙ এর আড়ালে হাসে!
আমি তোমার নেশাতুর চোখে কবিতার রঙ দেখে-
ভুলে বসেছিলাম তুমিও সেই আদিম রহস্যময়ী গোত্রের,

আমি রোদ হতে চাই!


আজকাল বড্ড অসামাজিক হয়ে পড়েছি,
অতটা বেখেয়ালী হয়তো কখনো কোন মানুষের সত্জ্ঞানের লক্ষন হতে পারেনা!
আমি কথা রাখতে পারিনি, আমি নিজের দেয়া কথার মূল্যায়ন রাখতে পারিনি, পারিনি।

এইতো মাসখানেক আগে কেউ একজন খুব করে বলেছিলো কবিতার বই বের করতে স্পন্সর সে নিজেই করবে। তবু এবারের বই বইমেলায় রোদ্দুরের একটা বই দেখতে চায়।
ফোন দেবো ভেবে দেখি বলে আমি কথা দিয়ে এখনো ভেবে দেখাতেই আছি।
তার ফোন এলেও রিসিব করার ইচ্ছেটা পর্যন্ত এখন জাগেনি কোনদিন। জাগাতে পারিনি আমি।

কেউ একজন হঠাত্ ফোন দিয়ে বলল কোন এক গুণী মহিলাকবির সাথে কবিতার বই বের করতে তাকে শুদ্ধ স্পেলিঙ নিরূপণে সাহায্য করতে হবে, কিছু কবিতাও দিতে হবে।

কবি'র গান!


কবিদের ভালবাসার সুনির্দিষ্ট দিন নেই
নতুন বছর নতুন প্রেমে নতুন ভ্যালেন্টাইনস নেই
প্রতিদিন প্রতিবেলা কবি ভালবেসে যায়,
প্রতিমুহূর্ত শেষে কবি প্রনয়ের হাসি হেসে যায়।
না বলা কথা সব অবহেলা অভিযোগ
কবিতায় হিসেবে করে যোগ আর বিয়োগ!
বানানের অভিশাপে কত কবি হয়ে গেছে হাওয়া,
তাই অনুভবে আর আশায় সব কবিদের বেঁচে যাওয়া।

হৃদয়ে রেখে ভালবাসা-আশার নদী
চৈতি রোদে কবি নিজে পোড়ে নিরবধি
তবু যদি কেউ সন্ধ্যার আকাশে প্রদীপ জ্বালায়,
তবু যদি কেউ কবির দরজায় এসে দাঁড়ায়!
ক্ষতি নেই যদি কেউ নাও বা আসে
পাষান কখনো কি সাগরে ভাসে!
বানানের অভিশাপে কত কবি হয়ে গেছে হাওয়া,
তাই অনুভবে আর আশায় সব কবিদের বেঁচে যাওয়া।

দাদুর মুখে শোনা!


একদিন দাদু বলছিলো হেসে
এই ঘুণপোকাদের দেশে
বেড়ে উঠেছি- পাক ধরেছে কেশে।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শেষে
ফিরেছিলাম বিজয়ের বেশে,
যদিও অনেকে ফিরেওনি অবশেষে!

কত অব্যক্ত কথা জমে আছে হৃদয়ে মিশে
বলিনি, জ্বলেছি কেবল জ্বালাময়ী বিষে
আজো দেখে চলেছি নিশ্চুপ বসে।
দিনেদিনে দালালে-চাটুকারে-দাসে
দেশটা ভরে গেলো নিমিষে,
দিনদুপুরে-আঁধারে খেয়ে যায় সব চুষে!

জন্মের পর থেকেই পোড়ছি তুষে তুষে
বেঁচে থাকা যেনো প্রতিবন্ধী হুশে!
হায়েনাদের আস্তানা আজ চারপাশে
এখনো শুকনো রক্তছাপ সবুজ ঘাসে
প্রকাশ্যে জীবন্ত মানুষ পরিণত হয় লাশে,
স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর শেষে-
আজো তরতাজা লাশের গন্ধ উড়ে বাতাসে

পৃষ্ঠাসমূহ

বোর্ডিং কার্ড

মহামান্য গুরুভাই
মহামান্য গুরুভাই এর ছবি
Offline
Last seen: 3 years 1 month ago
Joined: সোমবার, মে 13, 2013 - 2:21অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর